ফারুক আহমেদ, বিশেষ প্রতিনিধি : মাগুরার শালিখা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে ওয়াইফাই ইন্টারনেট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। এডিএন ও আরসিএন ওয়াইফাই সাপ্লাইয়ের চার যৌথ মালিকের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। একই ঘটনায় অপর পক্ষ চুরির অভিযোগ তুলে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন শালিখা থানায় খাটোর শুইতলা এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (২৮) মোল্লা ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক মো. ইমদাদুল মোল্লার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। সোহেলের দাবি, তিনি তার তিন অংশীদার—মো. মুজিবর রহমান, মো. সজল আলী ও মো. রাসেলের সঙ্গে যৌথভাবে এডিএন ও আরসিএন ওয়াইফাই সাপ্লাইয়ের ব্যবসা পরিচালনা করেন। একই এলাকায় ইমদাদুল মোল্লাও একই ধরনের ব্যবসা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পূর্বে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হলেও ইমদাদুল মোল্লা তা অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে তাদের ব্যবসা বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি সরিয়ে রেখে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করে তাদের মানহানির চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
তারা আরও বলেন, এ ধরনের অভিযোগে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
গত ২৪ জুন দুপুর ৩টার দিকে খাটোর চৌরাস্তার কমিউনিটি ক্লিনিক মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর একটি অংশ উপস্থিত থেকে অভিযোগের প্রতিবাদ জানান।

অন্যদিকে, মোল্লা ক্যাবল নেটওয়ার্কের মালিক মো. ইমদাদুল মোল্লা দাবি করেন, তিনি গত এপ্রিল ও জুন মাসে শালিখা থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন, যার একটি স্থানীয়ভাবে সালিশে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে সর্বশেষ ঘটনায় গভীর রাতে মোটরসাইকেলে চারজন ব্যক্তিকে তার প্রতিষ্ঠানের আশপাশে দেখতে পান। পরে ঘরের তালা ভেঙে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “আমি চোরদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।