April 21, 2026, 12:16 pm
শিরোনামঃ
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হলো বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নীতিহীন বাহিনী : জাতিসংঘের বিশেষ দূত ট্রাম্পকে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারে সতর্ক করলো পাকিস্তান চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর হরমুজ অবরোধ তুলবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প জনগণ হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে : প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁস শনাক্তে থাকবে সাইবার নজরদারি : শিক্ষামন্ত্রী পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ আগামীবার হজের খরচ যেন মধ্যবিত্তের নাগালে থাকে সে ব্যবস্থা করবো : বিমান প্রতিমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জাহাজ নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইরান সরকার মেহেরপুরে গুলি-বোমা হামলায় বিএনপি নেতা আহত কক্সবাজারে স্লুইসগেট ভেঙে শত শত একর জমি প্লাবিত
এইমাত্রপাওয়াঃ

বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক মতবিরোধ চরমে

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক :   ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নিষ্ক্রিয় আওয়ামী লীগ। এমন অবস্থায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির মাঠে সরব হওয়ার পর দল দুটির মধ্যে নানা বিষয়ে মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তৃণমূল থেকে শুরু করে দল দুটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য ও কথাবার্তায়ও এই মতবিরোধ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে গত কয়েকদিনে।

যেটি প্রকাশ্যে আসে গত অগাস্টের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নির্বাচন আয়োজনে সময় দেয়া নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে।

শেখ হাসিনার পতনের পর দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে হঠাৎ কেন এমন বৈরি সম্পর্ক তৈরি হলো, সেটি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।

গত সপ্তাহে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবেন না এমন একটি একটি বক্তব্য দিয়েছেন। সেই বক্তব্য নিয়েও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

যদিও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিএনপির সাথে তাদের বোঝাপড়ায় কোনো সংকট নেই।

আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জামায়াত অন্য রাজনৈতিক দলের মতোই একটা দল। বিএনপির সাথে জামায়াতের বিরোধের প্রশ্ন আসবে কেন?

পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে বিরোধ স্পষ্ট : গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিমিয় সভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গত ১৫ বছরে জামায়াতে ইসলামীর ওপর আওয়ামী লীগ সরকার যে ‘নির্যাতন’ করেছে তার জন্য প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। জামায়াতের আমিরের এই বক্তব্যের পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায় রাজনীতির মাঠে।

যদিও একদিন পরে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, প্রতিশোধ না নেয়ার মানে হচ্ছে আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। কিন্তু সুনির্দিষ্ট অপরাধ যিনি করেছেন তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। শাস্তিও হতে হবে।

এর আগে ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে গত ২৮ অগাস্ট ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে আলাদা এক অনুষ্ঠানে কথা বলেন জামায়াতের আমির। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা সবার সাথে বন্ধুত্ব চাই। বন্ধুত্বপূর্ণ ও সহযোগী দেশ আমাদের খুবই প্রয়োজন। প্রতিবেশী বদলানো যায় না। আপনারা বদলানোর চিন্তা করেন কেন।

জামায়াত আমিরের এসব বক্তব্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় বিএনপিতে।

গত রোববার সাতক্ষীরায় বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করলেও তিনি জামায়াত আমিরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টানেন।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, গত কয়েকদিনে দেখেছি কিছু রাজনৈতিক দল একটি প্রতিবেশী দেশের ফাঁদে পা দিয়েছে। সে কারণে তারা বিভ্রান্ত ছড়ায় এরকম কিছু কথাবার্তা বলছে। এমন অবস্থায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

জামায়াত আমিরের এসব বক্তব্যের জবাব দিতে দেখা গেছে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীকেও।

দু’টি দলের শীর্ষ পর্যায়ে এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের বিষয়টিকে অবশ্য রাজনৈতিক দূরত্ব বলে মনে করছে না জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি পরওয়ার বলেন, কেন বিএনপি এ কথা বলছে সে জবাব বিএনপি দেবে। এ দায়িত্ব জামায়াতে ইসলামীর না। আমাদের দিক থেকে আমরা মনে করি আমাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব নাই।

যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, অনেক নেতা বক্তব্য দিতে পারে, আমাদের অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকার দরকার হয় না, আমরা আমাদের মতো করে পলিটিক্স করছি।

নির্বাচন ইস্যুতে বিপরীতমুখী অবস্থান : গত ৮ অগাস্ট দায়িত্ব নেয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই ভাষণে জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, কিংবা নির্বাচন কতদিন পর হতে পারে এমন কোনো বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা ছিল না।

যে কারণে এই বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে নির্বাচনের রোডম্যাপ না থাকায় অসন্তোষ জানান। তিনি যখন এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তখন ফেনী-নোয়াখালী-কুমিল্লা অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল।

এমন অবস্থায় বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের আমীর বলেন, এখনও শত শত মানুষ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। রক্তের দাগ মোছেনি। বন্যায় দেশ আক্রান্ত। এই সময়ে কেউ নির্বাচন নির্বাচন জিকির তুললে জাতি তা গ্রহণ করবে না।

জামায়াত নেতার এই বক্তব্য ভালভাবে নেয়নি বিএনপি। পরে এর জবাবে দলটির মহাসচিব বলেন, যাদের জনসমর্থন নেই, তারা এ ধরনের বিভিন্ন চিন্তাভাবনা করে, আমি কোনো দলের নাম বলছি না। যাদের ভোটে জয়ের সামর্থ্য নেই, তারাই নির্বাচনের বিরুদ্ধে।

নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিভিন্ন সংশোধন ও সংস্কারে মিনিমাম একটা সময় লাগবে সরকারের। এজন্য আমরা বলেছি একেবারে অল্প সময় দিলেও তারা পেরে উঠবে না, একটা যৌক্তিক সময় দেয়ার কথাই জামায়াত বলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে দল দুটির মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।

রাজনীতি বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ যখন প্রতিপক্ষ ছিল, তখন বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটা জোট ছিল। রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ না থাকায় এখন ভিন্ন সমীকরণে এই মত পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। সূত্র: বিবিসি

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page