অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আফ্রিকার নেতারা ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি তাদের সংহতি ঘোষণা করেছেন।
পার্সটুডে জানিয়েছে, শীর্ষ সম্মেলনের চূড়ান্ত বিবৃতিতে, আফ্রিকার নেতারা ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে তাদের পূর্ণ সংহতি ঘোষণা করে, তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের উপর জোর দিয়েছেন এবং তাদের ভূমি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করেছেন।
আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সংখ্যাগরিষ্ঠের দাবি অনুসারে আমরা জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পূর্ণ সদস্যপদ দাবি করছি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: ফিলিস্তিনি জনগণকে মিশর বা জর্ডানে স্থানান্তরিত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
আফ্রিকার ইউনিয়নের নেতারা ঘোষণা করেছেন: আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং দখলদারিত্বের অবসানের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতির ঘোষণা দিচ্ছি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে: অবরোধ ও মানবিক সাহায্য প্রবেশে বাধার কারণে গাজার মানবিক পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে আমরা সতর্ক করছি।
১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি ইথিওপিয়ায় আয়োজিত ৩৯তম আফ্রিকান ইউনিয়ন শীর্ষ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আফ্রিকান নেতাদের সংহতি ঘোষণার বিষয়টি ঐতিহাসিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই অবস্থান কেবল একটি প্রতীকী প্রতিক্রিয়া নয়, বরং উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষার উত্তরাধিকারের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনি ইস্যুর প্রতি অনেক আফ্রিকান দেশের মনোভাবের প্রতিফলন। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো আফ্রিকান মুক্তি নেতারা বারবার ফিলিস্তিনিদের উদ্দেশ্যকে সমর্থন করেছেন এবং ইসরায়েলি দখলকে বর্ণবাদের সাথে তুলনা করেছেন।
আরেকটি বিষয় হল আফ্রিকান ইউনিয়নের বিশ্ব রাজনীতিতে একটি স্বাধীন খেলোয়াড় হিসেবে তার অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়গুলিতে সংহতি জানিয়ে বিবৃতি জারি করার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি প্রমাণ করতে পারে যে আফ্রিকা কেবল বিদেশী শক্তির মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, বরং তাদের একটি স্বাধীন অবস্থান এবং কণ্ঠস্বর রয়েছে। যেহেতু বিশ্ব শক্তিগুলো আফ্রিকা মহাদেশে প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রতিযোগিতা করে, তাই বিশ্বব্যাপী সংকটের বিষয়ে নীতিগত অবস্থান গ্রহণ আন্তঃমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংহতিকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
অনেক আফ্রিকান দেশের জনমতও এই অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় গোষ্ঠী এবং তৃণমূল সংগঠনগুলি প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেছে। বেশ কয়েকটি আফ্রিকান দেশের মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তাদের সমর্থন প্রদর্শন করেছে, একই সাথে গাজা যুদ্ধের সময় গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভূতপূর্ব অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে। এই কারণে, ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেয়া বিবৃতি কেবল বহির্বিশ্বের কাছে একটি কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং অভ্যন্তরীণ দাবির প্রতিও প্রতিক্রিয়া।