অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ফিলিস্তিনের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের করণীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, সৌদি আরবের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ আল-খরেইজি, তুরস্ক ও গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশ অতীতের মতোই সোচ্চার থাকবে।
ওআইসি নেতারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে নতুন সরকারের বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে দ্রুত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানান তারা। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ওআইসির নির্বাহী বৈঠকের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ড. খলিলুর রহমান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বহুমাত্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানান। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় তুরস্কের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এ সংকটের দ্রুত সমাধানে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয় দুই দেশ। এ সময় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানকে রমজানের পর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণপত্র দেওয়া হয়।
সৌদি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং ‘ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশের জন্য বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন। জবাবে বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্বে নির্বাচিত হলে ফিলিস্তিনের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় আরব-ইসলামি দেশগুলো বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করবে বলে জানানো হয়।
গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার উদ্যোগ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. খলিলুর রহমান। বাগদাদে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়।