অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর ছোঁড়া গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া আল-নাজলা শহরে বৃহস্পতিবার এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আনাদোলু নিশ্চিত করেছে।
নিহত ওই শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর। এই একই দিনে গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, যা চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ফেলেছে।
জাবালিয়ায় প্রাণহানির পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নেমসাউই কবরস্থানের কাছেও ইসরায়েলি বাহিনী বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করেছে। সেখানে এক শিশু ও এক নারীসহ চারজন আহত হলে তাদের জরুরি চিকিৎসার জন্য নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ হাজার ১১০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধে নিহতের মোট সংখ্যা বর্তমানে ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে, যার বিশাল একটি অংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি।
এদিকে ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি গাজার অভ্যন্তরীণ মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতিকেও আরও জটিল করে তুলছে। গাজা সিটির আল-দারাজ এলাকার আল-ইয়ারমুক আশ্রয়শিবিরে গত রাতে একটি তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক ফিলিস্তিনি মা ও তার শিশু সন্তানের মৃত্যু হয়েছে বলে সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী হামলায় গাজার অধিকাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ মানুষ এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছেন।
তীব্র জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎহীনতার কারণে রান্নাবান্না বা শীত নিবারণের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে প্রায়ই এসব তাঁবুতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।