স্বামী ফজলুল মণ্ডল ও স্ত্রী শেফালী বেগম
অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে আলোচিত স্বামী–স্ত্রীর মুখোমুখি নির্বাচনী লড়াইয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় পার্টি–এর প্রার্থী কে এম ফজলুল মণ্ডলের করা আপিলের পর তার সহধর্মিণী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত দেয়।
এর আগে একই আসনে ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে স্বামী ও স্ত্রীর প্রার্থী হওয়া নিয়ে স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকে কে এম ফজলুল মণ্ডল এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির হয়ে শেফালী বেগম মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ফজলুল মণ্ডল নির্বাচন কমিশনে আপিল করে অভিযোগ করেন, শেফালী বেগম সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরি ছাড়ার পর নির্ধারিত সময় পূর্ণ না হওয়ায় তার প্রার্থিতা আইনসম্মত নয়। আপিল শুনানি শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কমিশন শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
মনোনয়ন বাতিলের প্রতিক্রিয়ায় শেফালী বেগম বলেন, তার প্রার্থিতার বিরুদ্ধে আপিল ও শুনানির বিষয়ে তিনি আগে কিছুই জানতেন না। তার দাবি, চার বছর আগে স্বেচ্ছায় শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন, ফলে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় টেনে এনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। আইনগতভাবে এখনো তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে ফজলুল মণ্ডল দাবি করেন, তাদের মধ্যে ইতোমধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক স্ত্রীর প্রার্থিতা আইনসম্মত না হওয়ায় তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিলেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই কুড়িগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা চলছিল। মনোনয়ন বাতিলের ঘটনায় সেই আলোচনায় যুক্ত হলো আইনি জটিলতা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত, যা এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে।
এই আসনে আপিল শুনানি শেষে আটজন প্রার্থীর মধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শেফালী বেগমের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বাকি প্রার্থীরা হলেন—মো. রুকুনুজ্জামান (স্বতন্ত্র), বিএনপির আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর মোস্তাফিজুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর মাওলানা হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির কে এম ফজলুল মণ্ডল, বাসদ (মই)–এর আব্দুল খালেক এবং বাসদ (কেচি)–এর রাজু আহম্মেদ।
চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬২ হাজার ৭৫৩। এর মধ্যে চিলমারীতে এক লাখ ১২ হাজার ৬০০, রৌমারীতে এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৭ এবং রাজিবপুরে ৬৮ হাজার ৬৭৬ জন ভোটার রয়েছেন।