অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার জেরে দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের একজন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন দূতাবাস কর্মীকে বহিষ্কার করেছে রিয়াদ প্রশাসন।
শনিবার (২১ মার্চ) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি বন্দর ইয়ানবুর কাছে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা এক নতুন এবং বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পক্ষ থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলা অব্যাহত থাকলে তা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝে আরও তীব্র উত্তেজনা তৈরি করবে। রিয়াদ স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড কেবল বর্তমান সম্পর্ককেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং দুই দেশের ভবিষ্যতের ওপরও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি আরবের দাবি অনুযায়ী, তেহরান এ পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এমনকি সম্প্রতি রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানির জন্য বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরকে ব্যবহার করছিল। কিন্তু সেই কৌশলগত অবস্থানে ড্রোন হামলার ঘটনা সৌদি আরবের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করার অর্থ হলো রিয়াদ এখন তেহরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাচ্ছে না। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান ইরানকে আঞ্চলিকভাবে আরও কোণঠাসা করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, সৌদি আরব তাদের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে সৌদি কূটনীতিবিদরা এখন বিশ্বজুড়ে তৎপরতা শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, তেহরান এই বহিষ্কারাদেশের প্রতিক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন যে, এই কূটনৈতিক টানাপড়েন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে খুব শীঘ্রই বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই অবনতি সেই সংকটকে আরও ত্বরান্বিত করছে।