October 7, 2026, 10:47 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ঝিনাইদহের মহেশপুরে ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত যশোরে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রতিবন্ধী হত্যার দায়ে মামলা ; পুরুষ শূন্য গ্রাম দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের নির্ভুল তালিকা করা হবে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী হামের টিকার আওতায় ২ কোটি শিশু ; এক মাসে দেওয়া হবে আরও ৩৫ লাখ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অর্থপাচার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ; সুইস নাগরিকের তথ্য চাইলো ইউএই শিগগিরই আসছে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি নওগাঁয় বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিকের মৃত্যু ; আহত ৪ জন রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ২৩৪ জন আটক ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র
এইমাত্রপাওয়াঃ

টাঙ্গাইলের প্রচন্ড গরমে ফুটবল খেলতে গিয়ে হিটস্ট্রোকে প্রাণ হারাল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় প্রচন্ড গরমে ফুটবল খেলার মাঠে মারা যাওয়া রিয়া আক্তারের মা-বাবা মেয়ের শোকে পাগল প্রায়। একমাত্র শিশু সন্তানকে হারিয়ে শোকে কাতর এই দম্পতি। স্বজন ও প্রতিবেশীদের সান্ত্বনাও তাঁদের বিলাপ থামাতে পারছে না।

রিয়া আক্তার (১০) কালিহাতী উপজেলার সহদেবপুর ইউনিয়নের ছুনুটিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও রেজিয়া আক্তারের মেয়ে। সে ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

প্রতিবেশী ও স্বজনেরা জানিয়েছেন, সম্প্রীতি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৩ এর ইউনিয়ন পর্যায়ের খেলা শুরু হয়। গত সোমবার (২৯ মে) সহদেবপুর ইউনিয়নের দ্বিমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে খেলা ছিল। ওই দিন বেলা দুইটায় দ্বিমুখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে খেলা শুরু হয়। প্রচণ্ড গরমে রোদের মধ্যে খেলতে গিয়ে রিয়া আক্তার মাঠে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, রিয়া অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ আয়োজকেরা মাঠে ছুটে যান। তারা রিয়ার মাথায় পানি ঢালেন। এতেও তার জ্ঞান ফেরেনি। এরপর সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তাকে টাঙ্গাইল সদর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে ছুনুটিয়া গ্রামে রিয়া আক্তারের বাড়িতে খবরটি পৌঁছালে মাতম শুরু হয়। বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন দেলোয়ার ও রেজিয়া দম্পতি। এখনও থামছে না তাঁদের বিলাপ। দেলোয়ার হোসেন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কলিজার টুকরা মেয়েটা এইভাবে চইলা যাবে, কল্পনাও করতে পারি নাই। আল্লাহ, এ তুমি কী করলা! এহন আমরা কী নিয়া বাঁচুম।

ওই গ্রামের বাসিন্দা ও ছুনুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মজনু মিয়া বলেন, রিয়া আক্তারের বাবা লেপতোশক তৈরির কাজ করেন। মেয়েকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। রিয়ার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না মা-বাবা।

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি ও কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়া আক্তারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ সময় তারা রিয়ার মা–বাবাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।

এছাড়া ইউএনও রিয়ার মা-বাবাকে ২০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। দুপুরে রোদের তাপ বেশি থাকে। তাই এখন সকাল ৮টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে এ টুর্নামেন্টের খেলা শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 



Our Like Page