March 11, 2026, 5:51 am
শিরোনামঃ
৫ বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছাবে ফ্যামিলি কার্ড : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ রাষ্ট্র পরিকল্পনার প্রথম পদক্ষেপ ফ্যামিলি কার্ড : অর্থমন্ত্রী নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : বাণিজ্যমন্ত্রী নিরাপদ ও সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার : সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত জামায়াত নেতার মৃত্যু গোপালগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য আইফোন ছিনিয়ে বন্ধুকে হত্যা হরমুজ প্রণালি দখলে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে অত্যাধুনিক ক্লাস্টার ওয়ারহেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহু নিহতের দাবি করেছে ইরান আমার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন নেতা টিকবেন না : ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

অংশীদারিত্ব রক্ষায় চীন সফরে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্কের কয়েক বছর পর ‘বাস্তববাদী’ অংশীদারিত্ব রক্ষার পক্ষে সওয়াল করতে বুধবার তিন দিনের সফরে চীন যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

বেইজিং থেকে এএফপি জানায়, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম কোনো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেইজিং সফর করছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত অবস্থান থেকে সরে এসে একের পর এক পশ্চিমা নেতা বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নেওয়ার প্রেক্ষাপটে এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

চীন সফরের পথে স্টারমার জাপানেও স্বল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি করবেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য এই সফরটি এমন এক সময়ে বেইজিংকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির কারণে ওয়াশিংটন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের ঐতিহাসিক সম্পর্কগুলোতে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

রেকর্ড মাত্রার কম জনপ্রিয়তা সূচকের মুখে থাকা স্টারমার আশা করছেন, এ সফর ব্রিটেনের সংকটগ্রস্ত অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়ক হবে। তিনি বুধবার বাংলাদেশ সময় দুপুরের দিকে বেইজিংয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। এরপর তার সঙ্গে বৈঠক হবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের।

ডাউনিং স্ট্রিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আলোচনায় ‘বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তা’ ইস্যু উঠে আসবে। এ সময় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে ‘স্থিতিশীলতা ও স্পষ্টতা’ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেবেন স্টারমার।

বুধবার স্টারমার বলেন, চীন সফরটি ‘আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ এবং তিনি ‘বাস্তব অগ্রগতি’ অর্জনের অঙ্গীকার করেন।

চীনে যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর করার ‘সুযোগ’ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘চীনের ক্ষেত্রে বালিতে মাথা গুঁজে রাখার কোনো মানে হয় না। আমাদের স্বার্থেই সম্পৃক্ত হতে হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সফরের আগে বলেন, বেইজিং এই সফরকে ‘রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা জোরদারের সুযোগ’ হিসেবে দেখতে চায়।

কানাডা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করায় যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকি এবং ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নামে নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে চীন সফররত নেতাদের কাছে জাতিসংঘের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।

২০২০ সালে হংকংয়ে ব্যাপক জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারির পর যুক্তরাজ্যুচীন সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটে।

সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটিতে ওই আইনের মাধ্যমে স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সীমিত হয়।

পরবর্তী সময়ে দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে, যা সম্পর্ক আরও খারাপ করে তোলে।

তবে ২০২৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্রিটেনের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে উদ্যোগী হয়েছেন স্টারমার।

সোমবার দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চীন কয়েক বছর ধরে ডাউনিং স্ট্রিটের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন হ্যাক করেছে। তবে বুধবার স্টারমার এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো প্রমাণ নেই। প্রত্যাশিতভাবেই আমাদের শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।’

চীনে স্টারমারের সঙ্গে আর্থিক, ওষুধ, অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৬০ জন ব্যবসায়ী নেতা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা সফর করছেন। বিনিয়োগ আকর্ষণ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই তার লক্ষ্য।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে স্টারমার ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে ফোনালাপও হয়েছিল।

সফরে স্টারমারের হংকংয়ের গণমাধ্যম ব্যবসায়ী ও গণতন্ত্রপন্থী নেতা জিমি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপনেরও কথা রয়েছে। ৭৮ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ নাগরিককে ডিসেম্বরে ‘দেশের সঙ্গে আঁতাত’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাকে দীর্ঘ কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হতে পারে।

লাইয়ের বিষয়টি তুলবেন কি না- এ প্রশ্নে স্টারমার নির্দিষ্ট কিছু বলেননি। তবে তিনি জানান, বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার উদ্দেশ্যই হলো ‘যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব করা’।

তিনি বলেন, ‘আমার কাজের ধরন আপনারা জানেন—যেসব বিষয় তোলা প্রয়োজন, সেগুলো আমি তুলিই।’

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি স্টারমারের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের প্রতি অতিরিক্ত নরম হওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স’ এক চিঠিতে স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সফরকালে জিমি লাইয়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিতে।

এদিকে চলতি মাসে লন্ডনে একটি বৃহৎ চীনা দূতাবাস নির্মাণের বিতর্কিত পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়ায় ব্রিটিশ সরকার ঘরোয়া পর্যায়েও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সমালোচকদের মতে, এটি নজরদারি ও ভিন্নমত দমনের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

গত বছরের শেষ দিকে স্টারমার স্বীকার করেন, চীন যুক্তরাজ্যের জন্য একটি ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’। এ বক্তব্যে চীনা কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কসহ মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে গুরুতর মতভেদ রয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ

March ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Feb    
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  


Our Like Page