February 28, 2026, 5:25 am
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত ঝিনাইদহের মহেশপুরের ভৈরবায় শিশু তাবাসসুম হত্যার আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনে ১০ মার্চ বগুড়ায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওআইসির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক গণমাধ্যমকে আধুনিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে চাই : তথ্যমন্ত্রী ঋণের দায় নেওয়ার চেয়ে লোডশেডিংয়ের কষ্টে থাকা ভালো : বিদ্যুৎমন্ত্রী ভূমিকম্পে কাঁপল সরাদেশ ; উৎপত্তি সাতক্ষীরায় নরসিংদীতে অপহরণের পর কিশোরীকে হত্যার অভিযোগে ৫ জন আটক লক্ষ্মীপুরে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষে ১৫ জন আটক ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
এইমাত্রপাওয়াঃ

বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ল’জ উপাধি দেয়ার সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ডক্টর অব ল’জ উপাধিতে ভূষিত করার যে সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েছে, তা একইসঙ্গে ঐতিহাসিক তাৎপর্যপূর্ণ এবং সবিশেষ প্রশংসাযোগ্য।
তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আগামীকাল ডক্টর অব ল’জ উপাধি প্রদান উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে আজ এ কথা বলেন।
এই উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভেঙে এ উপমহাদেশে যে রাষ্ট্র ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়, সেই রাষ্ট্রটি বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ আবাসভূমি ছিল না- এ সত্যটি সবার আগে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৎকালীন তরুণ ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সবার আগে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং কালক্রমে হয়ে উঠেন বাঙালি জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর (বঙ্গবন্ধু) নেতৃত্বে পরিচালিত বহু আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ’৫২ এর জাতির ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য চেতনা রক্ষার ভাষা আন্দোলন, জাতির পিতা ঘোষিত ’৬৬ এর ছয় দফার ভিত্তিতে স্বায়ত্ত্বশাসন আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ছিলেন সম্মুখ সারির যোদ্ধা ।
তিনি বলেন, জাতির পিতার আহ্বানে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাঁদের অনেকে শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন, অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক সত্তার বিকাশ ও দেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক-কর্মচারীগণ অগ্রভাগে থেকে অব্যাহতভাবে নেতৃত্ব প্রদান করে আসছেন। প্রতিষ্ঠার পর হতে আজ পর্যন্ত অনন্য দক্ষতায় মনন ও মানবিকতায় অভূতপূর্ব সংশ্লেষ ঘটিয়ে এই মহিরূহ বিদ্যায়তন সমগ্র দেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে পরিপুষ্ট করে চলেছে ।
তিনি বলেন,  জাতির পিতার দূরদর্শী নির্দেশনায় ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিন্যান্স ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন গঠন করা হয়, যার মূল বার্তা ছিলো- বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতা ও মুক্ত-বুদ্ধিচর্চার পরিবেশ সৃষ্টি করা ।
সরকার প্রধান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এর সার্বিক উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সরকারের বিগত প্রায় ১৫ বছরে গৃহীত বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে শিক্ষা খাতে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রভাব কাটিয়ে শিক্ষার উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে আমরা প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা বিশ্বায়ন ও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজ্ঞান, তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ মানব সম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে আইসিটি এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। বর্তমান সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক সংকট নিরসনে বিভিন্ন হল ও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরো বেশি উন্নত গবেষণার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে যে কোন সংকট উত্তরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা-গবেষণা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ জ্ঞানের সকল শাখায় এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জ্ঞান ও আলোর পথের অভিযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন দিগন্ত তৈরি করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের নিবিড় চর্চা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ও জাতিরাষ্ট্র বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনবদ্য অবদান চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান, মেধা-মনন ও সৃজনশীলতা প্রয়োগ করে ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
তিনি আরো বলেন, জাতির পিতাকে ডক্টর অব ল’জ ডিগ্রি প্রদান করা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকেই স্বীকৃতি প্রদান করা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মহতী উদ্যোগ সফল হোক, জাতি হিসেবে আমরা কিছুটা হলেও পিতৃঋণ স্বীকারে সক্ষম হই ।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page