March 13, 2026, 8:40 am
শিরোনামঃ
ইরানে ক্ষমতাসীনদের হত্যা করা খুবই সম্মানজনক : ট্রাম্প রুশ তেল ছাড়া বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখা অসম্ভব : রাশিয়া ইরানকে গোপনে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া : ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রথম বক্তৃতায় সব মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের আলটিমেটাম মোজতবা খামেনির সংসদকে যুক্তি-তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শপথ নিলেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার প্রাণবন্ত সংসদের প্রত্যাশা বিরোধীদলীয় নেতার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস
এইমাত্রপাওয়াঃ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বৈশ্বিক-একক প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করতে প্রধানমন্ত্রীর  আহ্বান

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকলের জন্য একটি উন্নত বিশ্ব গড়তে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে কার্যকর নীতি এবং পরিকল্পনার পাশাপাশি বৈশ্বিক উদ্যোগের সাথে একক দেশের প্রচেষ্টার সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু, জলবায়ু পরিবর্তনের উৎস বৈশ্বিক, তাই এর সমাধান ও ব্যবস্থাপনাও বৈশ্বিক হতে হবে। শুধুমাত্র যদি বিশ্বব্যাপী এবং পৃথক দেশের প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করে কার্যকর নীতি, পরিকল্পনা এবং কার্যকর শাসন পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তবেই কর্ম প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
দুর্যোগ সহিষ্ণু অবকাঠামো সংক্রান্ত ৫ম আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রচারিত একটি পূর্বে ধারিনকৃত ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আজ এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে যে কোনো উদ্যোগে যোগ দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন এবং সহিষ্ণু অবকাঠামোর জন্য সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিনিময়ের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, অপ্রত্যাশিত সংকট মোকাবেলায় অর্থায়ন প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার এবং সম্মতি অপরিহার্য।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সকলের জন্য একটি টেকসই এবং প্রতিকূলতা সহিষ্ণু ভবিষ্যত গড়ে তোলার জন্য সরকার, আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক সংস্থা, বেসরকারি খাতগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংহতি প্রয়োজন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একই সাথে, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, স্থিতিস্থাপক রূপান্তরকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আমাদের চিন্তাভাবনায় এই বিষয়ে পদ্ধতিগত পরিবর্তন আনতে হবে।’
সরকার প্রধান আবারও আমাদের সবার জন্য একটি উন্নত বিশ্ব নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি এই সময়োপযোগী অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অভিনন্দন জানান।
বাংলাদেশ ২০২১ সালের জুলাই মাসে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দেয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ অনাকাঙ্খিত জলবায়ু বিপর্যয় ও দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে, যা আমাদের প্রতিষ্ঠান ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবং এই আঘাত ও চাপ সহিষ্ণু শক্তিশালী এবং ভৌত অবকাঠামো প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব তুরস্ক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তানে বিশাল ভূমিকম্প, ক্যারিবিয়ান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় হারিকেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্যার মতো সিরিজ বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করেছে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা বাংলাদেশে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছি, যার ফলে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের বিনিয়োগকে রক্ষা করার জন্য ভবিষ্যতের সমস্ত অবকাঠামো নির্মাণ এবং সিস্টেমগুলোকে অবশ্যই দুর্যোগ সহিষ্ণু হতে হবে।’
জলবায়ুর ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, ঝড়, খরা এবং বজ্রপাতের মতো ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইপিসিসি রিপোর্ট-২০২২ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এবং শেষের দিকে জিডিপির ২ থেকে ৯ শতাংশ ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের পদক্ষেপ শুরু হয় ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে, যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি প্রণয়ন করেছিলেন।
এই কর্মসূচির আওতায় বঙ্গবন্ধু উপকূলীয় এলাকায় এক হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছিলেন, তিনি আরো বলেন, জনগণ এই কেন্দ্রগুলোকে ‘মুজিব কেল্লা’ বলে ডাকত।
তিনি বলেন, এর আগে ১৯৭০ সালে, একটি প্রলয়ঙ্কারি জলোচ্ছ্বাস প্রতিকূলতা সহিষ্ণু অবকাঠামোর অভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় দশ লাখ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সালে আমাদের সরকার নিজস্ব সম্পদ দিয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল প্রতিষ্ঠা করেছে। এ পর্যন্ত ৪৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রায় ৮০০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সভাপতিত্বকালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমরা একটি জলবায়ু সহনশীল সমৃদ্ধ দেশ গড়তে মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা চালু করেছি’।
তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে আমাদের সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা চালু করেছে, এতে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োাজন হবে।’
এর আগে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সহিষ্ণু ও সমৃদ্ধ ব-দ্বীপ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমার সরকার এখন বিজ্ঞান-ভিত্তিক অবকাঠামো নকশা এবং বাস্তবায়নকে গুরুত্ব দেয়। আমরা আমাদের স্থানীয় সম্প্রদায়কে তাদের জন্য কার্যকর অবকাঠামো তৈরিতে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করি।’
তিনি আরও বলেন, তারা ৬ মিলিয়ন হেক্টরেরও বেশি জমি কভার করার জন্য এক হাজার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন এবং সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার ১,৪০০ কিলোমিটার নদী ড্রেজিং এবং পুনঃখনন করেছে। আমরা ১৩৯টি উপকূলীয় পোল্ডারের পাশাপাশি প্রায় ২২,০০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ তৈরি করেছি। এই অবকাঠামোগুলো ২০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। আমরা এখন পর্যন্ত ১,২২৯ কিলোমিটার নদী তীর সুরক্ষা বাধ সম্পন্ন করেছি।’
তিনি বলেন, দুর্যোগ থেকে সুরক্ষার জন্য  তাঁরা ৪,৫৩০টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছেন, এর মধ্যে কিছু নিয়মিত স্কুল হিসাবেও ব্যবহার করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষ ও গবাদিপশুকে আশ্রয়  দেয়াসহ একাধিক ব্যবহারের জন্য মাটি উঁচু করে ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্ল্যাগশিপ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় তার সরকার এ পর্যন্ত ৭ লাখেরও বেশি বাড়ি নির্মাণ করেছে এবং সেগুলো বিনামূল্যে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই বাড়িগুলো যেকোনো  প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী। জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনে আমরা কক্সবাজারে ১৩৯টি পাঁচতলা ভবনও নির্মাণ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, তারা উপকূলীয় সবুজ বেস্টনী, ভাসমান সবজি চাষ এবং লাখ লাখ তালগাছ রোপনের মতো প্রকৃতি-ভিত্তিক ব্যবস্থা জোরদার করছি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের স্থানীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্য এবং পরিষেবা কেন্দ্রগুলোকে প্রাথমিক সতর্কতা প্রদানের জন্য ব্যবহার করছি। আমাদের পদক্ষেপের ফলে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।’
তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি হিসেবে তারা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ এবং আরও অনেক পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

 

 

আজকের বাংলা তারিখ

March ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Feb    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  


Our Like Page