February 14, 2026, 2:55 pm
শিরোনামঃ
মাগুরায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আনসার ও ভিডিপি বাহিনী দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন সংবিধান অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি: মন্ত্রিপরিষদ সচিব গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে সবাই এখন মুক্ত : তারেক রহমান নির্বাচন পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ; সড়কে ফিরেছে সব যানবাহন বিএনপিকে বিজয়ী মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেন জামায়াতের আমির চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে নিখোঁজের ৭ দিন পর খালে ভেসে উঠলো যুবকের মরদেহ বগুড়ায় বোনকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়া ছাত্রদল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা চাঁদপুরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় নিজ দলীয় কর্মীদের পুলিশে দিলেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপি নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতায় বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত নেপালে নির্বাচনের আগে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিশাল সমাবেশ
এইমাত্রপাওয়াঃ

গত এক বছরে দেশে কোটিপতি বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার  ; বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক দেশের ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকা বা তার বেশি অঙ্কের আমানতকারীর হিসাব বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষের সঞ্চয় কমলেও বড় অঙ্কের জমা বাড়ছে উল্টো গতিতে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকে কোটি টাকা বা তার বেশি জমা আছে–এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব এখন ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আগের সঞ্চয় খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে ছোট অঙ্কের আমানত কমছে। বিপরীতে সমাজের একটি শ্রেণির আয়-সম্পদ বাড়ছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও সম্পদশালীদের সম্পদ বৃদ্ধির গতি কমেনি– কোটিপতি হিসাবের প্রবৃদ্ধিই তার ইঙ্গিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৭টি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। এক বছরে বৃদ্ধি ১০ হাজার ৯৪৩টি– হার ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় অঙ্কের সব কোটায় হিসাব বেড়েছে; শুধু ২৫–৩০ কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাব কিছুটা কমেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এই ক্যাটাগরিতে ছিল ৯৬৮টি হিসাব, এবার কমে দাঁড়িয়েছে ৮৯৪টিতে।

বিশেষজ্ঞদের মত, জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের প্রবৃদ্ধি সঞ্চয় করার সুযোগ তৈরি করলেও প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের নির্দিষ্ট একটি শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে কোটিপতির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এই পরিসংখ্যানে শুধু ব্যাংকে জমা থাকা অর্থই ধরা হয়; অন্যান্য সম্পদ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

এদিকে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর–তিন প্রান্তিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছে। এপ্রিল–জুন প্রান্তিকে আমানত বৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ; জুলাই–সেপ্টেম্বরে নেমে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭৩ শতাংশে– এই সময়ে প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন। ব্যবসা–বাণিজ্যে মন্দার কারণে চলতি হিসাবের আমানত প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। গ্রামে আমানত প্রবাহ কমায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

তবে মেয়াদি আমানত বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ। এতে ব্যাংকের সার্বিক তারল্যচিত্র উন্নত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ঋণপ্রবাহেও একই পরিস্থিতি। জানুয়ারি–মার্চে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, জুলাই–সেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশে। শহরে ঋণপ্রবাহ সামান্য বাড়লেও গ্রামে টানা তিন প্রান্তিক ধরে তা কমছে- সর্বশেষ প্রান্তিকে কমেছে শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ।

তথ্য বলছে, ১৯৭২ সালে ব্যাংক খাতে মাত্র পাঁচজন কোটিপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে তা পৌঁছায় ১৯ হাজারে। বর্তমানে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈধ উপায়ে কোটিপতি বাড়া অর্থনীতির ইতিবাচক দিক। তবে কোথাও যদি কালো টাকার সম্পৃক্ততা থাকে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট জাহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠীর অর্থপাচারের সুযোগ কমেছে। ফলে তারা বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকে অর্থ রাখছেন। পাশাপাশি অস্থির সময় ব্যাংক থেকে যারা টাকা তুলে নিয়েছিলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবার ব্যাংকে জমাচ্ছেন। এতে সার্বিক আমানত বেড়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ

February ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jan    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮  


Our Like Page