March 10, 2026, 10:53 pm
শিরোনামঃ
৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ রাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ ফ্যামিলি কার্ড : অর্থমন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : বাণিজ্যমন্ত্রী নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু গোপালগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য আইফোন ছিনিয়ে বন্ধুকে হত্যা হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অত্যাধুনিক ক্লাস্টার ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি করেছে ইরান আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা টিকবেন না : ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

ভারত ও চীন কি যুক্তরাষ্ট্রের তেল নিষেধাজ্ঞা মানবে নাকি উপেক্ষা করবে ?

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার দুটি প্রধান তেল কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বিশ্ববাজারে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—অন্য দেশগুলো, বিশেষত চীন ও ভারত, এই নিষেধাজ্ঞা মানবে নাকি উপেক্ষা করবে?

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন রাশিয়ার প্রধান দুটি তেল কোম্পানি—রোসনেফট ও লুকঅয়েল—এর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য প্রধান প্রশ্ন হলো: তিনি কি বিশ্বকে বোঝাতে পারবেন যে, তারা যেন রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করে?

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা’র উদ্ধৃতি দিয়ে পার্স টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক গবেষণা সংস্থা RUSI-এর আর্থিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের পরিচালক টম কিটিং মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার প্রভাব ইউরোপীয় ইউনিয়নের ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি হয়েছে। তার মতে, “ট্রাম্প এমন বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন যা অন্যরা এড়িয়ে যান; এই নিষেধাজ্ঞাগুলো হতে পারে গেম-চেঞ্জার।”

নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল ক্রয়কারী কোম্পানিগুলো ডলারের ভিত্তিতে পরিচালিত বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবে না। এর ফলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসবে চীন ও ভারতের ওপর—দুটি দেশই ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে যায়। খবর আসে যে, ভারতের কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর বিশ্লেষক লুক উইকেন্ডেন বলেছেন, এশীয় বাজারে এই পতন রাশিয়ার রপ্তানি আয়ের জন্য ভয়াবহ হবে। তার হিসাব অনুযায়ী, চীন ও ভারতের বাজার হারালে রাশিয়া মাসে প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় এবং ৩.৬ বিলিয়ন ডলার কর রাজস্ব হারাবে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপে চীন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বেইজিং ট্রাম্প প্রশাসনকে “একতরফা জবরদস্তি ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের” অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং সতর্ক করেছে যে, জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় কমাবে এবং যুদ্ধের অবসান কামনা করে। তবে ভারত সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞা কেবল রাশিয়ার অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে নয়; এটি ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোরও কৌশল।

রাশিয়ার গ্যাস পাইপলাইন বন্ধ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন ইউরোপের সবচেয়ে বড় তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহকারী। গত বছর ইউরোপের আমদানিকৃত মোট এলএনজির ৫৫ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে—যা ২০১৯ সালে প্রায় শূন্য ছিল।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের শুরুতে রাশিয়ার গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবুও ইউরোপের কিছু দেশ এখনো রাশিয়া থেকে তরল গ্যাস ক্রয় করে রাশিয়ার রাজস্ব প্রবাহ বজায় রাখছে।

ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূলত দুটি লক্ষ্য রয়েছে—  রাশিয়ার আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করা এবং  যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি বাজার শক্তিশালী করা।

বিশ্ববাজারে এই কৌশলের প্রভাব কতটা গভীর হয়, তা নির্ভর করছে চীন ও ভারতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

আজকের বাংলা তারিখ

March ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Feb    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  


Our Like Page