অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত ও গোয়েন্দা সমন্বয় বজায় রেখে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি জোরদার করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দেশটির শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা ইসরায়েল হায়োম তাদের এক প্রতিবেদনে এই দাবি করেছে।
ইসরায়েল সম্ভাব্য আগাম হামলা বা ইরানের কোনো হামলার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগামী নভেম্বর মাসে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো তাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
একই সময়ে ইসরায়েলি নিউজ ওয়েবসাইট ওয়ালা গত রোববার (৪ অক্টোবর) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সংঘাত বৃদ্ধির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলে অতিরিক্ত সেনা ও বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে ওয়ালা জানিয়েছে, বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় তিন হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। এর মধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সেনা, পাইলট, সহায়তা কর্মী ও রসদ সরবরাহকারী কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও মার্কিন সেনা ও বিমান আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাত বা আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।
এসব প্রতিবেদন প্রকাশের সময়েই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত রোববার বলেছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধান অর্জনের জন্য কূটনীতি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পেশ করেছিল ইরান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সেই শর্তগুলো গ্রহণ করেনি।