অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের দুই নারী বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। সোমবার (২৩ অক্টোবর) ওই দুই বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নজিরবিহীন সামরিক অভিযানের সময় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটির যোদ্ধারা তাদের আটক করেছিল। মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের হাতে বন্দি দুই নারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে ফিলিস্তিনি এই গ্রুপ এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রস (আইসিআরসি) জানিয়েছে।
হামাসের সশস্ত্র শাখার একজন মুখপাত্র বলেছেন, কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় ওই দুই বন্দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে মুখপাত্র আবু ওবাইদা গ্রুপের টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে’ ওই দুই বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ৮৫ বছর বয়সী ইয়োচেভেদ লিফশিটজ এবং ৭৯ বছর বয়সী নুরিট কুপারের মুক্তির বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব রেড ক্রসও নিশ্চিত করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইসিআরসি বলেছে, ‘আমরা আশা করি তারা শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাবে।’
প্রসঙ্গত, মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্র ধর্মীয় স্থান আল-আকসা মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের অত্যাচারের জবাব দিতে গত ৭ অক্টোবর ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামের একটি অভিযান চালায় ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। হামাসের এই অভিযানে কার্যত হতবাক হয়ে পড়ে ইসরায়েল।
হামাসের এই হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৪০০ ইসরায়েলি। নিহতদের মধ্যে ২৮৬ জন সেনাসদস্য রয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। হামাসের হামলায় আহত হয়েছেন আরও ৪ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি। এছাড়া আরও দুই শতাধিক মানুষকে বন্দি করে গাজায় নিয়ে গেছে হামাস।
হামাসের হাতে আটক বিপুল এসব বন্দির মধ্যে ইসরায়েলি এবং দ্বৈত নাগরিকও রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় আটক সব বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। এছাড়া মানবাধিকার গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বন্দিদের পরিবারও তাদের অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।
আল জাজিরা বলছে, গত ৭ অক্টোবরের সেই হামলার পর হামাসের কাছ থেকে প্রথম বন্দি মুক্তির ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার। সেদিন হামাস কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রাপ্ত জুডিথ রানান এবং তার মেয়ে নাটালিকে মুক্তি দেয়।