October 22, 2026, 9:26 am
শিরোনামঃ
যশোরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে অবৈধ পারাপারের সময় ১২ জন আটক সত্য-ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে তরুণ প্রজন্মকে সোচ্চার থাকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে আগে রাজনৈতিক নেতাদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে : আইনমন্ত্রী জ্বালানি সহ‌যো‌গিতা নি‌য়ে বাংলাদেশ-আলজেরিয়ার ম‌ধ্যে সম‌ঝোতা সই ৭ দিন বন্ধ থাকবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রম রাজশাহীতে সিমেন্টের বস্তা থেকে ১০৩ ককটেল উদ্ধার যশোরের শার্শায় ১৮টি স্বর্ণের বার মটরসাইকেলসহ ১ জন আটক ও ২ জন পলাতক মাগুরায় বাস কাউন্টার থেকে যুবদল নেতার মরদেহ উদ্ধার ইরান থেকে কোনো ইউরেনিয়াম বের হবে না : ইরানের নিরাপত্তা সচিব
এইমাত্রপাওয়াঃ

‘নূহের নৌকা’র খোঁজে পাহাড় খনন করছে তুরস্ক

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : তুরস্কের পূর্বাঞ্চলীয় আগরি প্রদেশের দোগুবায়াজিত এলাকায় ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘নূহের নৌকা’র সন্ধানে নতুন করে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ‘দুরুপিনার ফরমেশন’ নামে পরিচিত নৌকার আকৃতির ভূতাত্ত্বিক গঠনটিকে ঘিরে কয়েক দশকের রহস্যের মধ্যে এবার ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে রাডার স্ক্যান, মাটির নমুনা সংগ্রহ ও কোর ড্রিলিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করছেন গবেষকেরা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু ও দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গবেষণায় তুরস্কের সিভাস জুমহুরিয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জানকার আতিলার নেতৃত্বে একটি দল কাজ করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন মার্কিন গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্স। এ অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত তিনটি তথ্যচিত্র নির্মাতা দলও এলাকায় কাজ করছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত অভিযাত্রী ও টেলিভিশন উপস্থাপক বেয়ার গ্রিলসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি দলও রয়েছে।

গবেষকেরা প্রথমে দুরুপিনার ফরমেশনের বিভিন্ন পয়েন্টের জিপিএস অবস্থান নির্ধারণ করেন। এরপর ওই এলাকার দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক মানচিত্র এবং অরথোফটো ম্যাপ তৈরি করা হয়। পরে ভূগর্ভস্থ কাঠামো শনাক্ত করতে বিশেষায়িত রাডার দিয়ে জরিপ চালানো হয়।

অধ্যাপক জানকার আতিলার ভাষ্য, রাডার জরিপে ভূগর্ভে কয়েকটি ফাঁপা বা শূন্যস্থান শনাক্ত হয়েছে। এর কিছু সম্ভাব্য করিডর বা কক্ষের মতো দেখতে। এসব জায়গাকে কেন্দ্র করে এখন ড্রিলিং ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নোয়া’স আর্ক স্ক্যানস’ নামের অভিযানে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য করিডরের সন্ধান পেয়েছেন, যার দৈর্ঘ্য ২৫০ ফুটের বেশি হতে পারে। পরবর্তী ধাপে সরু কোর ড্রিল করে ভূগর্ভস্থ এসব স্থানে ‘গোফার’ নামের একটি বিশেষ রোবট পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রোবটটি উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভিডিও ধারণের পাশাপাশি মাটির নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তবে এসব ভূগর্ভস্থ কাঠামো যে নূহের নৌকার অংশ, তার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণায় এখন পর্যন্ত নৌকার আকৃতির ওই ভূতাত্ত্বিক গঠনের মধ্যে নূহের নৌকার ভগ্নাবশেষ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য

চলমান গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মাটির রাসায়নিক বিশ্লেষণ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে গবেষক অ্যান্ড্রু জোন্সের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দুরুপিনার ফরমেশনের ভেতরের ও বাইরের মাটির মধ্যে জৈব পদার্থের পরিমাণ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে পার্থক্য পাওয়া গেছে।

জোন্সের দাবি, ফরমেশনের ভেতরের মাটিতে বাইরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি জৈব পদার্থ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ভেতরের মাটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ ৩৮ শতাংশ বেশি এবং পিএইচ মাত্রায় প্রায় আট গুণ পার্থক্য পাওয়া গেছে বলেও তিনি জানান।

গবেষকের ব্যাখ্যা, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বদ্ধ পরিবেশে জৈব পদার্থের ক্ষয় হলে মাটির রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তবে এসব তথ্যকে নূহের নৌকার অস্তিত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। আরও পরীক্ষা ও নমুনা বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন।

১৯৫৯ সালে শনাক্ত হয় দুরুপিনার ফরমেশন

দুরুপিনার ফরমেশনটি তুরস্কের দোগুবায়াজিত জেলার তেলচেক গ্রামের কাছে এবং আরারাত পর্বতের কাছাকাছি অবস্থিত। ১৯৫৯ সালে তুরস্কের সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও মানচিত্রবিদ ইলহান দুরুপিনার আকাশ থেকে তোলা ছবি বিশ্লেষণের সময় অস্বাভাবিক আকৃতির এই ভূতাত্ত্বিক গঠন শনাক্ত করেন।

এরপর থেকেই জায়গাটি নূহের নৌকার সম্ভাব্য অবস্থান হিসেবে আলোচনায় আসে। স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে জরিপ, খনন ও অন্যান্য অনুসন্ধান চালানো হলেও নূহের নৌকার অস্তিত্বের পক্ষে কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞানীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দুরুপিনার ফরমেশনকে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রেও এটিকে নূহের নৌকার অংশ নয়, বরং প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আধুনিক ভূতাত্ত্বিকদের একটি অংশের মতে, চুনাপাথর ও আগ্নেয় কাদামাটির সমন্বয়ে গঠিত এই কাঠামো ক্ষয়প্রক্রিয়ার কারণে নৌকার মতো আকৃতি পেয়েছে।

এর আগে মার্কিন উদ্ধারকারী বিশেষজ্ঞ ডেভিড ফ্যাসোল্ডও গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করে এলাকাটি পরীক্ষা করেছিলেন। একসময় তিনি এটিকে প্রাচীন জাহাজের জীবাশ্মীভূত অবশিষ্টাংশ বলে মনে করেছিলেন। তার পরিমাপ অনুযায়ী, ফরমেশনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬৪ মিটার—যা বাইবেলে বর্ণিত নূহের নৌকার প্রায় ১৫৭ মিটার দৈর্ঘ্যের কাছাকাছি। তবে পরে ফ্যাসোল্ড নিজেই নূহের নৌকা-সংক্রান্ত ওই তত্ত্ব থেকে সরে এসেছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

 

Noah’s Ark

 

ফরমেশনের আশপাশে পাওয়া কয়েকটি বড় পাথর নিয়েও নূহের নৌকার তত্ত্বের সমর্থকেরা দাবি করেছেন, এগুলো প্রাচীন জাহাজের নোঙর হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে সংশয়বাদীরা এগুলোকে স্মৃতিচিহ্ন বা সমাধিফলক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

 

এ ছাড়া ২০১৯ সালে করা ত্রিমাত্রিক গ্রাউন্ড-পেনিট্রেটিং রাডার স্ক্যানেও মাটির ঢিবিটির নিচে অস্বাভাবিক কাঠামোর ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল বলে ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান গবেষকেরা আগের এসব তথ্যের ওপরও কাজ করছেন।

 

আরও দুই বছর চলতে পারে অনুসন্ধান

গবেষকেরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংগৃহীত মাটির নমুনাগুলো শীতকালজুড়ে পরীক্ষা করা হবে। কয়েক মাসের মধ্যে এসব পরীক্ষার ফল পাওয়া যেতে পারে। এরপর গবেষণার ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

শীতকালে পাহাড়ি এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে চলমান অনুসন্ধানের একটি অংশ আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। গবেষণা দলটি আগামী বছর এবং তার পরের বছরও অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

 

Noah’s Ark

 

ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলিম-তিন ধর্মের বিশ্বাসেই নূহের নৌকা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে দুরুপিনার ফরমেশনটি সত্যিই নূহের নৌকার ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা প্রমাণিত হলে এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে ধর্মীয় ও পর্যটন আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।

 

তবে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত দাবি করছেন না। ‘নোয়া’স আর্ক স্ক্যানস’-এর সঙ্গে যুক্ত লরেন উইটজকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিকভাবে নির্ধারণ করা-দুরুপিনার ফরমেশনটি নূহের নৌকার ধ্বংসাবশেষ কি না।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ২২শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১০ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page