অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : গতবছর জুন মাসে ক্রিমিয়ায় নর্ডস্ট্রিম প্রকল্পের গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি) বুধবার নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি গ্রেপ্তারকৃত ৪৩ বছর বয়সী রুশ নাগরিক কিয়েভের হয়ে কাজ করছিলেন। খবর অরটির।
এফএসবি এক বিবৃতিতে বলেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা পরিষেবা (এসবিইউ) ২০২২ সালের জুনে নিয়োগ করেছিল। তখন সে দিনে প্রপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোগ্রাদে থাকতো। সেখানে থাকাকালীন ওই ব্যক্তি কথিত রিকনেসান্স প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এবং তারপরে তাকে ক্রিমিয়াতে একটি নাশকতা অভিযানে পাঠানো হয়েছিল।
এফএসবি দাবি করেছে, চলতি বছরের ২৩ জুন অজ্ঞাতনামা সন্দেহভাজন ব্যক্তি একটি গোপন ক্যাশের মাধ্যমে তার ইউক্রেনীয় হ্যান্ডলারদের মাধ্যমে সরবরাহিত একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস ব্যবহার করে গ্যাস পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছিল।সন্দেহভাজনের গ্যারেজে তল্লাশির সময় কর্তৃপক্ষ ২ কেজি ওজনের বিদেশি তৈরি একটি সি-৪ প্লাস্টিকের বিস্ফোরক চার্জ, দুটি সামরিক-গ্রেডের বৈদ্যুতিক ডেটোনেটর, দুটি বৈদ্যুতিক ইগনিটার এবং বাড়িতে তৈরি আকৃতির একটি চার্জ জব্দ করেছে।
এফএসবি জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদ এবং বিস্ফোরক ডিভাইসের অবৈধ দখলের অভিযোগে একটি ফৌজদারি মামলা চালু করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, রুশ নাগরিক ইতোমধ্যেই নাশকতা এবং সন্ত্রাসবাদের কাজগুলো প্রস্তুত করতে এবং সংঘটিত করতে ইউক্রেনের বিশেষ পরিষেবাকে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেছেন। এফএসবির প্রকাশিত একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে লোকটি দাবি করেছে, সে যে রাশিয়ার নাগরিক তা জানার পর ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ তাকে এসবিইউর সঙ্গে কাজ করার জন্য ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি বলেন, ‘তারা আমাকে বলেছিল একা ছেড়ে দেবে না এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার জন্য আমাকে কারাগারে পাঠাবে। পাশাপাশি তাদের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাবও দিয়েছে। তারা আশ্বস্ত করেছিল যে আমার কোন সমস্যা হবে না এবং দীর্ঘমেয়াদে আমি আমার পরিবারের সঙ্গে ক্রিমিয়াতে বসবাস করতে পারব। তারা আমাকে সবকিছুতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।’
তিনি দাবি করেন, রাজি হওয়ার পরে তাকে বিস্ফোরক নিয়ে কীভাবে কাজ করতে হয় তার একটি প্রাথমিক কোর্স দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করার কথা বলে তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ক্রিমিয়াতে পাঠানো হয়। বেশ কয়েক মাস পরে তাকে একটি প্যাকেজ সংগ্রহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেখানে বেশ কয়েকটি ডিটোনেটর এবং বিস্ফোরক ছিল। পরে তাকে যেকোনো গ্যাস পাইপলাইন খুঁজে পেলেই তা উড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মিশন সম্পন্ন করার পরেই তার পরিবারকে তার সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানায় ওরা।
২৩ জুন ক্রিমিয়ার কর্তৃপক্ষ বলেছিল, কোরিজের বসতিতে একটি পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫০০ বাসিন্দা গ্যাসবিহীন ছিল। তবে ওইদিনই পাইপলাইনটি মেরামত করা হয়।