May 14, 2026, 9:50 pm
শিরোনামঃ
বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চীনকে আহ্বান জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে ও এইচএসসি জুনে অনুষ্ঠিত হবে : শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন : ড. আসিফ নজরুল দেশে প্রকাশিত হলো চূড়ান্ত ভোটার তালিকা গত ২৪ ঘন্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু ; মোট নিহতের সংখ্যা ৪৩৯ জন ফরিদপুরে লিচু পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে : অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সায়ারি তাইওয়ান ইস্যু সামলানো না গেলে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়াতে পারে : চীনের প্রেসিডেন্ট হরমুজ সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এইমাত্রপাওয়াঃ

মাগুরায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশের জেরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা ; সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ

ফারুক আহমেদ, মাগুরা প্রতিনিধি :  মাগুরায় কৃষিখাতে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত পার্টনার-ডিএএম প্রকল্পের ‘অন দ্য জব’ প্রশিক্ষণ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। তবে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর  সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ,সরকারি অর্থ তছরুপের প্রশ্ন তুলতেই পাল্টা পথে মামলা হয়েছে।

কী অভিযোগ উঠেছে, আবাসিক প্রকল্প নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হওয়ার কথা। খাবার, উপকরণ, ভাতা ও লজিস্টিক সহায়তা সরকারি বরাদ্দ থেকেই দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু মাগুরার কয়েকটি চলমান ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, পিকনিক আয়োজনের নামে জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে আদায় করা হয়। ২৫ জনের একটি ব্যাচ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা তোলা হয় বলে তারা দাবি করেন। পরে সেই অর্থে ঝিনাইদহের একটি পর্যটন স্পটে ভ্রমণ করানো হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্প নীতিমালায় এমন অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। ১২ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে সবাইকে ১২ হাজার টাকা অনারিয়াম দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে সাড়ে ৯ হাজার টাকা।

সর্বশেষ ব্যাজের ২৫ প্রশিক্ষনার্থীদের শুধু ১১ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত প্রশিক্ষকের অনুপস্থিতিতে কার্যক্রম পরিচালনা, উপস্থিতি ও বিল সংক্রান্ত অসংগতি এবং ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘ড্রিম মাসরুম সেন্টার’-এর কর্ণধার মো. বাবুল আক্তার, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মাশরুম বাবুল’ নামে পরিচিত।

পাল্টা মামলা এবং তার অবস্থান : এই অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ ও সাংবাদিক ফারুক আহমেদ সহ দু’জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারায় মানহানির নালিশি মামলা দায়ের করেন মো. বাবুল আক্তার। আদালতের আদেশনামা অনুযায়ী, মামলাটি সিআর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও এখনো আমলে নেওয়া হয়নি; বিষয়টি আদেশের আবেদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্তের জন্য কোনো সংস্থার কাছে সই করা আদেশ হয়নি। আইনজীবীরা বলছেন, এই পর্যায়ে মামলাটি অভিযোগ যাচাইয়ের প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয় ও মামলা : স্থানীয় সূত্র ও নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত বাবুল আক্তারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই জমি সংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত করা হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের টাকা আদায়সহ সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত চলমান রয়েছে।

মাগুরা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মিরাজ আহমেদ ও মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাংবাদিক ফারুক আহমেদ  দীর্ঘদিন ধরে মাগুরাভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করছেন। সহকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিক নেতারা তাদেরকে নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক এবং বস্তুনিষ্ঠ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের ভাষ্য, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ করাই সাংবাদিকতার দায়িত্ব। সে কারণে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকে তারা ‘ভীতিকর চাপ’ হিসেবে দেখছেন।

মাগুরা প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্য বলেন, অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে দেখাই উচিত। অভিযোগকারী বা সংবাদকর্মীকে মামলা দিয়ে চুপ করানোর সংস্কৃতি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।

প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অর্থ আদায়ের কোনো বিধান নেই। বিষয়টি প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সব কার্যক্রম নিয়ম মেনেই হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা দরকার। একদিকে প্রকল্পের অর্থব্যবহারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া। দুদকের স্বাধীন তদন্ত এবং আদালতের যথাযথ সিদ্ধান্তই এ ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য সমাধান দিতে পারে।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সরকারি অর্থায়নের প্রকল্পে জবাবদিহি কতটা কার্যকর এবং অনিয়মের অভিযোগ তুললে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কতটা সুরক্ষিত।

আজকের বাংলা তারিখ

May ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Apr    
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১


Our Like Page