November 2, 2026, 4:37 am
শিরোনামঃ
যশোরের কেশবপুরে মাঠের ধান ক্ষেত থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার মাগুরায় জাতীয় যুব দিবস অনুষ্ঠান ও আত্মকর্মী যুবদের উৎপাদিত পণ্যের প্রদর্শনী মেলা পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নরওয়েকে সহযোগিতার আহ্বান স্পিকারের ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাতে কর্মজীবনে প্রতিফলিত না হয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার দিন বন্ধ থাকবে একটি এলএনজি টার্মিনাল ; সারা দেশে কমবে গ্যাসের সরবরাহ সিরাজগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলেন তিন জেলার ৬৫ চরমপন্থী বরিশালে টিকটক নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর শ্বশুরবাড়িতে মিললো স্বামীর মরদেহ রংপুরে ৯ শিক্ষক মিলে পাস করাতে পারেননি কলেজের একমাত্র এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বৃহত্তম চুরি ; ৯০ শতাংশই উদ্ধারের দাবি বাইন্যান্সের
এইমাত্রপাওয়াঃ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে ক্ষমা চাইল ব্রিটিশ সরকার

আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চৌধুরী মঈনুদ্দীন

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট ব্রিটিশ নাগরিক চৌধুরী মঈনুদ্দীনের দায়ের করা মানহানির মামলায় রয়েল কোর্ট অব জাস্টিসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সাথে তাঁকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মতি জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের একটি বেঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী উপস্থিত হয়ে প্রকাশ্য ক্ষমা চান এবং চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ২ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা) ক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হন।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এটি ব্রিটিশ সরকারের কোনো বিভাগ কর্তৃক তার নাগরিককে প্রদত্ত সর্বোচ্চ মানহানি ক্ষতিপূরণগুলোর মধ্যে একটি।

২০১৯ সালে ব্রিটিশ হোম অফিসের ওয়েবসাইটে কমিশন ফর কাউন্টারিং এক্সট্রিমিজম-এর একটি প্রতিবেদনে ‘চ্যালেঞ্জিং হেইটফুল এক্সট্রিমিজম’ শিরোনামে চৌধুরী মঈনুদ্দীনকে ‘এক্সট্রিমিজমের’ (চরমপন্থা) সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত করা হয়। এতে প্রমাণ হিসেবে ১৯৭১ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের তৎকালীন বিতর্কিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রায়কে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই চৌধুরী মঈনুদ্দীন ব্রিটিশ হোম সেক্রেটারির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি কোনো প্রকার মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৪ সালের ২০ জুন যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট তার পক্ষে যুগান্তকারী সর্বসম্মত রায় দেয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি লর্ড রিড-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারক প্যানেল ঐ রায়ে মন্তব্য করেন,

‘যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের চেয়েও গুরুতর অভিযোগ নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে কল্পনা করা কঠিন। যখন এই ধরনের অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকে তার নিজের নাগরিকের বিরুদ্ধে আনা হয়, তখন তা বিশেষভাবে গুরুতর।’

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ধারাবাহিকতায়, মঙ্গলবার ব্রিটিশ সরকার আদালতকে জানায় যে, চৌধুরী মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের যে অভিযোগ হোম অফিস প্রকাশ করেছিল, তা মিথ্যা ছিল। এরপর হোম অফিস ‘অফার অব অ্যামেন্ডস’ প্রদান করে তাদের ওয়েবসাইটে ক্ষমা প্রার্থনা প্রকাশ করে।

চৌধুরী মঈনুদ্দীনের আইনজীবী টিউডর আদালতে বলেন, এই মিথ্যা অভিযোগের কারণে তার মক্কেলকে “মানবজাতির সবচেয়ে জঘন্য অপরাধের অভিযোগ তুলে ধরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল”।

শুনানির পর মঈনুদ্দীন বলেন, “এই ফলাফল আমার জন্য আনন্দের, গৌরবের। সত্যের প্রভাব যে চিরস্থায়ী—তা আবারো প্রমাণিত হলো। ন্যায়বিচার পাওয়ার এই দীর্ঘ পথে অনেক সময়ই আমার জন্য হতাশাজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হয়েছে। তবে আমি আনন্দিত যে বৃটিশ আইনব্যবস্থা, আদালত ব্যবস্থা এবং এই দেশের সরকার আমার প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে।”

১৯৭৩ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ও ১৯৮৪ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের নাগরিক চৌধুরী মঈনুদ্দীনের পক্ষে বিখ্যাত ল’ফার্ম কার্টার-রাকের আইনজীবী অ্যাডাম টিউডর ও নাতাশা ডোলির নেতৃত্বে গঠিত একটি দল এই মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। এই রায়ের মাধ্যমে ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে নজির স্থাপন করলেন তিনি।

 

আজকের বাংলা তারিখ

  • ২রা নভেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ২১শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
November ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Oct    
 ১
২৩৪৫৬৭৮
৯১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০  


Our Like Page