অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : সব ধরনের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের ওপর গুলি চালানোর পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) পরিচালক জোসেফ এডলো বলেন, প্রতিটি বিদেশি নাগরিককে চূড়ান্ত যাচাই নিশ্চিতের আগ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সেনাকে গুলি করেন আফগানিস্তানের এক অভিবাসী। এরমধ্যে এক সেনা মারা গেছেন। ওই গুলির ঘটনার জেরে এ সিদ্ধান্ত নিলো মার্কিনিরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসী নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের আওতাধীন ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কোনও দেশের আশ্রয় আবেদন অনুমোদন অথবা বাতিল না করেন।
নির্দেশনায় বলা ছিল, সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে পৌঁছালে থামুন এবং অপেক্ষা করুন।
তবে আবেদন যাচাই বাচাইয়ের কাজ তারা চালিয়ে যেতে পারবেন। শুধুমাত্র সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে কর্মকর্তাদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইউএসসিআইএস জানায়, তারা ১৯টি দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনকারী ব্যক্তিদের ইস্যু করা গ্রিন কার্ড পুনরায় পরীক্ষা করবে। এ নির্দেশনায় বুধবারের গুলির ঘটনার উল্লেখ ছিল না।
এদিকে, তৃতীয় বিশ্বের সব দেশের কথা বললেও ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে কোনো দেশের কথা উল্লেখ করেননি। ধারণা করা হচ্ছে, তার এ সিদ্ধান্ত ব্যাপক আইনি বাধার মুখে পড়বে। এছাড়া এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা ও চাপের মুখেও পড়বেন তিনি।
ইতিমধ্যে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই অভিবাসনে লাগাম টানার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। তার প্রশাসন অনেক অভিবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। এরসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনও বাতিলের চেষ্টা করছেন তিনি।