স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কালীগঞ্জে সদ্য বদলীকৃত নাজির হুমায়ূন আজাদ লাবলুর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের তদন্ত শেষ হতে না হতেই ঐ অফিসের নাইটগার্ড ও প্রসেস সার্ভারের বিরুদ্ধে মিস কেস নিয়ে বানিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
মহেশপুর উপজেলা ভূমি অফিসের নাইটগার্ড হুমাউন কবীরের দায়িত্ব রাতে অফিস পাহারা দেওয়া, আর প্রসেস সার্ভার সুনিলের দায়িত্ব মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তির আবেদনের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে নোটিশ জারী করা। কিন্তু তাদের দু’জনের কাজ-কর্ম দেখলে মনে হয় তারা ঐ অফিসের হর্তা-কর্তা সেজেছে।
৩০ জুলাই দুপুরে উপজেলা ভূমি অফিসে যেয়ে দেখা যায়, উল্লেখিত দু’জন মিস কেসের বান্ডিল ও রেজিষ্ট্রার নিয়ে রিতিমতো দোকান বসিয়েছে। তাদের কথাবর্তায় এমন ভাব যেনো তারাই ঐ অফিসের সবকিছু। কেসের বাদি-বিবাদীদের সাথে কথা বলা, পরবর্তি তারিখ দেওয়া নিয়ে তাদের যেনো সময়ের ফুসরত নেই।
মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের কামাল হোসেন ও তার ভাইয়ের নামে ১০৭ নং যোগীহুদা মৌজার জমির একটি নামপত্তন জমা-খারিজ কেস বাতিলের জন্য ঐ একই গ্রামের আওয়ালের দায়েরকৃত ২৪৩/ ২৫-২৬ মিস কেসের শুনানীর দিন ধার্য ছিল গত ১৫-৭-২০২৬ তারিখে। বদলী জনিত কারণে ঐ দিন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অফিসের সার্ভেয়ার না থাকায় কেসের বিবাদীপক্ষ কামাল হোসেন কেসেন হাজিরা ঐ অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী আহসান কবীরের কাছে দিলে আহসান কবীর ঐ হাজিরার কাগজ নির্ধারিত কেস নথিতে রেখে বলেন যে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মহোদয় যোগদান করলে নোটিশ দেওয়া হবে, তখন আসবেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন গত হলেও কোন নোটিশ না পেয়ে উল্লেখিত কামাল হোসেন ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা ভূমি অফিসে যেয়ে উল্লেখিত নাইটগার্ড হুমাউন কবিরের কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় ঐ ২৪৩/২৫-২৬ কেসের শুনানী শেষ হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখিত বিষয়টি ঐ মিস কেসের বিবাদীপক্ষ কামাল হোসেন তার ভগ্নিপতিকে জানালে ঐদিন দুপুরে তার ভগ্নিপতি উপজেলা ভূমি অফিসে যেয়ে দেখতে পান যে, নাইটগার্ড হুমাউন কবীর ও প্রসেস সার্ভার সুনিল রেজিষ্ট্রার ও মিস কেস নিয়ে কেসের বাদি ও বিবাদীদের সঙ্গে ব্যাস্ত সময় পার করছে।
উল্লেখিত ২৪৩/২৫-২৬ কেসের বিষয়ে হুমাউন কবীরের নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে যে পুনরায় একটি শুনানীর তারিখ দেওয়া হবে।
পরবর্তিতে সদ্য যোগদানকৃত সার্ভেয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঐ মিস কেসের শুনানীর জন্য আগামী ৩০-৯-২০২৬ দিন ধার্য করেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, উল্লেখিত ‘দুই রত্ন’ হুমাউন কবীর ও সুনিল সদ্য বদলীকৃত নাজির হুমাউন আজাদের সেলামী আদায়কারী হিসেবে কাজ করতে করতে ঐ অফিসের ‘বস’ বনে গেছে। তারা দু’জন প্রতিটি মিস কেসের বাদি-বিবাদী সাথে কন্ট্রাক্ট করে টাকার বিনিময়ে কাজ করে থাকে।
উপজেলা ভূমি অফিসের একটি সুত্র জানিয়েছে, সদ্য যোগদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌহিদ রেজা নাইটগার্ড হুমাউন কবিরের বিষয়ে জানতে পেরে তাকে রাতের নির্ধারিত ডিউটি করতে বললেও সে তার ধান্দাবাজী ছাড়তে পারেনি। দিনের বেলা অফিসের গুরুত্বপুর্ণ ব্যাক্ত হিসেবে কেস নথি নিয়ে দেন-দরবার চালিয়ে যাচ্ছে।
মহেশপুর থেকে কালীগঞ্জে সদ্য বদলীকৃত নাজির হুমাউন আজাদের ঘুষ কেলেংকারীর কারণে মহেশপুর ভূমি অফিসের যে বদনাম হয়েছে ঐ বদনাম মুছতে হলে তার ‘দুই প্রেতাত্মা’ নাইটগার্ড হুমাইন কবীন ও প্রসেস সার্ভার সুনিলকে অতিদ্রুত মহেশপুর থেকে অন্যত্র বদলী করা একান্ত প্রয়োজন।