অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার হত্যার ক্লুলেস মামলার ৪ বছর পর প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিরাজগঞ্জ পিবিআই। আসামির ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে গ্রেফতারে সময় লেগেছে বলে জানায় পিবিআই।
চলতি মাসের ২০ তারিখে খুলনা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামী রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে সিরাজগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় হ্যাপী। আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেজাউল করিম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে রোববার খুলনা থেকে হত্যা মামলার মূল আসামি রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে গ্রেফতার করে পিবিআই। পরে সিরাজগঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয় হ্যাপী। তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৮ মার্চ নাটোর কিষোয়ান এগ্রোর ট্রাকচালক সাহাব উদ্দিন (৫০) ও হেলপার ইলিয়াস (২০) ঢাকার মেঘনা ফ্রেস কোম্পানী থেকে ৬০ ড্রাম পাম্প তেল নিয়ে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে চোরাই তেল চক্রের খপ্পরে পড়েন ড্রাইভার ও হেলপার।
পরে তাদের হত্যা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়িতে ত্রিপল দিয়ে ট্রাক ঢেকে রেখে ৪৪ ড্রাম তেল নিয়ে পালিয়ে যায় চক্রটি। পরবর্তীতে কিষোয়ান এগ্রোর পক্ষে মো: মামুন হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে মামলাটি তদন্ত পিবিআইর উপর ন্যাস্ত হয়।
পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া জানান, তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মামলাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটনপূর্বক ৫ (পাঁচ) আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য মতে ১৯ ড্রাম পাম্প তেল উদ্ধার করা হয়।
তবে ঘটনার মূল আসামির প্রকৃত ঠিকানা না পাওয়ায় ওই সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পরবর্তীতে আরও গভীর তদন্তে চুয়াডাঙ্গা আলোকদিয়া থানার রফিকুল ইসলাম হ্যাপীকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
তবে হ্যাপীর ঘন ঘন স্থান পরিবর্তনের কারণে তাকে গ্রেফতার করতে খানিকটা সময় লাগে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
সবশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২০ নভেম্বর খুলনা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত হ্যাপী লোহার রড দিয়ে ড্রাইভার সাহাব উদ্দীন ও হেলপার ইলিয়াসকে পিটিয়ে হত্যা করেন বলে ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে আদালতকে বলেছেন।
Leave a Reply