April 17, 2026, 12:49 pm
শিরোনামঃ
আজ রাতে হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী দারিদ্র্য দূর করে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে চাই : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী দেশে হামের প্রকোপ কিছুটা কমেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগে মেধাবীদের নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বাকিতে চা না দেওয়াই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১২ জন আহত রাজশাহীতে চাঁদা না দেওয়ায় মুদি দোকানিকে হত্যা মুষ্টিমেয় স্বৈরশাসক যুদ্ধ দিয়ে পৃথিবীকে ধ্বংস করছে : পোপ হোয়াইট হাউসে শান্তি সংলাপে বসবে ইসরায়েল-লেবানন : ট্রাম্প হরমুজ থেকে মাইন অপসারণে লিটোরাল কমব্যাট শিপ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করলে ট্রিগারে আবার আঙুল রাখবো : হিজবুল্লাহ
এইমাত্রপাওয়াঃ

অ্যান্টিবায়োটিক যত্রতত্র ব্যবহারে ক্যান্সারের চেয়েও ভয়ঙ্কর সুপারবাগের ঝুঁকি বাড়ছে : ডা. হাসান হাফিজুর

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ও পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ না খাওয়ায় শরীরে বাসা বাঁধছে মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট সুপারবাগ।

ভবিষ্যতে এটি ক্যান্সারের চেয়েও বড় হুমকির কারণ হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান।

অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ডা. হাসান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশ ট্রপিক্যাল বা গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল হওয়ায় এখানে সংক্রমণজনিত রোগবালাই ও ইনফেকশন খুব বেশি। ফলে এখানে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারও প্রচুর। তবে এই ব্যবহার যুক্তিসঙ্গত (রেশনাল ইউজ) হওয়া উচিত।

যৌক্তিক ব্যবহার বলতে বোঝায়-যার অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, কেবল তাকেই সেটি দিতে হবে। আর এটি নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রয়োজন সঠিক রোগ নির্ণয় (ডায়াগনসিস)।

এরপর রক্ত, প্রস্রাব কিংবা ইনফেকশন হওয়া স্থানের সোয়াব কালচার করে সুনির্দিষ্ট জীবাণু শনাক্ত করতে হবে।

ল্যাবে পরীক্ষার মাধ্যমে ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে যে ওষুধটি কার্যকর প্রমাণিত হবে, সেটিই রোগীর ওপর প্রয়োগ করতে হবে। তবে শুধু সঠিক ওষুধ নির্বাচনই শেষ কথা নয়। পূর্ণ সুস্থতার জন্য সেই ওষুধের সঠিক মাত্রা এবং নির্দিষ্ট মেয়াদ বা কোর্স সম্পন্ন করাও চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ বলেও জানান মেডিসিন বিভাগের এই সহযোগী অধ্যাপক।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের চিত্র তুলে ধরে ঢামেকের এই চিকিৎসক বলেন, আমাদের দেশে অ্যান্টিবায়োটিক খুব সহজেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিজেরাও কিনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হল, কেউ কেউ এক বা দুই ডোজ খাওয়ার পর একটু সুস্থ বোধ করলেই ওষুধ বন্ধ করে দেন। যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খান তারা ওষুধের কোর্স সম্পন্ন করেন না, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকার ফার্মেসি দোকানদার, পল্লী চিকিৎসক এবং অনিবন্ধিত চিকিৎসকরাও হরহামেশাই অ্যান্টিবায়োটিক লিখছেন।এই যত্রতত্র ব্যবহারের (ইনডিসক্রিমিনেট) ফলে অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা হারাচ্ছে।

অ্যান্টিবায়োটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে ডা. হাসান হাফিজুর বলেন, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানুষের শরীরে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের অনেক ধরনের অ্যাডভার্স ইফেক্ট (বিরূপ প্রতিক্রিয়া) রয়েছে। যাদের ক্রনিক লিভার ডিজিজ, কিডনি রোগ বা হার্ট ডিজিজ আছে, তাদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানে কোমর্বিড কন্ডিশন বলা হয়। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট বা কিডনি বিকল হওয়ার মত কোমর্বিড কন্ডিশন থাকলে ওষুধের ডোজ অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হয়। কারণ কিছু অ্যান্টিবায়োটিক কিডনি বা লিভারের জন্য বিষাক্ত হতে পারে, যাকে নেফ্রোটক্সিক বা হেপাটোটক্সিক ড্রাগ বলা হয়। তাই রোগীর অন্য কোনো রোগ আছে কি-না তা বিবেচনা করে এবং লিভার এবং কিডনির কার্যকারিতা দেখে সবচেয়ে কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত ওষুধটি বেছে নিতে হবে। ভুল ওষুধ কিংবা অতিরিক্ত মাত্রার কারণে রোগীর কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।

তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট অর্গানিজম (সুপারবাগ) দেখা দেবে। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ভবিষ্যতে এই সুপারবাগ ক্যান্সারের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। তখন মানুষের সামান্য অসুস্থতা সারাতেও কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করবে না। ফলে চিকিৎসার জন্য কার্যকর কোনো ওষুধই হয়তো তখন আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি শুধু একক কোনো ব্যক্তির সমস্যা নয় বরং পুরো জাতি এবং বিশ্ববাসীর জন্য অশনিসংকেত।

তিনি আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানের জন্য সবার আগে ঔষধ প্রশাসনের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নিবন্ধিত (রেজিস্টার্ড) চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। ফার্মেসি মালিক বা ডিসপেনসারিতে যারা ওষুধ দেন তাদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে, যেন তারা প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনোভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতে না পারেন।

একইসঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক লেখার আগে চিকিৎসকদেরও অবশ্যই কালচার সেনসিটিভিটি রিপোর্ট দেখে নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একসাথে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং রোগীর অন্যান্য রোগের কথা মাথায় রেখে সতর্কতার সাথে ওষুধ নির্বাচন করতে হবে বলেও পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

ডা. হাসান হাফিজুর রহমান বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। যার যখন ইচ্ছা দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাবে, এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। রোগী, ওষুধ বিক্রেতা ও চিকিৎসকসহ সকল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করতে পারলেই অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধের অকার্যকারিতা রোধ করা সম্ভব। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুপারবাগের মত ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করা যাবে।

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page