অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ভৈরবা এলাকায় নির্মিত ২০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালটি উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো জনবল সংকটের কারণে চালু হয়নি। এতে করে উপজেলার ৫ থেকে ৭টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারের অর্থায়নে নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নেই কোনো চিকিৎসক, নার্স কিংবা প্রয়োজনীয় স্টাফ। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ হাসপাতালটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে হলে এখনো তাদের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। দূরত্ব বেশি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া যায় না। বিশেষ করে রাতের বেলা বা গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি হয়ে উঠছে জীবন-মরণের প্রশ্ন।
জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর মোঃ সম্রাট জানান, গত ৫ আগস্টের পর তত্ত্বাবধায়ক/অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল। তখন অনেকেই আশা করেছিলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধান থাকাকালীন সময়েই হয়তো হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে সে ধরনের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
ভৈরবা ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, “সীমান্ত এলাকায় বসবাস করেও আমরা ন্যূনতম চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছি না। হাসপাতালটি দ্রুত চালু করে চিকিৎসক ও স্টাফ নিয়োগ দিলে হাজারো মানুষ উপকৃত হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক, যাতে তারা নিজ এলাকায় থেকেই প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে পারেন। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে হাসপাতালটি কেবল নামমাত্র স্থাপনা হিসেবেই পড়ে থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।