অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর অভিযোগে পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ডিবি পুলিশের পোশাক, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, ভুয়া আইডি কার্ডসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জেলার ত্রিশাল উপজেলার মো. সারোয়ার হোসেন (২৪), মো. রাকিবুল হাসান রনি (২৪), মো. শাহাদত হোসেন নয়ন (৩০), মো. সারোয়ার আলম (২৪) ও মো. আশরাফুল আলম (২৩)। তারা জেলার ত্রিশাল থানা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১০টার দিকে ডিবি পুলিশের পোশাক পরে রঘুনাথপুর মধ্যপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের নাটক সাজায় ওই চক্র। এ সময় তারা কামাল ও হারুন নামে দুই ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে গ্রেফতার করে এবং পরে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়। টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ওই ব্যক্তিদের ঘেরাও করেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন স্থানীয়রা।
পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি হাতকড়া, একটি ওয়াকিটকি, দুটি ডিবি পুলিশের জ্যাকেট, ডিবি পুলিশের পাঁচটি ভুয়া আইডি কার্ড, সাতটি ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানার কাগজপত্র, একটি মনিটরসহ ডেস্কটপ কম্পিউটার ও একটি কালার প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়। তাদের সঙ্গে থাকা সাতটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এই চক্রটি ডিবি পুলিশের পোশাক পড়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণা করে আসছিল।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সাইফ বলেন, দিনের বেলায় টার্গেট নির্ধারণ করে রাতে তারা অভিযান পরিচালনা করতো। কখনো মাদকবিরোধী অভিযান, আবার কখনো রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতারের নামে তারা টাকা হাতিয়ে নিত। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও সদস্য জড়িত আছে বলে ধারণা করছি। চক্রের অন্য সদস্যদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।