অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি ভেনেজুয়েলায় তার সরকারি সফর শেষে নিকারাগুয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও গভীর করার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল ওর্তেগার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে মানাগুয়ায় গেছেন।
প্রেসিডেন্ট সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসিকে “মানাগুয়া” বিপ্লব স্কয়ারে “ড্যানিয়েল ওর্তেগা” আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এরপর নিকারাগুয়ার যুবকদের একটি দলে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর প্রেসিডেন্ট রায়িসি ইরানের ইসলামি বিপ্লব এবং নিকারাগুয়ার বিপ্লবের যুগপৎ বিজয় এবং এর পারস্পরিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন। এই দুই বিপ্লবে তিনি দুই দেশে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আত্মদান করা জাতীয় বীরদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।
প্রেসিডেন্ট রায়িসি ইরান ও নিকারাগুয়ার মধ্যকার সম্পর্ককে কৌশলগত হিসেবে বর্ণনা করে আরো বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবক্ষেত্রে বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত।
ইরানের বৈদেশিক নীতি কাঠামোর আওতায় ল্যাতিন আমেরিকার দিকে দৃষ্টপাত দেয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ইরানের ১৩তম সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতির স্লোগান অনুসারে একই সঙ্গে প্রতিবেশী এবং এই অঞ্চলের দেশগুলির সাথে সম্পর্ক জোরদার করার প্রতি তেহরান প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এছাড়া, ইরান ঘোষণা করেছে যে ল্যাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জোটবদ্ধ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসারিত করতে তেহরান বদ্ধপরিকর।
ভেনিজুয়েলা, কিউবা এবং নিকারাগুয়াসহ ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোর নেতারা ইরানের সঙ্গে তাদের সরকারের সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। প্রেসিডেন্ট রায়িসি ক্ষমতা গ্রহণ করার পর তেহরান এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা চালিয়ে আসছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্টের বর্তমান ল্যাটিন আমেরিকা সফর ১৪০১ সালের জুন মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর তেহরানে সফর এবং ১৪০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানের নিকারাগুয়া, কিউবা ও ভেনিজুয়েলা সফর এসব কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ল্যাতিন আমেরিকায় অবস্থিত নিকারাগুয়া এমন একটি দেশ যার সাথে ইরানের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ সবসময় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে সম্পর্কের উন্নয়নকে স্বাগত জানিয়ে আসছে। দাম্ভিক শক্তিগুলোর শত্রুতা এবং ও চাপ প্রতিরোধ করা বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলায় তেহরান এবং মানাগুয়া একই অবস্থানে থাকায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ও সহযোগিতা গভীর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। ফলে ইরান ও নিকারাগুয়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সবসময় ইতিবাচক ও গঠনমূলক সহযোগিতা করে আসছে।
বর্তমানে প্রেসিডেন্ট রায়িসির সরকারে লাতিন আমেরিকাভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে প্রধান্য দেয়া হয়েছে এবং এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার দ্বার আবার উন্মুক্ত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ডিসেম্বরে ইরান ও নিকারাগুয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা দুই দেশের মধ্যে একটি ব্যাপক সহযোগিতামূলক নথিতে স্বাক্ষর করেন।
নিকারাগুয়াসহ ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলির সাথে ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের ফলে তেহরান নানা অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে এবং এসব দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক বাজার বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ পাবে। এছাড়া এসব সম্পর্ক রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং বহুপাক্ষিক লেনদেন শক্তিশালী করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার আমেরিকার যে প্রচেষ্টা ছিল তা আরও ব্যর্থতার দিকে নিয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও অবৈধ নীতির শিকার দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক এতে দিনদিন শক্তিশালী হবে।
এ প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ানও আন্তর্জাতিক সংস্থায় ইরান ও নিকারাগুয়ার মধ্যকার রাজনৈতিক অভিন্ন অবস্থানের ইতিবাচক রেকর্ডের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, একতরফাবাদকে অস্বীকার করা দুই দেশের রাজনীতির সাধারণ সূচক এবং ল্যাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সম্ভাবনা এবং সামর্থের দিকে দৃষ্টিপাত করা ১৩তম সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির অংশ।