September 1, 2026, 10:15 am
শিরোনামঃ
মাগুরায় চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে ওজোপাডিকোর লাইন সাহায্যকারীদের অনশন ও কর্মবিরতি যশোরের নাভারনের রিপনক যশোরের ঝুমঝুমপুরে ২৭ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক যশোরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এমপিসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলায় ১ জন আটক সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির প্রশংসা এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির মালয়েশিয়াগামী ক্ষতিগ্রস্ত ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর নির্দেশ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল জামায়াত কিশোরগঞ্জে বরের গাড়ি থেকে কনেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জামালপুরে সীমান্তে ভারতে পাচারের পথে ১৩ বস্তা সার জব্দ ‘ইসলাম অন্য ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ মন্তব্য, কর্ণাটকের মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি বিজেপির
এইমাত্রপাওয়াঃ

তাপমাত্রার ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশের মানুষ ও অর্থনীতিকে রক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান  জানাল বিশ্বব্যাংক

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশের মানুষ, জীবিকা ও অর্থনীতিকে রক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বিশ্বব্যাংক।

নতুন এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ এখন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একইসাথে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘অ্যান আনসাস্টেইনেবল লাইফ: দ্য ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দ্য ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভূতপূর্ব উষ্ণতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান চাপ সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে তার মতামত তুলে ধরেন। এতে সাউথ এশিয়া হেলথ নিউট্রিশন অ্যান্ড পপুলেশন প্র্যাকটিসের প্র্যাকটিস ম্যানেজার ড. ফেং ঝাও স্বাগত ভাষণ দেন। বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ ও সিনিয়র হেলথ স্পেশালিস্ট ওয়ামেক এ. রাজা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্রতিবেদনে ১৯৭৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ধারা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি ২০২৪ সালে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮০ সালের পর থেকে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। তবে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ বা হিট ইনডেক্স ৪.৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, কাশি, অবসাদসহ নানা শারীরিক সমস্যা বাড়ছে। একইসঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেও প্রভাব পড়ছে, বাড়ছে হতাশা ও উদ্বেগ।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ উপদেষ্টা সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার সময়  একটি স্লোগান গ্রহণ করি —‘জিরো সয়েল’, এর লক্ষ্য সব জায়গায় সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা।

জ্যাঁ পেসমে বলেন, তীব্র গরম কেবল মৌসুমি অসুবিধা নয়। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বাংলাদেশে আমরা দেখছি, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আমাদের স্বাস্থ্য, উৎপাদনশীলতা এবং দেশের সমৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং বিভিন্ন খাতের সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ তাপপ্রবাহের প্রভাব মোকাবিলা করতে পারে। এতে টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হবে। সিঙ্গাপুরসহ কিছু দেশে যেভাবে সফলতা এসেছে, বাংলাদেশেও তা সম্ভব।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় গড় তাপমাত্রার তুলনায় ঢাকার হিট ইনডেক্স প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি। এর অর্থনৈতিক ক্ষতিও ব্যাপক।

শুধু ২০২৪ সালেই তাপজনিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে বাংলাদেশে ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এর আর্থিক ক্ষতি ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক চার শতাংশ।

স্বাস্থ্যখাতে প্রভাব আরো স্পষ্ট। গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা শীতকালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়। নারীরা তাপজনিত অসুস্থতা যেমন হিট স্ট্রোক ও অবসাদে বেশি আক্রান্ত হন।

গরমে অস্থিরতা ও উদ্বেগের মাত্রা বেড়ে যায়। এটি গ্রীষ্মকালে বেশি দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাশা বাড়ে। আর ৫০-৬৫ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়। শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে উৎপাদনশীলতার ক্ষতি শীতকালের তুলনায় গ্রীষ্মকালে বেশি।

ইফফাত মাহমুদ বলেন, আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাপের প্রভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি এবং উৎপাদনশীলতার বড় ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশও মানবসম্পদ ও উৎপাদনশীলতা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রমাণভিত্তিক নীতি ও টার্গেট বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে মানুষের জীবনমান ও জীবিকা রক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যৎ সুস্থ ও নিরাপদ হবে।

প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় বহুখাতভিত্তিক জাতীয় প্রস্তুতি জোরদার করা, স্বাস্থ্য খাতকে তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা, নগর এলাকায় সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সঠিক আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগও গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকের বাংলা তারিখ

September ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Aug    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page