October 29, 2026, 4:26 pm
শিরোনামঃ
বিশ্বের শ্রমবাজারে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি ও ভাষা শিক্ষায় গুরুত্বারোপ রাষ্ট্রপতির ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আসবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার : আইনমন্ত্রী সায়মা ওয়াজেদের সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ মুন্সীগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষ ও হামলায় টেঁটাবিদ্ধসহ ৯ জন আহত ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে তিন ভারতীয় নাগরিকসহ ৮ জন আটক বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন তরুণদের জ্ঞান-বিশ্বাস-আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান মোজতবা খামেনির এক রাতে মস্কোতে ৬১৩ ইউক্রেনীয় ড্রোন ; পাল্টা হামলা রাশিয়ার যশোরের ঝিকরগাছায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যুবক খুন
এইমাত্রপাওয়াঃ

ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয় : হাইকোর্ট

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে অধস্তন আদালতের দেওয়া পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ শীর্ষক মামলার প্রেক্ষিতে এ রায় দেওয়া হয়। মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম। আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট হিন্দু দায়ভাগা আইনের অধীনে বিধবা নারীর অধিকার ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ওই সম্পত্তির অধিকার পান। যদিও এই সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা সীমিত, তবে তিনি তা কারও কাছে হস্তান্তর করলে যে কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন না।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, কেবল তিনিই এই হস্তান্তরের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন, যিনি বিধবার মৃত্যুর পর ওই সম্পত্তির পরবর্তী প্রকৃত উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার আইনি যোগ্যতা রাখেন। সম্পত্তিতে যার বর্তমান বা ভবিষ্যতে কোনো আইনগত স্বার্থ নেই, তিনি ‘আইনগত প্রয়োজনে হস্তান্তর করা হয়নি’—এমন যুক্তি দেখিয়ে আদালতে মামলা করার এখতিয়ার রাখেন না।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে নিজ অর্থে ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। বাবার জীবদ্দশাতেই ছেলে সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাসও মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে ওই জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করে দেন। কিন্তু এই বিক্রয় দলিলটি জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে উত্তরাধিকার স্বত্ব চেয়ে দেওয়ানি মামলা করেন মৃত রামকান্তের মেয়ে শৌল বালা দাস।

সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনি বাধ্যবাধকতা বিশ্লেষণ করে ২০০০ সালের ২২ জুন পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত শৌল বালার মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিল করলে ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সেটিও খারিজ হয়। অধস্তন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদীপক্ষ ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করে। ওই বছরই হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ জুলাই জারি করা সেই রুল খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল রাখলেন হাইকোর্ট।

আজকের বাংলা তারিখ

  • ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১৭ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮


Our Like Page