১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:০১ অপরাহ্ন

এটি মুত্তাকীদের জন্য পথ প্রদর্শনকারী। যারা অদৃশ্য বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে, আর আমি আদেরকে যে সম্পদ বা উপজীবিকা দান করেছি তা থেকে কল্যাণের পথে ব্যয় করে। যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের ওপর, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাস করে। তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত। আর তারাই যথার্থ সফলকাম। (সূরা বাকারা ঃ আয়াত ২-৪)
মহান আল­াহ তা’আলা বলেন- যারা আন্তরিকভাবে অঙ্গীকার করে যে, মহান আল­াহ আমাদের রব এবং তারা এ কথার উপর অবিচল থাকে,  তাদের কাছে ফেরেশতা নাযিল হয়ে বলতে থাকে ভয় করো না । দুশ্চিন্তা করো না । আর সেই বেহেশ্তের সু-খবর গ্রহণ কর, যা ওয়াদা তোমাদের কাছে করা হয়েছে। আমরা এই দুনিয়ার জীবনেও তোমাদের বন্ধু এবং পরকালেও। সেখানে (বেহেশ্তে) তোমাদের মন যা আশা-আকাঙ্খা করবে এবং যা কিছু চাইবে তা সবই পাবে। এসব সেই মহান আল­াহর তরফ হতে মেহমানদারী হিসেবে পাবে যিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সূরা ঃ হা-মীম সাজদাহ ঃ আয়াত ঃ ৩০-৩২)
মহান আল­াহ তা’আলা আরো বলেন- যারা বলে মহান আল­াহ আমাদের রব এবং তারা এ কথার উপর অবিচল থাকে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুশ্চিন্তাও করবে না। তারাই ইহকালে যে কাজ করেছিল তার পরিণামে পরকালে বেহেশ্তবাসী হয়ে চিরকাল সেখানে থাকবে। (সুরা ঃ আহ্কাফ ঃ আয়াত ঃ ১৩-১৪

১. হযরত ইব্নে উমার রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসুলুল­াহ সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়া সাল­াম বলেন, পাঁচটি বস্তুর ওপর ইসলামের ভিত্তি স্থাপিত। ১। এ কথায় সাক্ষ্য দেয়া যে, মহান আল­াহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মুহা¤মদ সাল­াল­াহু আলাইহি ওয়া সাল­াম তাঁর বান্দা ও রাসূল, ২। নামায কায়েম করা, ৩। যাকাত আদায় করা, ৪। বাইতুল­াহ হজ্জ করা, ৫। রমযানের রোযা রাখা। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
২. হযরত সুফিয়ান ইবনে আবদুল­াহ রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি বললাম ঃ ইয়া রাসুলুল­াহ! আপনি আমাকে ইসলামের ব্যাপারে এমন কথা বলে দিন, যেন আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে আর সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে না হয়। তিনি বললেন, বল! আমি মহান আল­াহর প্রতি ঈমান এনেছি। তারপর এর উপর অবিচল থাক। (মুসলিম শরীফ)

 

আল্লাহর প্রতি ঈমান সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

হে রসূল (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম!) আপনি বলুন, আল্ল­াহ একক। আল্ল­াহ অমুখাপেক্ষী, (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন), তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং কারো থেকে জন্মগ্রহণও করেননি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। (সূরা ইখলাস ঃ আয়াত ১-৪)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা বলেন-  হে মুহাম্মদ (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম!) আপনি বলে দিন- হে আমার মহান আল্ল­াহর বান্দারা!  যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছো তোমরা মহান আল্ল­াহ তা’আলার রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই মহান আল্ল­াহ তা’আলা সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও করুণাময়।” (সূরা ঃ যুমার ঃ আয়াত ঃ ৫৩)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- “আর আমি অকৃতজ্ঞ লোকদেরই শাস্তি দিয়ে থাকি।” (সূরা ঃ  সাবা ঃ আয়াত ঃ ১৭)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- “আমরা ওহী লাভ করেছি যে, যে ব্যক্তি মিথ্যা আরোপ করে এবং সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তার জন্য আছে শাস্তি।” (সূরা ঃ তোহা ঃ আয়াত ঃ ৪৮)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আবার বলেন- “আর আমার রহমত সকল বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে।” (সূরা ঃ আরাফ ঃ আয়াত ঃ ১৫৬)

১. হযরত উবাদা ইবন সামিত রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্ল­াহ (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম) ইরশাদ করেছেন, যে লোক সাক্ষ্য দেবে যে মহান আল্ল­াহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই, তিনি এক এবং তার কোন শরীক নেই, আর মুহাম্মদ (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম) তার বান্দা ও রাসূল এবং ঈসা (আ) মহান আল্ল­াহর বান্দা ও রসূল এবং তারই একটি শব্দ যা তিনি মরিয়মের প্রতি প্রদান করেন এবং তারই পক্ষ হতে দেয়া একটি আত্মা । আরো সাক্ষী দেয় যে, বেহেস্ত সত্য এবং দোযখও সত্য। তাহলে মহান আল্ল­াহ তা’আলা তাকে বেহেস্তে প্রবেশ করাবেন, সে যে কোন আমল করুক না কেন? (বোখারী ও মুসলিম শরীফ) মুসলিম শরীফের অপর এক রেওয়াতে আছে, যে ব্যক্তি সাক্ষী দেবে যে, মহান আল্ল­াহ তা’আলা ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই এবং মহানবী (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম) মহান আল্ল­াহর রসূল মহান আল্লহ তার জন্য দোযখ হারাম করে দিবেন।
২. হযরত জাবির রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা জনৈক বেদুঈন রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম- এর কাছে এসে বলল, ইয়া রসুলুল্লাহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম! ‘মুজিবাতান’ অর্থাৎ বেহেস্ত ও দোযখ ওয়াজিবকারী বিষয় দু’টি কি কি? তিনি বললেন, যে লোক মহান আল্ল­াহ তা’আলার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক না করে মারা যায়, সে বেহেশতে যাবে, আর যে লোক তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করে মারা যায় যে দোযখে যাবে। (মুসলিম শরীফ)
৩. হররত উমর ইবনে খাত্তাব রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি একদিন রসুলুল্ল­াহ (সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম)-এর কাছে কিছু সংখ্যক বন্দী উপস্থিত করা হলো। তাদের মধ্যে জনৈক বন্দীনি অস্থির হয়ে দৌড়াচ্ছিল। আর বন্দীদের মধ্যে কোন একটি শিশু পেলেই সে তাকে কোলে নিয়ে পেটের সাথে মিশিয়ে দুধ পান করাচ্ছিল। এ অবস্থা দেখে রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম বললেন, তোমরা কি মনে করো এ মেয়ে লোকটি তার সন্তানকে আগুনে ফেলতে পারে? আমরা বললাম, মহান আল্ল­াহ তা’আলার কসম কখনো নয়, তিনি বললেন, এ মেয়ে লোকটি তার সন্তানের প্রতি যেরূপ সদয়, মহান আল্ল­াহ তা’আলা তার বন্ধুদের প্রতি এর চাইতেও অনেক বেশি সদয় ও অনুগ্রহশীল। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
৪. হযরত মু’আয ইব্নে জাবাল রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমি রাসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পিছনে একটি গাধার উপর বসা ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, হে মু’আয! তুমি কি জানো বান্দার উপর মহান আল্ল­াহ তা’আলার হক কি এবং মহান আল্ল­াহ তা’আলার উপর বান্দার হক কি? আমি বললাম, মহান আল্লাহ তা’আলা ও তার রসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর মহান আল্ল­াহ তা’আলার হক হলো, বান্দারা মহান আল্ল­াহ তা’আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কোন কিছুকেই শরীক করবে না। আর মহান আল্ল­াহ তা’আলার উপর বান্দার হক হলো, যে লোক “তার সঙ্গে কোন কিছুকে শরীক করবে না। তিনি তাকে কোন শাস্তি দেবেন না” আমি বললাম, ইয়া রসুলুল্লহ আমি কি মানুষকে এ সু-সংবাদ দেবো না? তিনি বললেন, তুমি তাদের এ সুসংবাদ দিয়ো না, তাহলে তারা এর উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)

তাওহীদ বা মহান আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

রসুল তোমাদেরকে যা কিছু দেয় তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যা থেকে সে তোমাদেরকে বিরত থাকতে বলে তা থেকে বিরত থাক। (সূরা ঃ হাশর ঃ আয়াত ঃ ৭)
তিনি নিজের থেকে কিছু বলেন না। ইহা তো প্রত্যাদেশ যা তাঁর প্রতি নাযিল করা হয়। (সুরা ঃ নাজম ঃ আয়াত ঃ ৩-৪)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- হে নবী! আপনি বলে দিন, তোমরা যদি সত্যিই মহান আল্ল­াহ তা’আলার প্রতি ভালবাসা পোষণ কর, তবে আমাকে অনুসরণ কর তাহলে তিনি (মহান আল্ল­াহ তা’আলা) তোমাদেরকে ভাববাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দিবেন। (সূরা ঃ আল ইমরান ঃ আয়াতঃ ৩১)
মহান আল্লহ তা’আলা আরো বলেন- অর্থাৎ অবশ্যই তোমাদের জন্য রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম জীবনে এক উত্তম আদর্শ রয়েছে।  (সুরা ঃ আহযাব ঃ আয়াত ঃ ২১)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- অর্থাৎ তোমার প্রতিপালকের শপথ। এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের পারস্পরিক মতভেদের বিষয় ও এ ব্যাপারে তোমাকে বিচারক হিসেবে মেনে না নেবে। তারপর তুমি যে ফায়সালা দিবে সে সম্পর্কে তারা নিজেদের মনে কোন দ্বিধাবোধ করবে না এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে না নেয়া। (সূরা ঃ নিসা ঃ আয়াত ঃ ৬৫)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে যদি কোন ব্যাপারে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয় তবে তাকে মহান আল্ল­াহ তা’আলা ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা সত্যিই মহান আল্ল­াহ ও পরকালের প্রতি ঈমানদার হয়ে থাক। (সূরা ঃ নিসা ঃ আয়াত ঃ ৫৯)
মহান আল্ল­াহ তা’আলা আরো বলেন- অর্থাৎ যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করে সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ তা’আলার আনুগত্য করল। (সূরা ঃ নিসা ঃ আয়াত ঃ ৮০)

১. হযরত আবূ হুরায়রা রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- নবী করীম সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম বলেছেন, আমি যে সব বিষয় আলোচনা না করে তোমাদের জন্য ছেড়ে দিয়েছি। সে সব ব্যাপারে আমাকে তোমরা প্রশ্ন করো না। তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাদের অত্যধিক প্রশ্ন ও নবীদের ব্যাপারে মতভেদের কারণে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। কাজেই আমি যখন কোন কিছু নিষেধ করি তখন তোমরা সেটা থেকে বিরত থাক। আর আমি যখন তোমাদেরকে কোন কিছুর হুকুম করি, তখন সেটা যথাসাধ্য কর। (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
২. হযরত আবূ নাজীহ ইরবাদ ইব্নে মারিয়া রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম জ্বালাময়ী ভাষায় আমাদের উপদেশ দিলেন। এতে আমাদের সকলের মন গলে গেল এবং চোখ দিয়ে পানি ঝরতে লাগল। আমরা বললাম, ইয়া রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম। এটা তো বিদায়ী উপদেশের মত। কাজেই আমাদের আরও উপদেশ দিন, তিনি রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম বললেন, আমি মহান আল্ল­াহকে ভয় করার জন্য তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি আর তোমাদের উপর হাবশী গোলামকে শাসনকর্তা নিযুক্ত করে দিলেও তার কথা শুনবে ও তার আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি। আর তোমাদের কেউ জীবিত থাকলে সে বহু মতভেদ দেখতে পাবে। তখন আমার সুন্নত এবং হেদায়ত প্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নত অনুসরণ করা হবে তোমাদের অপরিহার্য কর্তব্য। এ সুন্নতকে খুব মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাক এবং সমস্ত বিদ’আত থেকে বিরত থাক। কেননা প্রত্যেকটি বিদ’আতই প্রথভ্রষ্ট। (আবু দাউদ ও তিরমীযী)
৩. হযরত আবূ হোরায়রা রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম বলেছেন, আমার সকল উম্মত জান্নাতে যাবে। তবে যারা অস্বীকার করবে তারা যাবে না। জিজ্ঞেস  করা হলো ইয়া রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম এরা কারা অস্বীকার করে? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে বেহেশতে প্রবেশ করল, আর যে ব্যক্তি আমার বিরোধিতা করল সে অস্বীকার করল। (বোখারী শরীফ)
হযরত আবু মুসলিম অথবা আবু আয়াস সালামা ইবনে আমর ইবনে আকওয়া রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-একদল লোক রসুলুল্ল­াহ সাল্লল্ল­াহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম এর কাছে বাম হাতে খেতে লাগল। তিনি বললেন, ডান হাতে খাও। সে বলল, আমি পারি না। তিনি বললেন, “তুমি যেন না পার।” অহংকারই তাকে এ হুকুম পালনে বাধা দিয়েছিন। তারপর সে তার হাত মুখের কাছে উঠাতে পারল না।

রিসালাত সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

মহান আল্ল­াহ তা’আলা বলেন- “নিশ্চয়ই আপনি (মুহাম্মদ সঃ) সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।” (সূরা ঃ নুন ঃ আয়াত ঃ ৪)
“তাদের বৈশিষ্ট্য হল, তারা রাগকে দমন করে থাকে এবং লোকজনের প্রতি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করে থাকে।” (সূরাঃ আলে ইমরান ঃ আয়াত ঃ ১৩৪)

১. হযরত আনাস রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্ল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম বলেছেন, মানব জাতির মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী । (বোখারী ও মুসলিম শরীফ)
২. হযরত আবূ সাঈদ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল­াহু আনহু হতে বর্ণিত,। তাঁরা দু’জনে এ ব্যাপারে রসুলুল্ল­াহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম-এর পক্ষে সাক্ষ্য দেন যে, তিনি বলেছিলেন, যে ব্যক্তি বলে- লা ইলাহা ইল্ল­াল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার- মহান আল্ল­াহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং মহান আল্ল­াহ তার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রভু, তার ও তার কথাগুলোকে সত্যতার স্বীকৃতি দেন। তখন মহান আল্লাহ্ বলেন- আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই এবং আমিই সর্বশ্রেষ্ঠ। আর যখন সে বলেঃ লা ইলাহা ইল্ল­াল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু- মহান আল্ল­াহ ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি এক- তাঁর কোন শরীক নেই। এসময় মহান আল্লাহ বলেন, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আমি একক, আমার কোন শরীক নেই। আবার যখন সে বলে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লা­াহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু”- মহান আল্ল­াহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা তাঁরই জন্য। মহান আল্ল­াহ বলেন, আমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। প্রশংসা সমস্ত আমারই জন্য এবং রাজত্ব আমারই। আর যখন সে বলে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা­াহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্ল­া বিল্ল­াহ’- মহান আল্ল­াহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং মহান আল্ল­াহর পক্ষ থেকে সাহায্য ছাড়া গোনাহ থেকে দূরে থাকা ও আনুগত্যের শক্তি লাভ করা সম্ভব নয়। মহান আল্ল­াহ বলেন- আমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই এবং গোনাহ থেকে দূরে থাকা ও আনুগত্যের শক্তি লাভ করা আমার পক্ষ থেকে ছাড়া সম্ভব নয়। আর তিনি বললেন যে ব্যক্তি নিজের রোগের মধ্যে এ কথাগুলো বলে তারপর মারা যায়, আগুন তাকে খাবে না।  (তিরমিযী শরীফ)।

 

মুহাম্মদ (সঃ) সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

“ হক কথার পর আর সবই ভ্রান্তি।” (সূরা ঃ ইউনুস ঃ আয়াত ঃ ২২)
“আমি এ কিতাবে কোন কিছু বাদ দেইনি।” (সূরা ঃ আনআম ঃ আয়াত ঃ ৮)
“যদি তোমরা  কোন  ব্যাপারে পরস্পর মতবিরোধি হও তবে সে ব্যাপারটি মহান আল্ল­াহ তা’আলা ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।” (সূরা ঃ নিসা ঃ আয়াত ঃ ৫৯)
‘আর আমার এই রাস্তা সরল ও মজবুত, কাজেই তোমরা এই রাস্তায়ই চল, এ রাস্তা ব্যতীত অন্য সব রাস্তায় চলো না, তা তোমাদেরকে তার রাস্তা হতে সরিয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেবে।’ (সূরা ঃ আনআম ঃ আয়াত ঃ ১৫৩)
“তুমি বলে দাও তোমরা যদি মহান আল্ল­াহ তা’আলাকে ভালবাস তবে আমার অনুসরণ কর।” (সূরা ঃ আল ইমরান ঃ আয়াত ঃ ৩১)
১. হযরত জাবির রাদিয়াল্ল­াহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-রসুলুল্ল­াহ সল্ল­াল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম যখন বক্তৃতা দিতেন তখন তার চোখ দু’টি লাল হয়ে যেত। তার আওয়াজ বড় হয়ে যেত এবং তার রাগ বৃদ্ধি পেত যেন তিনি কোন সেনাবাহিনীকে সতর্ক করছেন। তিনি বলতেন, মহান আল্ল­াহ তা’আলা তোমাদের সকাল-সন্ধ্যায় ভাল রাখুন। তিনি আরও বলতেন আমাকে কিয়ামতসহ এভাবে পাঠানো হয়েছে। এ কথা বলে তিনি তার মধ্যমা ও তর্জনি অঙ্গুলি মিশাতেন, তিনি আরও বলতেন, সবচেয়ে ভাল কথা হচ্ছে, মহান আল্ল­াহ তা’আলার কিতাব, আর সবচেয়ে ভাল আদর্শ হচ্ছে রসুলুল্ল­াহ সল্ল­াল্লহু আলাইহি ওয়া সাল্ল­াম-এর আদর্শ। আর দ্বীনের ব্যাপারে নতুন বিষয়গুলো অর্থাৎ নতুন বিষয় সৃষ্টি করা সবচেয়ে খারাপ। আর সব বিদা’আতই ভ্রান্তি। তারপর তিনি বলতেন, আমি প্রত্যেক মু’মিনের জন্য আর নিজের চেয়ে উত্তম। যে লোক কোন সম্পদ রেখে যায় তা তার পরিবার বর্গের জন্য। আর যে লোক কোন ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে যায় তার দায়িত্ব আমারই উপর। (মুসলিম)

নামাযের ফযীলত

নামাযের ফযীলত সম্পর্কে আল্ল­াহ তা’আলা কুরআন মাজীদে বলেন ঃ “নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীলতা ওঅন্যায় কার্য হইতে ফিরাইয়া রাখে” (যারা) ভয় ও নম্রতার সহিত নামায আদায় করে তাহারাই মুক্তি লাভ করিবে।”
আল্ল­াহ তা’আলা অন্য আর এক আয়াতে এরশাদ করেন ঃ
“যাহারা স্বযত্নে নামায আদায় করিবে, তাহারাই বেহেশতে মর্যাদার অধিকারী হইবে।”
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যখন কোন লোক নিয়মিত অযু করতঃ ভয় ও ভক্তির সহিত নামায আদায় করিবে, তাহার জন্য আল্ল­াহ পাক জাহান্নামের আগুন হারাম করিয়া দিবেন এবং রোজ কেয়ামতে ঐ নামাযই তাহাকে জাহান্নাম হইতে মুক্তি দিবে।
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে, হযরত রসুলুল্লহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ পাঁচ ওয়াক্তের নামায উহার মধ্যস্থিত সময়ের গুনাহ্ মিটাইয়া দেয়। (অর্থাৎ এক ওয়াক্ত নামায হইতে অন্য ওয়াক্ত নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে যেই গুনাহ্ করা হয় দ্বিতীয়বার নামায আদায় করিলে উহা মাফ হইয়া যায়) আর জুম্মা’র নামায এক জুমুয়া’ হইতে পরবর্তী জুমুয়া’ পর্যন্ত সময়ের গুনাহ্ মিটাইয়া দেয়। (মুসলিম)
একদা হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) উপস্থিত সাহাবাগণকে উদ্দেশ্য করিয়া ফরমাইলেন ঃ যদি কাহারো বসবাসকৃত গৃহের অতি নিকট দিয়া পানির নহর প্রবাহিত হইতে থাকে এবং সেই লোক উক্ত প্রবাহিত নহরে প্রত্যহ পাঁচ বার গোসল করে, তবে কি তাহার শরীরে ময়লা থাকিতে পারে? তখন সাহাবায়ে কেরামগণ বলিলেন, ইয়া রাসুলুল­াহ! পাঁচ বার গোসল করার পর কি প্রকারে শরীরে ময়লা থাকিতে পারে? অতঃপর হযরত রাসুলুল­াহ (সঃ) ফরমাইলেন ঃ যেইভাবে পাঁচবার গোসলকারী ব্যক্তির শরীরে ময়লা থাকিতে পারে না, তদ্রুপ পাঁচ ওয়াক্ত নামায কায়েমকারীর কোন গুনাহই অবশিষ্ট থাকিতে পারে না। নামায গুনাহকে মিটাইয়া দেয়। (বোখারী ও মুসলিম)
অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত আবু যার (রাঃ) বর্ণনা করেন, একদা হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) শীতের মৌসুমে বাহিরে তাশরীপ নিয়াছিলেন, তখন তিনি বৃক্ষের একটি শাখা ধরিলেন, সঙ্গে সঙ্গে শাখা হইতে সমস্ত পাতা ঝরিয়া পড়িল। তৎসময় রসুলুল্ল­াহ (সঃ) ফরমাইলেন ঃ কোন মুসলমান ব্যক্তি নামায আদায় করিলে তাহার গুনাহ সমূহ এই পাতাগুলি যেইরূপ ঝরিয়া পড়িল সেইরূপ ঝরিয়া যায়। (মেশকাত)

“নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল অসৎকাজ থেকে মানুষকে বারণ করে।” (সূরা ঃ আনকাবুত ঃ আয়াত ঃ ৪৫)
আল্ল­াহ তা’আলা সুরা হুদের ১১৪ তম আয়াতে এরশাদ করেন ঃ
“তোমরা নামায আদায় করিবে দিনের দুই প্রান্তভাগে ও রাত্রির প্রথমাংশে। নিশ্চয়ই সৎকাজ অসৎকাজকে দূর করিয়া দেয়। যাহারা উপদেশ গ্রহণ করিয়া থাকে তাহাদের জন্য ইহা এক উপদেশ।”
কুরআন শরীফের সূরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে আল্ল­াহ তা’আলা বলেন ঃ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্যের জন্য প্রার্থনা কর।”
এই আয়াতের মাধ্যমে বুঝা যাইতেছে যে, যদি কোন মুসলমান ব্যক্তি মূছীবতে পতিত হইয়া ধৈর্য্য ধারণ করতঃ নফল নামায আদায় করিয়া বিপদ মুক্তির জন্য আল্ল­াহর দরবারে প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাহার বিপদ দূর করিয়া দিবেন।
হযরত হুযাইফা (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) যখন কোন কঠিন অবস্থান সম্মুখীন হইতেন, তখন তিনি নামায আদায় করিতেন। তাফসীরে দুর্রে মানসূরে উল্লে­খ আছে, একদা (রসূল কন্যা) হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) এর স্বামী হযরত আব্দুর রহমান (রাঃ) রোগে আক্রান্ত হইয়া এমনি অবস্থায় পৌছিয়াছিলেন যে, সকল মানুষেই তাঁহাকে মৃত্যু বলিয়া ধারণা করিয়াছিলেন। এমনি অবস্থায় রসূল কন্যা হযরত উম্মে কুলসুম (রাঃ) তাঁহার স্বামী হযরত আব্দুর রহমান (রাঃ)-এর বিছানা হইতে উঠিয়া গিয়া নফল নামায আদায় করতঃ আল্ল­াহর দরবারে অনুনয়-বিনয় সহকারে স্বামীর রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করিলেন, এতে মহান আল্ল­াহ তাঁহার স্বামীকে রোগ হইতে আরোগ্য প্রদান করিয়াছিলেন।

বে-নামাযীর শাস্তি

আল্ল­াহ তা’আলা কুরআন মাজীদের সূরা মাউ’ন এ বলেন ঃ
“অতএব আক্ষেপ ঐ নামাযীদের জন্য। যাহারা তাহাদের নামায হইতে উদাসীন থাকে। আর যাহারা লোক দেখানো জন্য করে।”
অর্থাৎ যাহারা আলস্য করিয়া সময়মত নামায আদায় করে না, আর লোক দেখানো নামায পড়ে, যখন মানুষের সঙ্গে থাকে তখন নামায পড়ে এবং যখন একাকী থাকে কিংবা কাজে ব্যস্ত থাকে অখন নামায পড়ে না, সেই সব লোকের জন্য পরকালে দোযখের শাস্তি রহিয়াছে।

‘মাজালিছুল আবরার’ নামক কেতাবে বর্ণিত আছে, হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যেই লোক সময়মত নামায পড়িল না, নামাযের ওয়াক্ত শেহ হইবার পরে নামাযের কাজা পড়িল, সেই লোকও জাহান্নামে আশি (৮০) হুকবা আযাব ভোগ করিবে। ৮০  ৮০ = ২৮,৮০০´বৎসরে এক হুকবা আর ৩৬০ দিনে এক বৎসর (আরবি হিসাবে)। ৩৬০  দিন, অতএব তাহাকে আটাশ হাজার আটশত দিন এক ওয়াক্ত নামায না পড়িবার জন্য দোযখের আগুনে জ্বলিতে হইবে। আর আখেরাতের এক দিন হইবে দুনিয়ার এক সহস্র  বৎসরের  তুল্য।  এই  হিসাবে  এক  ওয়াক্ত   নামায তরককারীকে দুইকোটি অষ্টাশি বৎসর জাহান্নামের আগুনে শাস্তি ভোগ করিতে হইবে।

হাদীস শরীফে বর্ণিনত আছে, হযরত আব্দুল­াহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ জাহান্নামের মধ্যে একটি বড় গর্ত রহিয়াছে, উাহার নাম ‘ওয়াইল’। ইহা এতই কঠোর আযাবের সামগ্রী দ্বার পরিপূর্ণ যে , জাহান্নামের অন্যান্য অধিবাসীগণ প্রত্যহ একশত বার আল্ল­াহর দরবারে দোয়া করিয়া থাকে, যে আল্ল­াহ! আমাকে ‘ওয়াইল’ দোযখ হইতে রক্ষা করিও। এই ওয়াইল দোযখে আখেরাতে বে-নামাযীদের দ্বরা পরিপূর্ণ করা হইব। হে আল্ল­াহ আমাদিগকে উহা হইতে রক্ষা কর। আমিন

আর এক হাদীসে বর্ণিত হইয়াছে, হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যাহারা নামাযে অলসতা করিবে তাহাদিগকে আল­ল্লহ পাক ১৫টি শাস্তি দিবেন। উহার মধ্যে হইতে ৬টি শাস্তি দুনিয়ায় দিবেন, তিনটি শাস্তি মরণকালে দিবেন, তিনটি শাস্তি অন্ধকার কবরে দিবেন এবং কেয়ামতে ৩টি শাস্তি দিবেন।

দুনিয়ার ৬টি শাস্তি   (১) তাহার জীবনের বরকত সমূহ উঠাইয়া নিবেন। (২) আল্লাহ তা’আলা তাহার চেহারা হইতে কে বখতীর নূর বিতাড়িত করিয়া দিবেন। (৩) তাহার ব্রত নেক কার্যাদির পূর্ণ আমল নামায লিখা হইবে না। (৪) তাহার প্রার্থনা আল্ল­াহ তা’আলার দরবারে কবুল হইবে না। (৫) মানুষ ও ফেরেশতাগণ তাহার প্রতি ঘৃণার দৃষ্টি নিক্ষেপ করিবে। (৬) আল্ল­াহ তা’আলার নেয়ামত সমূহ হইতে বঞ্চিত থাকিবে।

মৃত্যু সময়ের ৩টি শাস্তি  (১) মরণকাল ক্ষধার্ত অবস্থায় মরিবে। (২) অত্যাধিক দূর্দশাগ্রস্ত ও লাঞ্ছিত হইয়া মৃত্যু বরণ করিবে এবং (৩) মৃত্যুর সময় তাহার এত অধিক পিপাসা হইবে যে, সমগ্র পৃথিবীর সমুদ্র সমূহের পানি পান করিলেও তাহার পিপাসা লাঘব হইবে না।

কবররের মধ্যের ৩টি শাস্তি   (১) তাহার কবরটি এতই সংকুচিত হইবে যে, উহাতে পাজরের হাড্ডি ভাঙ্গিয়া চুরমার হইয়া যাইবে। (২) মহান আল্ল­াহ তা’আলা তাহাকে শাস্তি দিবার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করিয়া দিবেন, তাহার হাতে অগ্নির মুগুর থাকিবে এবং সে উহা দ্বারা শাস্তি দিতে থাকিবে এবং বলিবে, হে হতভাগা! পৃথিবীতে থাকিয়া কেন নামায সঠিকভাবে আদায় কর নাই । লও, উহার আজাব এখন ভোগ কর, ইহা বলিয়া পিটাইতে থাকিবে, (৩) তাহার কবরের মধ্যে শুজা আকরা নামীয় আগুনের চক্ষু ও লোহার নখ বিশিষ্ট একটি সাপ পাঠানো হইবে। উক্ত সাপটির আঙ্গুলের নখ এক দিবসের রাস্তার দূরত্বের তুল্য দীর্ঘ হইব। সাপটি মুর্দা ব্যক্তিকে বলিবে, তুমি পৃথিবীতে থাকাবস্থায় নামায আদায় কর নাই, সেই জন্য আল্ল­াহ তা’আলা তোমাকে শাস্তি দিবার জন্য আমাকে পাঠাইয়াছেন। ইহা বলিয়া শুজা আকরা স্বীয় লোহার নখের দ্বারা তাহাকে আঘাত করিতে থাকিবে। এই আঘাতের কারণে বে-নামাযী লোকটি সত্তর গজ মাটির গভীরে চলিয়া যাইবে। তখন শুজা আকরা তাহাকে ধরিয়া টানিয়া বাহির করতঃ পুনঃ আঘাত করিতে থাকিবে এবং টানিয়া বাহির করিয়া পুনঃ পুনঃ আঘাত করিতে থাকিবে। এই প্রকারে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত তাহাকে শাস্তি দিতে থাকিবে।

কেয়ামতের ৩টি শাস্তি  , (১) আল্ল­াহ তা’আলা তাহার প্রতি গজবের সহিত দৃষ্টিপাত করিবেন, ইহাতে তাহার শরীরের সমস্ত মাংস ঝরিয়া যাইবে। অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে যে, একজন ফেরেশতা তাহার পদদ্বয় উর্দ্ধমুখী করিয়া এবং মস্তক নিম্নমুখী করতঃ হাশর ময়দানে নিয়া হাজির করিবে। (২) আল্ল­াহ তা’আলা তাহার হিসাব অতি কড়াকড়িভাবে লইবেন। (৩) শেষ পর্যন্ত তাহাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে এবং তথায় সে চিরকাল আযাব ভোগ করিতে থাকিবে। (কুর্বাতুল উ’য়ুন)

কোরআন সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

“নিশ্চয়ই নামায অশ্লীল অসৎকাজ থেকে মানুষকে বারণ করে।” (সূরা ঃ আনকাবুত ঃ আয়াত ঃ ৪৫)

“নিশ্চয় যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং নেক আমল করিয়াছে। আর (বিশেষভাবে ) নামাযের পাবন্দী করিয়াছে এবং যাকাত আদায় করিয়াছে তাহাদের রবের নিকট তাহাদের সওয়াব সংরক্ষিত রহিয়াছে। আর না তাহাদের কোন আশংকা থাকিবে এবং না তাহারা চিন্তিত হইবে। (সুরা- বাকারাহ আয়াত- ২৭৭)।

১. হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যেই লোক নামাযের হেফাজত করে না (অর্থাৎ নামায আদায় করে না) রোজ কেয়ামতে সেই ব্যক্তি মুক্তি পাইবে না এবং মুক্তির সনদপত্রও পাইবে না। তদুপরি যে কোন প্রকার নুরও (জ্যোতি) লাভ করিবে না। বস্তুত সে ফেরাউন, কারুন, হামান ও মুনাফিক উবাই ইবনে খলফের সহিত জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইবে। (মুসনাদে ইমাম আহমদ)
২. হযরত মায়া’য ইবনে জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) আমাকে দশটি অছিয়ত (উপদেশ) প্রদান করিয়াছেন, উহার প্রথমটি হইতেছে, আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে কাহাকেও শরীক করিও না, যদিও তোমাকে কাটিয়া টুকরা টুকরা করা হয় কিংবা তোমাকে আগুনে জ্বালানো হয়। আর উহার দ্বিতীয়টি হইতেছে তুমি কোন অবস্থায়ই ফরজ নামায পরিত্যাগ করিবে না। যেহেতু যেই ব্যক্তি ইচ্ছা করিয়া ফরজ নামায ছাড়িয়া দিবে আল্লাহ তা’আলা তাহার কোন দায়িত্বই গ্রহণ করিবেন না। (তিবরানী)।
৩. একদা হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) মসজিদে নববীতে ফজর নামাযের পরে এরশাদ ফরমাইয়াছেন, আজকে রজনীতে দুইজন ফেরেশতা আগমন করতঃ তাহাদের সঙ্গে আমাকে নিয়া পথ চলিল। পথিমধ্যে আমি প্রত্যক্ষ করিলাম যে, একটি লোক মাটির উপর শুইয়া রহিয়াছে এবং অন্য একজন লোক তাহার মস্তকের দিকে দাঁড়াইযা অতি জোরের সহিত মাথায় পাথর দ্বারা আঘাত করিতেছে, ইহাতে তাহার মস্তক ঢূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া যাইতেছে এবং পাথর খানা ছুটিয়া দূরে গিয়া পতিত হইতেছে। তৎপর আঘাতকারী লোকটি পাথর খানা নিয়া আসিবার মধ্যে চূর্ণ বিঢূর্ণ মস্তক জোড়া লাগিয়া যাইতেছে, আঘাতকারী লোকটি পাথর নিয়া আসিয়া পুনরায় শায়িত লোকটির মস্তকে পাথর ছুড়িয়া মারিতেছে এবং মস্তক চূর্ণ বিচূর্ণ হইয়া যাইতেছে, এইরূপ ঐ লোকটি বারংবার পাথর নিক্ষেপ করিতেছে এবং চূর্ণ বিচূর্ণ মস্তক জোড়া লাগিয়া যাইতেছে। অতঃপর আমি ফেরেশতা দুইজনকে জিজ্ঞাসা করিলাম যে, এই লোকটি পরিচয় কি? এবং তাহার অপরাধ কি? জওয়াবে ফেরেশতাদ্বয় বলিলেন, এই লোকটি ফরজ নামায আদায় না করিয়া শুইয়া থাকিত। (বোখারী শরীফ)
৪. হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যে লোক এক ওয়াক্ত নামায ছাড়িয়া দিল, তাহার ধন-সম্পদ ও সন্তানাদি যেন লুট হইয়া গেল। (ইবনে মাজা)
৫. হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ ফরমাইয়াছেন ঃ মুসলমান ও কাফেরের মাঝে পার্থক্যের বিষয় হইতেছে একমাত্র নামায। (মেশকাত)
৬. হযরত  রাসুলুল­াহ (সঃ)  এরশাদ  করিয়াছেন,  যে  লোক  জানিয়া বুঝিয়া (ইচ্ছাকৃতভাবে) নামায কায়েম করে নাই, রোজ কেয়ামতে আল্লহ তা’আলা তাহার সহিত অতি রাগের সহিত কথা বলিবেন। (তারগীবে মুনজেরী)
৭. হযরত রসুলুল্লাহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ আমার উম্মাতের মধ্যে হইতে আট শ্রেণী লোকের প্রতি রোজ কেয়ামতে আল্লাহ তা’আলা অধিক নারাজ হইবেন। তাহাদের চেহারা অত্যাধিক কুশ্রী ও ভীষণ আকৃতি ধারণ করিবে। হাশর ময়দানে সকল লোক তাহাদিগকে অতি ঘৃণার নজরে দেখিবে। উহাদের ভিতরে এক শ্রেণী নামায তরককারীগণ হইবে। ইহাদের প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি পরিমাণে শাস্তি দেওয়া হইবে। নামায তরককারীদিগকে আগুনের পোশাক পরিধান করাইয়া আগুনের শিকল দ্বারা বাঁধিয়া আগুনের কোড়া দ্বারা শাস্তি দেওয়া হইবে। তাহাকে সম্বোধন করতঃ বেহেশত বলিতে থাকিবে, হে হতভাগ্য ব্যক্তি! তুমি আমার দিকে অগ্রসর হইও না। আর জাহান্নাম তাহাকে সম্বোধন করতঃ বলিতে থাকিবে, তুমি আমার দিকে আস, আমি তোমারই অপেক্ষায় রহিয়াছি। ইহা বলিয়া জাহান্নাম স্বীয় লেলিহান জিহবা বাহির করতঃ তাহাকে টানিয়া লইয়া নিজের উদরের মধ্যে নিয়া যাইবে। অতঃপর সেই লোক চিরকাল তথায় আজাব ভোগ করিতে থাকিবে। জাহান্নামের অগ্নির তেজ দুনিয়ার অগ্নি হইতে বহুগুণে বেশি হইবে।

নামায সম্পর্কে কোরআনের আয়াত ও হাদীসে রসুল (সঃ) এর বাংলা অর্থ

বোখারী শরীফে বর্ণিত হইয়াছে, আল্ল­াহ তা’আলা হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ)- কে বন্ধু হিসাবে সম্বোধন করিয়াছেন। হযরত রাসূলে করীম (সাঃ) যখন মে’রাজ শরীফে তাশরীফ নিয়া আল্ল­াহর স¤মুখে হাযির হইয়াছিলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করিয়াছিলেন ঃ হে আমার প্রিয় বন্ধু! দুনিয়ায় প্রচলিত রেওয়াজ আছে যে, কোন লোক তাহার বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে গমন করিলে সঙ্গে কোন বস্তু উপঢৌকন স্বরূপ নিয়া যায়, তাই আপনি আমার জন্য কি উপঢৌকন নিয়া আসিয়াছেন?
জবাবে হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) বলিলেন ঃ হে আমার প্রিয় মা’বুদ! আমার এমন কি বস্তু আছে যে, যাহা আপনাকে উপহার দিতে পারি? হ্যাঁ! তবে আমি আপনাকে এমনি একটি বস্তু উপহার পেশ করিতেছি, যাহা কোন দিন কেহ আপনাকে উপহার পেশ করে নাই। আমি আমার সকল উম্মতের পাপ সমূহ আপনাকে উপহার স্বরুপ প্রদান করিতেছি। এই বস্তু ব্যতীত আপনাকে উপহার দিবার মত আমার কাছে আর কোন কিছুই নাই।
তখন মহান রাব্বুল আ’লামীন সন্তুষ্ট হইয়া বলিলেনঃ যে আমার প্রিয় বন্ধু! আমি আপনার উপহার খুশীর সহিত গ্রহণ করিলাম। আর আমিও আপনাকে ও আপনার উম্মতগণকে একটি বস্তু উপহার দিলাম; উহা এই যে, আপনি ও আপনার উম্মতগণকে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও বৎসরে রমজান মাসের রোজা পালন করিতে হইবে। (মহান আল­াহ প্রথমে ৫০ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারণ করেছিলেন, নবীজী (সাঃ) এর ৯ বারের আপিলে মহান  আল্ল­াহ  তা  কোমিয়ে  ৫ ওয়াক্ত   নির্ধারণ  করেছেন)। যেই লোক আমার প্রদত্ত¡ এই উপহার খুশী মনে গ্রহণ করিবে এবং যত্নের সহিত আমল করিবে, তাহার জীবনের সমস্ত গুণাহ ক্ষমা করিয়া দিবার দায়িত্ব আমি (আল্লহ) গ্রহণ করিলাম। (বোখারী শরীফ)

নামায ও রোজার পরিবর্তে বান্দার গুনাহ মাফীর দায়িত্ব আল্ল­াহ কর্তৃক গ্রহণ

হাদীসে বর্ণিত আছে, হযরত রসুলুল্ল­াহ (সঃ) ফরমাইয়াছেন ঃ যখন আল্ল­াহর কোন বান্দা অজু করতঃ জায়নামাযে দন্ডায়মান হয়, তখন আল্ল­াহ তা’আলা একজন ফেরেশতাকে ডাকাইয়া বলেন, আমার অমুক প্রিয় বান্দা নামায কায়েম করিবার মানসে তৈরি হইয়াছে কিন্তু তাহার দেহে পূর্বকৃত গুনাহ রহিয়াছে, উহার বোঝা নিয়া নামায আদায় করিলে নামায শুদ্ধ হইবে না। অতএব তাহার দেহ হইতে সমস্ত গুনাহ একটি ঝুড়িতে ভরিয়া তোমার মস্তকে তুলিয়া নিয়া দন্ডায়মান হইয়া থাক। ইহাতে আমার প্রিয় বান্দা নিষ্পাপ হালতে নামায আদায় করিতে সক্ষম হইবে। অতঃপর বান্দার সমস্ত গুনাই ঝুড়িতে ভরিয়া ফেরেশতা স্বীয় মস্তকে লইয়া দন্ডায়মান হইয়া থাকে। ইহাতে ঐ বান্দা নিষ্পাপ অবস্থায় নামায আদায় করিয়া থাকে। তৎপর ফেরেশতা আল্র­াহর দরবারে আরজ পেশ করে, হে মা’বুদ! তোমার বান্দা নামায আদায় করিয়াছে, এখন কি পাপের বোঝা তাহার দেহে চাপাইয়া দিব? তৎসময় আল্ল­াহ পাক বলেন, হে ফেরেশতা! আমার এক নাম “গাফূরুর রহীম” তাই আমি যদি বান্দার দেহ হইতে পাপের বোঝা একবার নামাইয়া পুনরায় উহা তাহার প্রতি চাপাইয়া দেই, তবে আমার নামের মাহাত্ম বজায় থাকিবে কি? তুমি আমার বান্দার ঝুড়ি বোঝাই পাপ সমূহ জাহান্নামে নিক্ষেপ করতঃ জ্বালাইয়া ভষ্ম করিয়া  ফেল । আমার ঐ বান্দা এখন হইতে একেবারে নিষ্পাপ হইয়া গেল।

নামায বান্দাকে নিষ্পাপ করে দেয়