January 8, 2026, 7:39 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযান সত্বেও দেশের অভ্যন্তরে মাদকদ্রব্য প্রবেশ করছে বন্যার স্রোতের ন্যায় ঝিনাইদহের মহেশপুরের ভারত সীমান্তসংলগ্ন ইছামতি নদী থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার দুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা : সুপ্রিম কোর্ট দেশে কোনো পাতানো নির্বাচন হবে না : প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নপত্র যাচাই-বোছাইয়ে জামায়াতের সাথে বৈষম্য করা হয়েছে : আব্দুল্লাহ তাহের আগামী নির্বাচনে রাজধানীসহ দেশের ৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত এলপি গ্যাস আমদানি ও উৎপাদনে ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগ রংপুরে সংঘবদ্ধ প্রশ্ন ফাঁস চক্রের দুই সদস্য আটক গাজীপুরে এনসিপি নেতাকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই ; অল্পের জন্য রক্ষা কুমিল্লায় লালমাই পাহাড়ের অনাবাদি জমিতে কৃষি বিভাগের প্রাণ সঞ্চার
এইমাত্রপাওয়াঃ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক দশকে নিহত ৩৬ বাংলাদেশি

স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহ জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুর। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এ উপজেলায় গত এক দশকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)এর গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৬ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সীমান্ত এলাকায় মারধরের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৭৮ কিলোমিটার অংশ মহেশপুর উপজেলায় অবস্থিত। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও প্রায় ১২ কিলোমিটার সীমান্ত এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ অংশে যাদবপুর, শ্যামকুড়, নেপা, কাজীরবেড় ও স্বরূপপুর ইউনিয়ন সীমান্তবর্তী এলাকা। অপরদিকে ভারতের অংশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার হাসখালী এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঘাডাঙ্গা, মাইলবাড়ীয়া, স্বরূপপুর, খোসালপুর ও শ্যামকুড় সীমান্তের বিপরীতে ভারতের বিভিন্ন বিএসএফ ক্যাম্প এলাকায় বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগ কিংবা সন্দেহের বশে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালান বলে দাবি করেন তাঁরা।

গত ৩ নভেম্বর ভোরে উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাউলি গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহিম। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ভারতের নদীয়া জেলার ধানতলী থানার হাবাসপুর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেন।

গত কয়েক বছরে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আলম মিয়া, নয়ন মন্ডলের তিন ছেলে ফজলুর রহমান, আবু সালেহ ও লিপু হোসেন, খোসালপুর গ্রামের সোহেল ও রাশিদুল, যাদবপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন গ্রামের আরও অনেকে।

সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে মহেশপুরে ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে এই দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে ছিল যশোরের ৪৯ ও চুয়াডাঙ্গার ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। বিজিবির একটি সূত্র জানায়, ৫৮ ব্যাটালিয়ন স্থাপনের পর সীমান্ত হত্যার ঘটনা কিছুটা কমেছে। টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিজিবি সূত্র আরও জানায়, অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন, চোরাচালান এবং সন্ধ্যার পর শূন্যরেখায় যাতায়াত রোধে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। স্থানীয়দের গরু ছাগল সীমান্তের কাছে না চরানো এবং ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার বিষয়ে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ করেন। এতে সীমান্তঘেঁষা জমিতে চাষাবাদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিএসএফের আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে মহেশপুর ৫৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রফিকুল আলম বলেন, সীমান্ত হত্যা ও অপরাধ রোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দুই দেশের নিয়মিত পতাকা বৈঠকে সীমান্ত হত্যার ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আজকের বাংলা তারিখ

January ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page