অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র। ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বৈধ পথগুলো আরও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, যারা কল্যাণমূলক ও সরকারি সুবিধা নেওয়ার মাধ্যমে আমেরিকার জনগণের কাছ থেকে সম্পদ লুফে নিতে চায় তাদের পদ্ধতিগত ‘অপব্যবহারের ইতি’ টানতে চায় প্রশাসন।
নতুন করে স্ক্রিনিং ও যাচাই-বাছাইয়ের ঘোষণা দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যকর থাকবে বলে জানায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর।
ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ও বৈধ—উভয় ধরনের প্রবেশ সীমিত করার চেষ্টা করে আসছেন।এরই মধ্যে তার প্রশাসন ব্রাজিল, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছে। ২১ জানুয়ারি থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৫টি দেশের কনস্যুলার অফিসে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় বর্তমান ভিসা প্রক্রিয়ার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া পুননিরীক্ষণ করবে। এ সময়ে যেন এই ৭৫ দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, “স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করবে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াবে এবং মার্কিন জনগণের উদারতার অপব্যবহার করবে”।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বাধীন বিভাগটি তাদের প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়নের সময় ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত রাখবে, যাতে “এমন বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ রোধ করা যায়, যারা কল্যাণভাতা ও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে,” যোগ করেন পিগট।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী ভিসা আবেদন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এই স্থগিতাদেশ অ-অভিবাসী, অস্থায়ী পর্যটক কিংবা ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।
সম্প্রতি রাশিয়া, ইরান, আফগানিস্তান ও আফ্রিকাসহ আরও যেসব দেশকে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছেন সেসব দেশ থেকে অভিবাসনের ওপর স্টেট ডিপার্টমেন্ট আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
গত নভেম্বরে আফগানিস্তান থেকে আসা এক অভিবাসীর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলির ঘটনায় অভিযোগ দায়েরের পর প্রশাসন ১৯টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ বা সীমিত করে।
ডিসেম্বরে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও পাঁচটি দেশের নাগরিক এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ইস্যু করা নথিতে ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রাথমিক ১৯টি দেশের অভিবাসীদের জন্য আশ্রয় আবেদন, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া এবং গ্রিন কার্ড আবেদনও স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভিসা স্থগিত হওয়া ৭৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে: আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বার্বাডোজ, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তাঞ্জানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।