September 1, 2026, 12:21 pm
এইমাত্রপাওয়াঃ

বিশ্বাসযোগ্য’ সব এপস্টিন নথি প্রকাশ করা উচিত’ : ট্রাম্প

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে নিয়ে বিচার বিভাগের তদন্তে যেসব ‘বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য রয়েছে, তা প্রকাশ করা উচিত। এপস্টিন ইস্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের নিজের রক্ষণশীল সমর্থকদের ভেতরে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে এমন সময় তার এই বক্তব্য এলো।

ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধনী ও প্রভাবশালীদের রক্ষায় এপস্টিন-সম্পর্কিত কেলেঙ্কারির তথ্য চাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবারই সবচেয়ে বড় সমর্থন বিভাজনের মুখে পড়েছেন তিনি।

হোয়াইট হাউজে এপস্টিন মামলার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি বিষয়টি খুব ভালোভাবে সামলেছেন। এটা তার ওপর নির্ভর করছে। তিনি যা বিশ্বাসযোগ্য মনে করবেন, তা তিনি প্রকাশ করবেন।’

তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এপস্টিন-সংক্রান্ত এইসব নথি মূলত তার ডেমোক্র্যাটিক পূর্বসূরিদের ‘বানানো’। যদিও নির্বাচনের সময় একাধিকবার তিনি বলেছিলেন, এইসব নথি তিনি ‘সম্ভবত’ প্রকাশ করবেন।

ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার পূর্ববর্তী অবস্থানের এক ধাপ নমনীয় রূপ। এর আগে তিনি ওভাল অফিসে ও অনলাইনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, এপস্টিন নিয়ে তার সমর্থকদের এই আগ্রহ তিনি বুঝতে পারছেন না এবং তারা যেন এই বিষয়টি থেকে এগিয়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি না, কেন জেফ্রি এপস্টিনের ঘটনা কারো আগ্রহের বিষয় হবে। এটা খুবই  বিরক্তিকর বিষয়।’

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের অনুগত অংশের বহুদিন ধরেই বিশ্বাস যে, ডিপ স্টেটের অভিজাতরা এপস্টিনের ডেমোক্র্যাট ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী বন্ধুদের রক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

এপস্টিন ইস্যুতে ষড়যন্ত্রমূলক নানা তত্ত্বকে তার প্রশাসন কার্যত নাকচ করে দেওয়ার পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে।

এফবিআই ও বিচার বিভাগ এ মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক স্মারকে জানায়, তারা কোনো ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ বা ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত প্রমাণ খুঁজে পায়নি। তারা আরও জানায়, এপস্টিনের মৃত্যুর কারণ ছিল আত্মহত্যা, এবং তদন্ত-সম্পর্কিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হবে না।

এই প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এপস্টিন-সম্পর্কিত বিভিন্ন ডানপন্থী ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সরাসরি অস্বীকার করা হলো। অথচ এর আগে, এমনকি ডানপন্থীদের নিয়োগ করা শীর্ষ এফবিআই কর্মকর্তারাও এসব তত্ত্ব উসকে দিয়েছিলেন।

এই ইস্যুতে প্রশাসনের অভ্যন্তরেও বিভাজন দেখা গেছে। পাম বন্ডি ও এফবিআই’র ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যান বংগিনোর মধ্যে বিস্ফোরক বাক-বিতণ্ডা হয়েছে বলে জানা গেছে। বংগিনো পদত্যাগের কথাও ভাবছেন।

ট্রাম্পের নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া সমর্থকদের ক্ষোভ প্রশমনে ব্যর্থ হয়েছে। ডানপন্থী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এখনো তাঁকে তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন।

এমনকি ফক্স নিউজ উপস্থাপক ও ট্রাম্পের পুত্রবধূ লারা ট্রাম্পও প্রশাসনের কাছ থেকে ‘আরও স্বচ্ছতা’ দাবি করেছেন।

মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় মিত্র, স্পিকার মাইক জনসনও মঙ্গলবার এপস্টিন ইস্যুতে প্রশাসনের তথ্য প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বেনি জনসনের ইন্টারনেট শোতে তিনি বলেন, ‘সবকিছু প্রকাশ করা হোক, জনগণ সিদ্ধান্ত নিক।’

তিনি পাম বন্ডি যেন তার বক্তব্যে অসঙ্গতির কারণ ‘ব্যাখ্যা দিতে এগিয়ে আসেন’।

বন্ডি গত ফেব্রুয়ারিতে ফক্স নিউজকে বলেছিলেন, তার ডেস্কে এপস্টিনের ‘ক্লায়েন্ট তালিকা’ রয়েছে পর্যালোচনার জন্য, কিন্তু পরে তিনি আবার বলেন, এমন কোনো তালিকা আসলে নেই।

২০১৯ সালে নিউইয়র্কের এক কারাগারে এপস্টিন আত্মহত্যা করেন। তার বিরুদ্ধে নাবালিকাদের যৌন উদ্দেশ্যে পাচারের অভিযোগ ছিল।

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এপস্টিন-সম্পর্কিত নথি প্রকাশে ‘কোনো সমস্যা’ দেখেন না।

জিজ্ঞেস করা হলে যে, এপস্টিনুসংক্রান্ত কোনো নথিতে তাঁর নাম আছে কি না, ট্রাম্প বলেন, ‘না’, এবং যোগ করেন, বন্ডি তাকে ‘খুব সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করেছেন।’

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page