January 23, 2026, 1:53 pm
শিরোনামঃ
ঝিনাইদহের মহেশপুরে গরু ব্যবসায়ীর বাড়ীতে ডাকাতি ; নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ; ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করলো ইসি নির্বাচন বানচাল করতে গুপ্ত হামলা ও অরাজকতা চালানো হচ্ছে : মির্জা ফখরুল আগামীতে বেকার মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই :  জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো তারেক রহমানকে ‘বিলেতি মুফতি’ আখ্যা দিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি গোলাম পরওয়ার নারায়ণগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানে তল্লাশি করে  ২০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়িসহ পাচারকারী আটক সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে হরিণের মাংসসহ নৌকা জব্দ আজ ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে আমিরাতে জাতিসংঘের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল চীন
এইমাত্রপাওয়াঃ

মহান আল্লাহর বর্ণিত নিয়ামত প্রসঙ্গে জবাবদিহি সম্পর্কে হাদীসে কুদসীসমূহ (বাংলা অর্থ)

আলোচ্য অধ্যায় বর্ণিত হাদীসগুলোতে মানুষের প্রতি পরম করুনাময় আল্লাহ তা‘য়ালার নিয়ামতের কথা আলোচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ্ স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে হযরত আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানদের শুধু সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তাদের সুখ শান্তির জন্য অসংখ্য নিয়ামতের ব্যবস্থা করেছেন। করুণাময় আল্লাহ্ তা‘য়ালা মানুষকে স্বাস্থ্য, ধনÑসম্পদ ও বিদ্ধা-বুদ্ধি দান করেছেন। সুতরাং মানুষ যদি আল্লাহ্র নিয়ামত সঠিক ব্যবহার না করে কল্যাণজনক কাজ থেকে বিরত থাকে এবং মহান আল্লাহর দানের অপচয় ও অপব্যবহার করে, তবে স্বভাবতই তাকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। বস্তুত আল্লাহ পদত্ত নিয়ামতসমূহের সদ্ব্যবহারই তাঁর নিকট জবাবদিহি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার একমাত্র উপায়।

১। নিশ্চয়ই শেষ বিচারের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম যে প্রশ্ন করা হবে তা (দুনিয়ার) নিয়ামত প্রসঙ্গে, তাকে প্রশ্ন কারা হবে “আমি কি তোমার দেহকে সুস্থতা দান করিনি?” “আমি কি ঠান্ডা পানীয় দ্বারা তোমার পিপাসা দুর করেনি?” ইমাম তিরমিযী আলোচ্য হাদীসখানা হযরত আবু হুরায়রা (রা)Ñএর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

২। শেষ বিচারের দিন বনী আদমকে (আদম সন্তানকে) এমনভাবে হাযির করা হবে যেন একটা ভেড়ার বাচ্চা।  তারপপর তাকে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান করানো হবে। তখন আল্লাহ্ তাকে বলবেন, “আমি তোমাকে জীবিকা দান করেছিলাম। তোমার প্রতি করুণাবর্ষণ করেছিলাম এবং তোমাকে নিয়ামত দান করেছিলাম। তুমি তার বদলে কি কাজ করেছ? ”সে বলবে ,“আমি তা সঞ্চয় করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম; আর আমার যা ছিল তা অধিকাংশ ছেড়ে এসেছি। আপনি আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে যাওয়ার সযোগ দিন, যেন আমি তা নিয়ে আসতে পারি। তখন আল্লাহ্ বলবেন, “আমাকে তা দেখাও যা তুমি অগ্রিম প্রেরণ করেছিলে।” সে পুনরায় বলবে, হে আমার প্রভু ! আমি তা জমা করেছিলাম, তা বৃদ্ধি করেছিলাম, অতঃপর আমার যা ছিল তা অধিকাংশ ছেড়ে এসেছি। আমাকে পুনরায় দুনিয়াতে যাওয়ার সুযোগ দিন, যেন আমি তা নিয়ে আসতে পারি। অতঃপর যথন স্থির হবে যে, বান্দা ভাল কিছু অগ্রিম প্রেরণ করেনি তখন তাকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়া হবে। তিরমিযী আলোচ্য হাতীসখানা হযরত আনাস (রা) Ñএর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৩। হাশরের দিন মহান আল্লাহ্ তার বান্দাকে বলবেন, “হে বনী আদম! (আদমের সন্তান) আমি কি তোমাকে ঘোড়া ও উটের উপর আরোহণ করাইনি?” “আমি কি তোমাকে নারী বিবাহ করাইনি।” “আমি কি তোমাকে এরূপ (পদে আসীন ) করিনি যেন তুমি নেতৃত্ব করতে পার ?” তখন সে বলবে Ñ“হ্যাঁ আমার প্রতিপালক” তখন আল্লাহ্ বলবেন, “এর কৃতজ্ঞতা কোথায় ? বায়হাকী আলোচ্য হাতীসখানা হযরত আবু হুরায়রা (রা)Ñএর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৪। যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম! নিশ্চয়ই রুটি, গোশত, পাকা ও কাঁচা খেজুর এগুলোই সেই নিয়ামত, যে (নিয়ামত) প্রসঙ্গে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। আল্লাহ্ তা‘য়ালা বলেছেন, “নিশ্চয়ই সে দিন তোমাদেরকে নিয়ামতের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে।” এসব নিয়ামত সম্বন্ধে শেষ বিচারে দিন তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে। তা সাহাবীদের নিকট অতিশয় জঘন্যতম বলে মনে হল। তখন তিনি বললেন, “হ্যাঁ যখন তোমরা এরূপ নিয়ামত লাভ কর এবং তা তোমরা হাতে গ্রহণ কর তখন বল, “বিসমিল্লাহ্” (অর্থাৎ আল্লহ্র নামে তা গ্রহণ করলাম)। অতঃপর যখন তোমরা সন্তুষ্ট হও তখন বল, “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী হুয়া আশ্বায়ানা ওয়া আন‘আমা আলাইনা ওয়া আফদালা।” (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্র জন্য, যিনি আমাদের সন্তুষ্ট করেছেন, আমাদের নিয়ামত দিয়েছেন এবং আমাদের প্রতি করুণা বর্ষণ করেছেন)। কারণ, তেমন বলা এগুলোর প্রতিদান হিসাবে যথেষ্ট হবে।” ইবনে হাব্বান আলোচ্য হাদীসখানা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা)Ñ এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৫। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, চারটি বৈশিষ্ট্য দ্বারা “আমি আমার বান্দাদেরকে ধন্য করেছি। পোকাÑমাকড়কে ফসলের বীজের ওপর ক্ষমতাবান করে দিয়েছি। আর যদি তা না করতাম তবে বাদশাগণ তা জমা করে রাখত যেভাবে তারা সোনা রূপা জমা করে থাকে। আর শরীরকে পচনোপযোগী করেছি। যদি তা না করতাম তবে কোন বন্ধু তার বন্ধুকে দাফন করত না। আর দুঃখের ক্ষেত্রে সান্তনাকে প্রভাবশালী করে দিয়েছি। যদি তা না হত, তবে সন্তান জন্মদান বন্ধ হয়ে যেত। আর আমি হায়াতকে নির্ধারিত করে দিয়েছি এবং আশা লম্বা করে দিয়েছি, কারণ যদি এমন না হত তবে নিশ্চয়ই দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যেত এবং কোন জীবিকার অধিকারীই জীবিকায় আনন্দ পেত না ।” খতীব আলোচ্য হাদীসখানা  হযরত বারা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন।

৬। মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ্ বলেছেন, “তিনটি বস্তু নিয়ামতের পর্যায়ভুক্ত, তাদের কৃতজ্ঞতা প্রসঙ্গে আমি প্রশ্ন করব না: আর তা ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে জিজ্ঞাসা করব। (এই তিনটি হল) ঘর, যাতে সে বাস করে, খাবার, যদ্বারা সে তার মেরুদন্ড সোজা রাখে এবং পোশাক, যদ্বারা সে তার লজ্জাস্থান আবৃত করে। ” হান্নাদ আলোচ্য হাদীসখানা হযরত দাহ্হাকের সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

৭। আল্লাহ্ তা’আলা বলেন, “হে আদম সন্তান ! তুমি আমার প্রতি সুবিচার করো না। আমি নিয়ামত দ্বারা তোমার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করি। আর তুমি পাপ কাজ করে আমার নিকট ঘৃণ্য হও। আমার দিক থেকে তোমার দিকে নাযিল করা হয় কল্যাণ। আর তোমার দিক থেকে আমার দিকে উত্থিত হয় মন্দ। আর মহান ফেরেশতা তোমার দিক থেকে প্রতিদিন ও প্রতি রাত্রে একটি মন্দ আমল আমার নিকট আনয়ন করে। হে আদম সন্তান! তুমি যদি অন্যের নিকট থেকে তোমার খারাপ বর্ণনা শ্রবণ করতেÑ তবে তুমি খুব দ্রæত তাকে ঘৃণা করতে আরম্ভ করতে।” দায়লামী আলোচ্য হাদীসখানা হযরত আলী (রা)Ñএর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

৮। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ্ বলেন,“হে আদম সন্তান! আমি তোমার ওপর বড় বড় নিয়ামত বর্ষণ করেছি যার সংখ্যা তুমি নির্ধারণ করতে পারবে না এবং যার কৃতজ্ঞতা তুমি আদায় করতে পারবে না। নিশ্চয়ই তোমার ওপর আমি যে নিয়ামত দিয়েছি তা এই যে, আমি তোমার জন্য দুটি চক্ষু সৃষ্টি করেছি যা দ্বারা তুমি দেখতে পাও এবং তাদের জন্য সৃষ্টি করেছি আবরণ। অতএব, তুমি তোমার চক্ষু দুটি দ্বারা তোমার জন্য যা হালাল করেছি তার প্রতি তাকাও। আর তোমার জন্য যা হারাম করেছি তা যদি দেখেও ফেল, তবে তাদের ওপর পর্দা টেনে দাও। আমি তোমার জন্য সৃষ্টি করেছি একটি জিহŸা এবং তার জন্য একটি কোষ তৈরি করে দিয়েছি। অতএব যা তোমাকে আদেশ করেছি ও যা তোমার জন্য হালাল করেছি তা বল। আর যা তোমার জন্য হারাম করেছি তেমন কিছু তোমার কাছে হাজির হলে তুমি তোমার জিহŸা কোষবদ্ধ কর। আর আমি তোমার জন্য লজ্জাস্থান সৃষ্টি করেছি এবং তোমার জন্য পর্দা সৃষ্টি করেছি। অতএব তোমার জন্য যা হালাল করেছি তাতে গমন কর: আর তোমার জন্য যা হারাম করেছি তা যদি তোমার সামনে এসে যায়, তবে তুমি তোমার শরীরের ওপর পর্দা টেনে দাও । অর্থাৎ তা থেকে বিরত থাক। হে আদম সন্তান তুমি আমার ক্রোধের ভার বহন করতে পারবে না এবং আমার ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করতে অক্ষম হবে।” ইবনে আসাকির আলোচ্য হাদীসখানা মাকহূল থেকে মুরসাল হিসাবে রেওয়ায়েত করেছেন।

৯। শেষ বিচার দিবসে এক বান্দাকে আনা হবে এবং তাকে বলা হবে, “আমি কি তোমাকে কর্ণ , চক্ষু ,ঐশ্বর্য ও সন্তান দান করিনি? আর আমি তোমার জন্য চতুষ্পদ জন্তুকে তোমার ব্যক্তিগত করে দিয়েছিলাম এবং চাষের জমিকেও। আর তোমাকে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব করার জন্য সময় দিয়েছিলাম। তখন কি তুমি চিন্তা করেছিলে যে, তুমি আজ আমার সামনে হাযির হবে? তখন সে বলবে, না। তখন আল্লাহ্ তাকে বলবেন, আজ আমিও তোমাকে ভুলে যাব, যেভাবে তুমি আমাকে ভুলে গিয়েছিলে।” ইমাম তিরমিযী আলোচ্য হাদীসখানা হযরত আবূ হুরায়রা (রা) Ñএর সূত্রে রেওয়ায়েত করেছেন।

আজকের বাংলা তারিখ

January ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Dec    
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page