অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট-এর রায়কে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে রায় প্রদানকারী বিচারকদের ‘লজ্জা হওয়া উচিত’ বলেও কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তিনি।
শুক্রবার সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করে। ৯ বিচারপতির মধ্যে ৬ জন রায়ের পক্ষে মত দেন। রায় ঘোষণার কিছু সময় পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, “সুপ্রিম কোর্টের যে সদস্যরা আমাদের গ্রহণযোগ্য ও সঠিক শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাদের নিজেদের জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত। তাদের সিদ্ধান্ত হাস্যকর। তবে এখন সমন্বয় প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি রাজস্ব আদায়ে কাজ করব।”
রায়ের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, আদালতের কিছু বিচারপতির মধ্যে দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসের অভাব রয়েছে। তাদের রায়ে দেশপ্রেম ও সংবিধানের প্রতি বিশ্বস্ততার ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে তার প্রশাসনের আলোচনা ছিল ‘খুবই বিনয়ী’ এবং আদালতের সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারে— এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
নিজের শুল্কনীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় মহান করে তুলতে গত এক বছরে শুল্ককে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছি। আমার ক্ষমতায় আসার পর শেয়ারবাজার চাঙা হয়েছে। ডাও ও এসঅ্যান্ডপি সূচক উল্লেখযোগ্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা অনেকের কাছেই কল্পনাতীত ছিল।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, শুল্কনীতি জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং শক্তিশালী সীমান্ত ব্যবস্থার সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশে ফেন্টানাইল প্রবেশ ৩০ শতাংশ কমিয়েছে।
তবে আদালতের রায়ের ফলে তার প্রশাসন এখন বিকল্প পথ অনুসন্ধান করবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।