অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কিশোরগঞ্জ জেলা সদরের মহিনন্দ চড়পাড়া গ্রামে এবার সাদা ফুলকপির পাশাপাশি দেখা মিলছে হলুদ, বেগুনি, কমলা, সবুজ ও লাল রঙের ফুলকপি। ভিন্নধর্মী এই চাষে বেশ লাভবান হয়েছেন স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ মোকাররম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মহিনন্দ ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে কৃষকের ক্ষেতে রঙিন এই ফুলকপি শুধু চোখের আরামই দেয় না, পুষ্টিগুণেও তৈরি করেছে আলাদা পরিচয়। অনেকেই মনে করেন এগুলো কৃত্রিমভাবে রং করা, কিন্তু বাস্তবে এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই ভিন্ন জাতের ফুলকপি।
সব ধরনের ফুলকপিই কম ক্যালোরিযুক্ত এবং ফাইবার, ভিটামিন সিওকে-তে সমৃদ্ধ। বিশেষ করে বেগুনি ও কমলা জাতের ফুলকপিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি থাকায় তা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি চোখের যত্নেও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির দাম কিছুটা বেশি। যেখানে সাদা ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি, সেখানে রঙিন ফুলকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষ এখনও সীমিত হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও বাড়ছে। শহরের সুপারশপ ও বিশেষ সবজির দোকানগুলোতেও রঙিন ফুলকপির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ লক্ষণীয়। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।
কৃষক মোহাম্মদ মোকাররম বলেন, “আমি ৩০ শতাংশ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো বিক্রি করেছি। নিজে পরিশ্রম করায় খরচও তুলনামূলক কম হয়েছে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে এই রঙিন ফুলকপি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে”৷
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়নুল আলম তালুকদার এ প্রতিবেদককে বলেন, “শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। এ বছর প্রায় ৭০০ হেক্টর জমিতে সবজি উৎপাদন হয়েছে। সবজি চাষকে বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে আমরা রঙিন ফুলকপি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি। সাদা ফুলকপির তুলনায় রঙিন ফুলকপির বাজারমূল্য বেশি। পাশাপাশি পুষ্টিগুণেও এগুলো সমৃদ্ধ এবং স্বাদেও ভিন্নতা রয়েছে”৷
তিনি আরও বলেন, “রঙিন ফুলকপি একটি উচ্চমূল্যের সবজি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কৃষকরা ভালো লাভবান হতে পারেন। আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি”৷