September 7, 2026, 4:23 pm
শিরোনামঃ
মাগুরায় বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সংঘাত ও প্রতিশোধ নয় বরং সহনশীল রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে হবে : রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের একজন ডেপুটি ও দুজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ এক উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট একসঙ্গে হবে : ইসি সচিব ‘রাজশাহীতে দেশবাসী তৈরি হও’ স্লোগানে যুবলীগের মিছিল যশোরে যুবকের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার সৌদি আরবে এক সপ্তাহে ১৪ হাজারের বেশি অভিবাসী আটক জ্বালানি তেল কিনতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এবার রাশিয়ার তোপের মুখে ভারত  দক্ষিণ কোরিয়াকে ইরানের হুঁশিয়ারি ; যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে কোনো ছাড় নয়
এইমাত্রপাওয়াঃ

মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অধ্যাপক ইমতিয়াজকে অব্যাহতি

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নেয়।

সোমবার (১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষাসচিব সোলেমান খান প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১১ এপ্রিল অধ্যাপক ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ সেন্টার; সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক পদ থেকে এবং ১৩ এপ্রিল অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ইমতিয়াজ রচিত ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের বিষয় উদ্‌ঘাটনের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়। সভা মনে করে, তার গ্রন্থে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পরিবেশিত কতিপয় তথ্য অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ইতিহাসের বিকৃতি। সভায় উল্লিখিত গ্রন্থে অসত্য তথ্য পরিবেশন ও ইতিহাস বিকৃতির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে ও অধ্যাপক ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে গ্রন্থটির লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং প্রকাশক ইউপিএলকে গ্রন্থটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সভা থেকে আহ্বান জানানো হয়।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অধ্যাপক ইমতিয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত আমাকে জানানো হয়নি। আমি এই ধরনের কোন কথা এখন পর্যন্ত শুনিনি। সিদ্ধান্তের বিষয়ে না জেনে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে পারবো না।

গত ২৯ মার্চ একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কলামে ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ শীর্ষক বইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

২ এপ্রিল ইমতিয়াজ আহমেদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ এবং একটি উচ্চক্ষমতার তদন্ত কমিটি গঠন করে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এরপর ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ফকরুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ৬ এপ্রিল উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

৭ এপ্রিল এক বিবৃতিতে অভিযোগ তদন্ত করে অধ্যাপক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা। এমন প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক পদ থেকে এবং ১৩ এপ্রিল অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ২ এপ্রিল রাতে একটি বিবৃতি পাঠান ইমতিয়াজ আহমেদ। সেখানে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় তিনি আশ্চর্য হয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যে বইটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে সংঘটিত জেনোসাইডের বিচার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনোসাইড স্টাডিজ সেন্টার প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে রচিত, তাতে ১৯৭১ সালের জেনোসাইডকেই অস্বীকার কিংবা এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখানো কীভাবে সম্ভব? প্রকৃতপক্ষে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় আমি আশ্চর্য হয়েছি। আমি মনে করি, কোথাও বইয়ের কোনো কোনো অংশ বুঝতে ভুল হয়েছে কিংবা ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে।’

মুচলেকার শর্তে ঢাবি শিক্ষকের ক্ষমা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লার ফেসবুক পেজে ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক’ নিয়ে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মুচলেকার শর্তে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট।

রোববার (৩০ এপ্রিল) অধ্যাপক আমানুল্লাহর ওই পোস্টকে ‘মনগড়া ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হলে সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়৷

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক আমানুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট পাঠ্যপুস্তক, সরকারের শিক্ষানীতি ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করার একটি অপপ্রয়াস। তিনি ইতিমধ্যে তার কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ও আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন সভায় মঞ্জুর করা হয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page