অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান লন্ডনে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন।
পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই পদের জন্য বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।
২৬তম কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে (সিএফএএমএম) বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ড. খলিলুর রহমান। লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউসে আয়োজিত এই সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. খলিলুর রহমান কানাডার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি রবার্ট অলিফ্যান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী আলভিন বোটেস, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ই. পি. চেট গ্রিন এবং ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুডজেটো অ্যাবলাকওয়ার সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন।
এছাড়া সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলের প্রধানদের সঙ্গেও তার বেশ কিছু অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়।
বৈঠকগুলোতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতার পক্ষে সমর্থন চান। এ সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা তাকে ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, লন্ডনের এই সম্মেলনকে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে বিশ্বজুড়ে জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে ঢাকা।
২০২৬-২০২৭ মেয়াদের এই পদের জন্য বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে মনোনীত করেছে। ফিলিস্তিন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় এখন এই পদের জন্য কেবল সাইপ্রাসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ। আগামী ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছিল। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবে-তে ‘কমনওয়েলথ দিবস’ উদযাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং সেন্ট জেমস প্রাসাদে আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।
কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করেন।