পার্সটুডে আরও জানায়, এটা স্পষ্ট যে ইহুদিবাদীরা এবং তাদের সহযোগী মিডিয়াগুলো সবসময় ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং কোনঠাসা করার নীতি অনুসরণ করেছে। তারা আশা করেছিল ইরানের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে জনগণ হয়তো নির্বাচনকে স্বাগত জানাবে না। সুতরাং ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করা, বৈদেশিক সম্পর্ক ধ্বংস করা এবং ইরান সরকারকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা সহজ হবে।
এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য ইহুদিবাদীরা এবং তাদের সহযোগীরা এমনকি একজন প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়বস্তু তৈরি করে অন্য প্রার্থীদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তারা বিভেদ ও মতভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে প্রার্থীদের সমর্থকদের রাস্তার নামানোর চেষ্টা করেছে এমনকি শত্রুরা সংঘাত সৃষ্টি করারও ষড়যন্ত্র করেছে।
একদিকে নির্বাচন বয়কট করার সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। অপরদিকে ইরানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট তাঁর যে অবস্থান দেখিয়েছেন তাতে প্রমাণ হয়েছে, ইরানের কৌশলগত নীতিগুলো কেবল যে পরিবর্তিত হবে না তা নয় বরং আরও শক্তিমত্তার সাথে ওই নীতি অব্যাহত থাকবে।
এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননের হিজবুল্লাহ মহাসচিবকে উদ্দেশ করে এক বার্তায় বলেছেন: ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান সবসময় অবৈধ ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে এ অঞ্চলের জনগণের প্রতিরোধকে সমর্থন করেছে। তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন: প্রতিরোধকে সমর্থন করা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের মৌলিক নীতি। ইমাম খোমেনী (রহ.) এর আদর্শ এবং ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ির নির্দেশনায় সমূহ শক্তির সাথেই ওই নীতি অব্যাহত থাকবে।
এটা সুস্পষ্ট যে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্রনীতি যে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী নীতি চাপানো কিংবা আধিপত্য মেনে নেওয়াকে প্রত্যাখ্যান করে। দেশের সর্বাত্মক স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা, সকল মুসলমানের অধিকার রক্ষার ওপর ভিত্তি করে ইরানের পররাষ্ট্রনীতি গড়ে উঠেছে। আধিপত্যবাদী শক্তির বিরোধিতা করা এবং অ-যুদ্ধরত রাষ্ট্রগুলোর সাথে পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে। প্রতিরোধ শক্তিকে সমর্থন করে, বহুপাক্ষিকতাবাদকে সমর্থন করে। ব্রিকস এবং সাংহাইয়ের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগদান করে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইরান একটি উপযুক্ত এবং কার্যকর অবস্থানে রয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নবম প্রেসিডেন্টও এই পররাষ্ট্রনীতিই গুরুত্ব সহকারে অনুসরণ করবেন।
এ কারণেই ইহুদিবাদীরা এবং তাদের পশ্চিমা সমর্থকরা বিশেষ করে মার্কিন সরকার সাম্প্রতিক ইরানের নির্বাচনের ফলাফল এবং ডঃ মাসুদ পেজেশকিয়ান নির্বাচিত হওয়ায় হতাশ হয়েছে। কেননা তারা ভাবতেও পারে নি প্রতিরোধ শক্তিকে সমর্থন দেবে পেজেশকিয়ান।