June 27, 2026, 4:07 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলি ও ভারতীয় মাদক সিরাপ উদ্ধার মাগুরায় ওয়াইফাই ব্যবসা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ; সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি মালয়েশিয়া ও চীন সফরে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছি : প্রধানমন্ত্রী বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মানুষদের অন্যদের মতোই সমঅধিকার দেবে সরকার : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী নিজ দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে সবার সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ : তথ্য উপদেষ্টা ফরিদপুরে কলেজ শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা লালমনিরহাটে দুই পুলিশকে কুপিয়ে পালালো আসামি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করলো বুরকিনা ফাসো নিজের ছবিযুক্ত নতুন পাসপোর্ট উন্মোচন করলেন ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েন পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র বিতর্ক

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নদী ও জলাভূমি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাধা থাকায় সেখানে কুমির ও বিষধর সাপ মোতায়েনের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

 

সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এর বড় অংশ নদী, পাহাড় ও নিচু জলাভূমি হওয়ায় অনেক জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব হয়নি। কোথাও জমি অধিগ্রহণের জটিলতা, কোথাও আবার স্থানীয় জনগণের বিরোধিতা—সব মিলিয়ে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে।

 

এই অবস্থায় নদীপথকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কুমির ও বিষধর সাপ ব্যবহার করার মতো ধারণা সামনে আসায় মানবাধিকারকর্মী ও পরিবেশবিদদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের নামে এমন প্রাণঘাতী পদ্ধতি গ্রহণ মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ করতে প্রাণী ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত নয় এবং এতে সাধারণ মানুষই বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

 

তাদের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের অনেক সময় ভুলভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আখ্যা দিয়ে হয়রানি করা হয়। নতুন এই পরিকল্পনা সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।

 

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কৃত্রিমভাবে নদীতে কুমির বা বিষধর সাপ ছেড়ে দিলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হতে পারে। অনেক এলাকায় এই প্রাণীগুলোর স্বাভাবিক বসবাস নেই। ফলে তারা টিকে থাকতে না পেরে অন্যত্র চলে যেতে পারে, যা আশপাশের গ্রাম ও জনবসতির জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

 

তাদের মতে, সীমান্তের জলাভূমি ও নদী এলাকা প্রাকৃতিকভাবেই সংবেদনশীল। সেখানে যেকোনো অস্বাভাবিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর।

বিশ্বের কোথাও আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রাণীকে নিরাপত্তা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করার কোনো নির্ভরযোগ্য নজির নেই। তবে অতীতে কিছু দেশে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কিত নানা ধারণা সামনে এলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রযুক্তি, নজরদারি ব্যবস্থা এবং কূটনৈতিক সমাধানই কার্যকর পথ হতে পারে, প্রাণী ব্যবহার নয়।

আজকের বাংলা তারিখ



Our Like Page