স্টাফ রিপোর্টার : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিং কর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, দাবিকৃত টাকা না দিলে অথবা চাহিদার তুলনায় কম টাকা দিলে কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিংয়ের ৯টি পদের বিপরীতে প্রায় ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে টিকিট ক্লার্ক পদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য পদে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে চাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগকারী কর্মীদের ভাষ্য, টিকিট ক্লার্ক শিমু খাতুনের কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও তিনি ৪০ হাজার টাকা দেন। পরবর্তীতে তাকে কর্মীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার স্থলে কুষ্টিয়া থেকে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিমু। পরে তার দেওয়া ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
এদিকে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রায় ১৪ মাস ধরে আউটসোর্সিং কর্মীরা বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান কর্মীরা।
গত রোববার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভুক্তভোগী কর্মীরা তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা জানান, নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রায় ১৪ মাসের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা।
কর্মী গণেশ চন্দ্র বলেন, “আমরা এখনো নিয়োগপত্র পাইনি। প্রায় ১৪ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। নিয়োগপত্র দেওয়ার জন্য ঠিকাদার টাকা দাবি করছেন।” পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কর্মীদের টাকা না দেওয়ার নির্দেশনা দেন এবং সিভিল সার্জনের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি।
টিকিট ক্লার্ক শিমু খাতুন বলেন, ঠিকাদার মনিরুল ইসলামের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে তিনি ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু দাবিকৃত টাকার চেয়ে কম দেওয়ায় তাকে কর্মীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে তার দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও এক কর্মী অভিযোগ করেন, ঠিকাদার মনিরুল ইসলাম তাদের তিনজনকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে প্রত্যেকের কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করে দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে কর্মীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মনিরুল ইসলাম। তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আপনি আমার সঙ্গে দেখা করেছেন? ঘুষ নেব কেন? এটা কি ঘুষের চাকরি?” পরে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা বলেন, কর্মীদের টাকা না দেওয়ার জন্য তিনি ও সিভিল সার্জন মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন। আগে থেকে কর্মরতরাই থাকবেন এবং কোনো ধরনের টাকা লেনদেন না হয়, সে বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। ঠিকাদারকে ফোন করে ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “কাউকে চাকরির জন্য টাকা দিতে হবে না। চাকরি হলে নিয়ম অনুযায়ীই হবে। টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।”
ভুক্তভোগী কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ ও দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন তারা।