১৮ জানুয়ারী ২০২২, ১২:৫৩ অপরাহ্ন

সুবর্ণজয়ন্তীর শপথ  —— এম এ কবীর (সাংবাদিক )

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে শপথগ্রহণ করিয়েছেন। এবার স্বাধীনতা দিবসেরও ছিল সুবর্ণজয়ন্তী। দেশের সব কটি জেলায় তরুণদের প্রাধান্যসহ সমাবেশের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই শপথগ্রহণ করানো হয়। মূল অঙ্গীকার ছিল মুক্তিযুদ্ধে এবং বাংলাদেশের রূপায়ণে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য ভূমিকা উপলব্ধি এবং তার স্বপ্ন অনুযায়ী অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আত্মনিয়োগ।  এ ধরনের শপথের গুরুত্ব কম নয়,কেননা ভোগবাদী যুগে নতুন প্রজন্ম রাজনীতি,ইতিহাস এবং ঐতিহ্যবিমুখ হয়ে পড়েছে। তাদের যদি ইতিহাসের আলোকে নাগরিকের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা না যায় তা হলে আগামী দিনে জাতি সংকটে পড়বে।

বেশ কয়েক দশকে পারিবারিক ভাঙন, মূল্যবোধের অবক্ষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। দেখতে না চাইলেও তা আর লুকানো যাচ্ছে না। চোখ বুজে থাকলেও এর পঁচা গন্ধ এড়ানো যাচ্ছে না কিছুতেই। কোনো পুকুরের একটি মাছ মরে ভেসে উঠলে আমরা সে মাছটিকে আলাদা করে নিই এবং ধরে নিই ওই মাছটির মধ্যেই কোনো সমস্যা ছিল। কিন্তু যখন একই পুকুরে ‘শখানেক মাছ মরে ভেসে ওঠে তখন বুঝতে হয়,পুকুরে নিশ্চয়ই এমন কিছু ঘটেছে, যাতে মাছগুলো আক্রান্ত হচ্ছে।

আমাদের নতুন প্রজন্ম  ব্যাপকহারে হতাশ হচ্ছে, এমনকি আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে, সম্প্রতি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার ‘স্পেশাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ’বিষয়ক অনুষ্ঠানে জানায়, দেশে প্রতিবছর অন্তত দশ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। তবে গত বছর থেকে শুরু হওয়া করোনা মহামারীর প্রথম দশ মাসে দেশে আত্মহনন করেছেন অন্তত ১৪ হাজার মানুষ। দেশের ১৮ শতাংশ মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত। শিশুদের মধ্যে এই হার ১২ শতাংশ। ১৪ বছর বয়সের আগেই ৫০ শতাংশ এবং ২৫ বছর বয়সের আগেই ৭৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি করোনাকালে মানুষ নানা সংকটে দিন পার করছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে বিস্তর ফারাক। ফলে হতাশাগ্রস্ত মানুষ নিজেকেই হত্যার প্রবণতায় ঝুঁকছেন।

বিভিন্ন কারণে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চরমে পৌঁছে গেছে। সন্তান বাবা-মাকে অবলীলায় খুন করছে, নেশায় আচ্ছন্ন হচ্ছে, এটি আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি আমাদের লালন-পালনেরই কোনো একটি বড় সমস্যা। দেশে প্যারেন্টিং নিয়ে কেউ কথা বলে না। কেন বলে না? এটাও ওই প্যারেন্টিংয়েরই একটা অন্ধ সংস্করণ।

ন্যায়-অন্যায়ের সংজ্ঞা বয়সের ওপর নয়, বিবেচনাবোধ ও শিক্ষার সমন্বয়ে তৈরি হয়। জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাই সেখানে মাপকাঠি হতে পারে না। যদি বয়সের ভিত্তিতেই তা হতো, তা হলে পৃথিবীতে বর্তমানে সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিই সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হতেন। আমাদের সন্তানকে বিনয়ের সঙ্গে ন্যায়-অন্যায় বোধ শেখালে, পরিবারের মধ্যে ছোট-বড় যেই অন্যায় করুক, প্রতিবাদ-প্রতিহত করা শেখালে এমন প্রতিবাদহীন প্রজন্ম তৈরিই হতো না। পরিবারই তাকে সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে প্রতিবাদ না করার সংস্কৃতির শিক্ষা দেয় বলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর অন্যায়কেও অন্যায় বলার মতো সাহস এবং ইচ্ছে কোনোটাই আর কাজ করে না। ফলে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি এখানে চালু করা যায়নি। বরং উচ্চপদস্থ কেউ যা করবে তাই মুখ বুজে মেনে নেয়ার, এটিই হওয়ার ছিল, ভেবে রায় দেয় মজ্জাগত স্বভাব থেকেই। ‘যত মত, তত পথ’ জীবনের এ সহজ সত্যটিকে তারা গ্রহণ করতে পারেননি। আমরা সন্তানকে কথা বলা শেখার পর পরই ছড়া শেখাই – ‘পড়াশোনা করে যে, গাড়ি-ঘোড়া চড়ে সে।’ সন্তানকে ছোট থেকেই প্রলুব্ধ করা হয়, তুমি পড়াশোনা করবে শিক্ষা অর্জনের জন্য নয় বরং গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ার জন্য। তুমি পড়াশোনা করবে ভালো চাকরি করার জন্য, অন্যকে অধীনস্থ করার জন্য।

সাহিত্যপাঠের গল্প-উপন্যাসগুলো  মানবিকবোধের উন্মেষের জন্য নয়, লাইন টু লাইন মুখস্থ করানো হয় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য।  শিক্ষা শিক্ষিত হওয়ার জন্য নয়, জ্ঞানের আলোয় নিজেকে আলোকিত করার জন্য নয়, শিক্ষা এখানে অর্থ উপার্জনের নিয়ামক মাত্র, মনের আঁধার দূর করার উপাদান নয়। জন্ম থেকে যারা পড়াশোনা করেছেন গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ার জন্য, ভালো চাকরির জন্য, সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই তারা একটা চাকরি আশা করবেন এবং চাকরি না পেলে হতাশ হবেন, ডিপ্রেশনে ভুগবেন, আত্মহননের পথ বেছে নেবেন, এটাই সহজ-স্বাভাবিক গাণিতিক হিসাব। এই হতাশ প্রজন্মই যাদের জীবনের মানেই শেখানো হয়েছে ক্যারিয়ারের সফলতার মাপকাঠিতে, টাকা উপার্জনের মেশিন হিসেবে, বাস্তবে যখন তা সে পাচ্ছে না, তখন সে হতাশায় নিমগ্ন হবে এবং ব্যাপকভাবে অন্যায়ের পথে পা বাড়াবে। অর্থ উপার্জনই যদি হয় সফলতার মাপকাঠি, তবে তা যে উপায়েই হোক সৎ অথবা অসৎ তাতে তার বিবেকে এতটুকু নাড়া দেয়ার কথা নয়। ফলে দেশে শুধু সার্টিফিকেটধারী চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যার সংখ্যা ক্রমবর্ধমান, কিন্তু শিক্ষিত মানুষ তৈরি হচ্ছে না। আমরা যদি সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত না বানিয়ে ছোট বেলা থেকেই সন্তানদের শেখাতাম শিক্ষা অর্জন করো, জ্ঞানের ক্ষুধা থেকে, জীবনকে জানার জন্য। ভালো মানুষ হলে, প্রায়োগিক জ্ঞান থাকলে যে কোনো কিছু করেই সৎ পথে উপার্জন সম্ভব, তা হলে এই বেকার সার্টিফিকেটধারী প্রজন্ম তৈরি হতো না। আমাদের সন্তানরা এখন আর আদর্শবান হয় না,দুর্নীতিতে প্রথম হয়। সন্তানকে আমরা এখন কোনো আদর্শবান মানুষের গল্প শোনাই না, সমাজসেবীদের গল্প শোনাই না, শোনাই টাকাওয়ালা সফলদের গল্প। আমাদের মনে রাখা উচিত, সন্তানরা উপদেশ নয়, অনুকরণে  শেখে। শিক্ষা বিষয়টির মূল শর্তই হলো তা স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া জরুরি। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যেন আবেগের বিকাশ ঘটে, তারা যেন মানবিক হয়ে ওঠে, অন্যের মতকে গুরুত্ব দিতে শেখে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতার চর্চা করতে পারে তা আমাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে।

জন্মের পরই মানুষ তার অস্তিত্ব নিয়ে সচেতন হয়ে যায়। তার ক্ষুধা, তৃষ্ণা,কামনা,বাসনা ইত্যাদি নিয়ে সে অবস্থান করে এক স্বার্থপর সত্তা হিসেবে। ‘স্বাধীনতা’, ‘সার্বভৌমত্ব’, ‘মানবিকতা’ এবং এসবের মতো অন্যান্য মানবিক সত্যকে একজন মানুষ সামাজিক জীব হিসেবে গ্রহণ করে সত্য কিন্তু তারপরেও তার মনে কী যেন নেই,আরো বেশি হলে ভালো হতো, পৃথিবী এক শূন্যতা ছাড়া কিছু নয়’, ‘জীবনের অর্থ নেই’, এমন সব চিন্তা-ভাবনা আসে। এমন চিন্তা-ভাবনাকে ‘মনস্তাকি ফেনমেনা বা চেতনচিত্র’ বলা যায়।

জার্পল সার্ত্রে এবং আলবার্ট ক্যামুকে অস্তিত্ববাদী সাহিত্যতত্ত্বের মূল প্রবক্তা বলা হয় এবং তারা মনে করতেন, মানুষ এই অপরিচিত পৃথিবীতে অবস্থান করছে এক নির্বাসিত বিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে আর এই পৃথিবীতে প্রকৃত সত্য,মূল্যবোধ কিংবা জীবনের অর্থ বলে কিছু নেই। মানুষ শুধু এক ধরনের শূন্যতা থেকে জীবন শুরু করে। ক্রমাগতভাবে শূন্যতা পার করে মৃত্যুকে তুলে নেয়। আমরা যাকে ‘অস্তিত্ব’ বলি তা আসলে এক ধরনের যন্ত্রণা,অথবা বলা যায় এই ‘অস্তিত্ব’ এক ধরনের অবাস্তব কল্পনা মাত্র।

সার্ত্রে তার অস্তিত্ববাদী চিন্তার এক পর্যায়ে এসে এমনও উচ্চারণ করেন,জীবনের কোনো অর্থ নেই, উদ্দেশ্য নেই,শূন্যতা নিয়ে বেঁচে থাকাই জীবন। দার্শনিক কিয়ের্কেগার্ড সার্ত্রে বা ক্যামুর মতো ‘নাস্তিক’ ছিলেন না,তার অস্তিত্ববাদে অর্থহীন শূন্যতার জীবনকে ঈশ^রের কাছে সমর্পণ করার কথা আছে। আমরা আমাদের জীবন ও সাহিত্যে অস্তিত্ববাদী এই শূন্যতা আর অর্থহীনতাকে খুঁজে পাব। চেতনচিত্রবাদের প্রবক্তা ছিলেন দার্শনিক এডমুন্ড হুসার্ল। তার মতে, যেসব বিষয় বা ঘটনা অবশ্যম্ভাবী নয় সেগুলোকে আমাদের চৈতন্য থেকে বাদ দিতে হবে এবং যা বাস্তব,যা আবশ্যিকভাবে ঘটছে, তা চেতনচিত্র হিসেবেই উপস্থিত। ‘সুর্য পূর্ব দিকে ওঠে পশ্চিমে  ডোবে’, এই সত্য যেমন একটা ফেনমেনা,ঠিক তেমনিভাবেই মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া সত্যগুলো অবশ্যম্ভাবী সত্য হয়েই উপস্থিত।

মানুষের ‘মন’ নামক ধরাছোঁয়ার বাইরে এক অস্তিত্ব আছে, আর মনের চেতন ও অচেতন ঘরে বন্দি হয়ে আছে মানুষের সত্তা, অস্তিত্ব,সজ্ঞা,সংবেদ ইত্যাদি ভাষার এক গোলকধাঁধাসহ। ফ্রয়েড, পাভলভ, ইয়ুং, লাকাঁ প্রমুখ মনস্তাত্ত্বিক/ভাষাবিজ্ঞানী মনের কপাট খুলে আমাদের দেখিয়েছেন, ভাষা দিয়ে সৃষ্ট মানুষের মন তার যে কোনো কার্য এবং কার্যের কারণকে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে ‘অহং এবং ‘অতি-অহং’কে অস্বীকার করে মানুষের অনেক সামাজিক আদিম প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে। এই আদিম প্রবৃত্তি যখন কোনো আর্থসামাজিক কারণে ‘অবদমিত’ হতে বাধ্য হয়, তখন তা ভাষারূপেই অবস্থান নেয় মনের ‘অচেতন’ কোটরে।

প্রত্যেক মানুষের একটি নিজস্ব মনের জানালা আছে। এই জানালা দিয়ে সে নিজেকে দেখে, প্রকৃতি দেখে,পরিবেশ দেখে,আকাশ, পাতাল, পৃথিবী আর বিশ^ব্রহ্মা- দেখে। এই জানালা, যাকে আমরা চেতনা-কাঠামো বা প্যারাডাইম বলতে পারি, তার বিস্তার আর অবস্থান সম্পর্কে খুব সহজেই আমরা কোনো নির্দিষ্ট সত্যকে তুলে ধরতে পারি না। জাগতিক বাচাল ভাষায় যুক্তি দিয়ে যখনই আমরা একজন মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে বিশ্লেষণ করতে যাই, ঠিক তখনই আমাদের ব্যক্তিগত অহং নিজস্ব সত্তার আবরণ মাখিয়ে দেয় যে কোনো প্যারাডাইমিক বিশ্লেষণে, আর তার ফলে সমগ্রের মাঝেই বারবার ঘুরে ফিরে আসে অহংয়ের উপস্থিতি।

একজন নিঃসঙ্গ মানুষ তাই শুধুমাত্র তার নিজস্ব জানালা নিয়েই বিবর্তিত হতে থাকে দেশ-কাল-মাত্রার এই পৃথিবীতে। একজন ব্যক্তিমানুষের ব্যক্তিগত জানালার ছবি সমগ্রের সম্পদ নয়, এই সত্য-মূল্যই আমাদের প্যারাডাইমে অবস্থান করে। তবুও এ কথাই সত্য যে, আমরা আমাদের নিজস্ব ভাষা ও চিন্তায় জানালা খুলে বারবার দেখতে চেয়েছি ব্যক্তি ও সমগ্রের বিশ^কে। দেকার্তের কাজিটো বা ‘আমি’, আমার নিজস্ব জানালা নিয়েই হয়ে উঠছে অস্তিত্বশীল। ‘আমি’র জানালা খুলে বিচিত্র চিত্র দেখার জন্যেই সৃষ্টি হয়েছে ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ পদ্ধতির, আর লাকাঁ উন্মোচন করতে চেয়েছেন মানবিক চৈতন্যের অস্তিত্ববাদী সমস্যা ও চরিত্রকে।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যখন অনেকের মনেই আর আলাদা কোনো আবেগ কাজ করে না, তখন গোপাল চন্দ্র শীল নামের একজন মানুষ কীভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানান,সে খবর ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গোপাল চন্দ্র শীলের সেলুনের সাইনবোর্ডেই বড় বড় অক্ষরে লেখা : এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের ফ্রি চুল কাটা হয়।

গোপালের এই সেলুনে চুল কাটাতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো সিরিয়াল লাগে না। অসুস্থ কিংবা বয়সের ভারে ন্যুব্জ যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রয়োজনে তাঁদের বাড়িতে গিয়েও চুল-দাড়ি কেটে দেয়া হয়। তবে সব বীর মুক্তিযোদ্ধা যে বিনা মূল্যে চুল কাটাতে আসেন,তা নয়, খুশি হয়ে গোপালকে আশীর্বাদ জানাতেও আসেন অনেকে। গত ২০ বছরে গোপাল এক হাজার মুক্তিযোদ্ধার চুল-দাড়ি বিনা পয়সায় কেটেছেন। তাঁদের নাম,ঠিকানা,স্বাক্ষর ও মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার কথাও টুকে রেখেছেন একটি স্মারক বইয়ে। রণাঙ্গনের বীর যোদ্ধাদের খন্ড খন্ড অভিজ্ঞতার এক অসামান্য দলিল হয়ে উঠেছে স্মারক বইটি। এখন তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের ছবিও সংগ্রহ করছেন। অনেক বীর মুক্তিযোদ্ধাই গোপালের প্রশংসা করে বইটিতে নানা কিছু লিখেছেন।

বছর বিশেক আগে একজন বয়স্ক মানুষ গোপালের সেলুনে এসে জানতে চেয়েছিলেন, চুল-দাড়ি কাটাতে কত লাগবে? ১৫ টাকা লাগবে শুনেই মানুষটি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, কেন যে দেশটা স্বাধীন করলাম! লোকটির মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় জেনে গোপালের মনে বিষয়টি গভীর দাগ কাটে। তিনি তখনই আজীবন বিনে পয়সায় মুক্তিযোদ্ধাদের চুল-দাড়ি কাটার সিদ্ধান্ত নেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের দুঃখ-দুর্দশার খবর এখনো সংবাদপত্রে বের হয়। সবার সব কষ্ট মোচনের দায়িত্ব সরকারের ওপর দিয়ে আমরা সবাই নির্ভার থাকতে চাই। অথচ দেশ স্বাধীন না হলে আজ যাঁরা বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো নিঃস্বই থাকতেন। গোপাল যেমন তাঁর অবস্থান থেকে একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অন্যরাও যদি নিজ নিজ অবস্থা ও অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের প্রতি ভালোবাসা দেখাতেন,তাহলে কতই না ভালো হতো।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে আমরা পাওয়া না-পাওয়ার হিসাবের খাতা খুলে বসেছি। একাত্তরে সাতপাঁচ না ভেবেই বীর যোদ্ধারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বলেই তো আজ এই বিজয়।

লেখক : এম এ কবীর, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক,কলামিস্ট ও সভাপতি,ঝিনাইদহ জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটি,ঝিনাইদহ)  

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার (দুপুর ১২:৫৩)
  • ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
  • ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি
  • ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (শীতকাল)

ভিজিটর গননা

0168058
Visit Today : 194
Visit Yesterday : 309
Total Visit : 168058
Hits Today : 2548
Total Hits : 1022445
Who's Online : 8

ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

নামাযের সময়সূচি

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ
  • ১২:১৭ অপরাহ্ণ
  • ৪:০১ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪১ অপরাহ্ণ
  • ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
  • ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ