ফারুক আহমেদ, মাগুরা : মাগুরার শালিখা উপজেলার তালখড়ি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক টেলিভিশন সাংবাদিক ও তার ক্যামেরাপারসন। এ ঘটনায় শালিখা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চ্যানেল এস-এর মাগুরা জেলা প্রতিনিধি রাজিব হোসেন মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তালখড়ি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সেখানে জয়নাব খাতুন কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে রোগী দেখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার সহযোগী হিসেবে সোহাগ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক রাজিব হোসেন ও তার ক্যামেরাপারসন মো. আশিকুর রহমান শিপন ভিডিও ধারণ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় জয়নাব খাতুন ও তার সহযোগী তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং একটি মোবাইল ফোন ও একটি মাইক্রোফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় গ্রামপুলিশ তরিকুল ইসলাম, এস আলমসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা খুন-জখমের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক রাজিব হোসেন শালিখা থানায় জয়নাব খাতুন (৪৫) ও সোহাগ হোসেন (২৩)-এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
রাজিব হোসেন বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও চ্যানেল ১৮-এর জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, তালখড়ি সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে কথিত ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে রোগী দেখা এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের মারধর ও পেশাগত কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।