April 8, 2026, 1:47 am
শিরোনামঃ
খাল খননে যশোরে সফরে প্রধানমন্ত্রী আল্টিমেটাম রাজপথে দেওয়া যায় সংসদে নয় : স্পিকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত আছে : জ্বালানি মন্ত্রী ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির চাপ সামাল দিতে কাজ করছে সরকার : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা হত্যা চেষ্টা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ রাজশাহীতে নিখোঁজের একদিন পর পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার ফেনীতে সরকারি প্রাথমিকে মিডডে মিলে শিক্ষার্থীরা পেল পঁচা বনরুটি চীনে নতুন জ্বালানি ব্যবস্থার কথা ভাবছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ; সহকর্মী ও প্রাক্তন পরিদর্শকের অপচেষ্টা

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবিরকে বদলি করানো বা বেকায়দায় ফেলানোর লক্ষ্যে একাধিক ষড়যন্ত্রে জড়িত হয়েছেন জেলার সাবেক সহকারী পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান এবং তার স্কুলজীবনের শিক্ষক বর্তমানে জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস। অভিযোগ রয়েছে এই ষড়যন্ত্রে তারা অফিস সহকারী নজরুলকেও ব্যবহার করছেন।

প্রায় চার মাস আগে মাগুরায় সহকারী শিক্ষকদের জন্য আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রশিক্ষণকে কেন্দ্র করে বলা হয় খাবার, নাস্তা, ফাইল ফোল্ডারসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিম্নমানের ছিল উল্লেখ করে জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় ব্যবহার করে জেলা শিক্ষা অফিসার ও ডিস্ট্রিক্ট ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর ইলতুৎমিস জাহিদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ ছড়ানোর জন্য কিছু শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল এবং কিছু শিক্ষককে এসব বিষয়ে বক্তব্য দিতে চাপও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

একজন শিক্ষক জানিয়েছেন তাদের বলা হয়েছিল, আপনারা যদি লিখিতভাবে বা অডিও বার্তার মাধ্যমে জানান যে প্রশিক্ষণের খাবার-নাস্তা নিম্নমানের ছিল, তাহলে জেলা শিক্ষা অফিসারকে বদলি করা যাবে এবং সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস চার্জে আসবেন।

তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানিয়েছেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাদের ভাষায় আমরা কেন একজন অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেব? একজন শিক্ষক লিখিতভাবে এবং অডিও ক্লিপের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রের প্রমাণও দিয়েছেন।

৩৩ জন মাস্টার ট্রেনারের মধ্যে নাজমুল ইসলাম (সহকারী শিক্ষক, আলাইপুর মাদ্রাসা) ও ফারুক আহমেদ (সহকারী প্রধান শিক্ষক, এজি একাডেমি, মাগুরা)সহ অনেকেই জানিয়েছেন, ট্রেনিং সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোনো শিক্ষকের কোনো অভিযোগ ছিল না। তারা উক্ত ট্রেনিং ভালো, মানসম্মত হয়েছে বলে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখিত চিঠিও দিয়েছেন।

অফিসের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরাও জানান, তাদের নাম ব্যবহার করে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত প্রতিবাদ দিয়েছি।

অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষায়, একই অফিসে থেকে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্রে জড়ানো সত্যিই নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। মানুষ এতটা নিচে নামতে পারে তা ভাবতেও কষ্ট হয়। একটি মহল স্যারকে বেকায়দা ফেলার জন্য স্যারের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এই কাজটি করেছে আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

জানা যায়, তিন বছর পূর্বে একইভাবে সহকারী পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান গণমাধ্যমে জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে বদলির চেষ্টা করেছিলেন।
সহকারী পরিদর্শক মাজেদ উর রহমান নিজে জেলা শিক্ষা অফিসারের রুমের ভিডিও ফুটেজ সত্য মিথ্যা যাচাই ছাড়াই মিডিয়ার কাছে দিয়ে অপপ্রচার চালান। পরবর্তীতে দুদক ও শিক্ষা ডিপার্টমেন্ট তদন্ত করে তার (জেলা শিক্ষা অফিসার) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোন সত্যতা পাইনি।

পরে শিক্ষকদের সাথে ব্লাক মেইলিং এবং অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির অডিও ক্লিপ ফাস হওয়ার শাস্তি স্বরূপ সহকারী পরিদর্শক মাজেদকে পঞ্চগড়ে বদলী করা হয়। অফিস থেকে রিলিজের সময় জেলা শিক্ষা অফিসার মাজেদ কে জিজ্ঞাসা করেন এই ভিডিও আপনি কি মিডিয়ায় দিয়েছিলেন? তখন মাজেদুর রহমান এই কাজের সাথে জড়িত ছিলেন বলে তিনি স্বীকার করেন। উক্ত সময়ে অফিসের ডিটিসি ইলতুৎমিস জাহিদ উপস্থিত ছিলেন। এভাবেই মাজেদ বিভিন্ন সময় জেলা শিক্ষা অফিসার কে বিপদে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবির বলেন, মাজেদুর রহমান বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সদ্য পঞ্চগড়ে বদলি হয়েছেন। এখন তিনি মরিয়া হয়ে আমাকে বেকায়দায় ফেলতে চাচ্ছেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস ও অফিস সহকারী নজরুল। তার দাবি, মাজেদুর রহমানের টার্গেট আমাকে সরাতে পারলে তার স্যার প্রদ্যুৎ কুমার দায়িত্বে আসবেন। তাই তারা মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।

৪ মাস আগের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া রাধানগর, বেলনগর, শ্রীহট্ট, খাটোর রামানন্দ, পারনান্দুয়ালী, গোয়ালবাথান, এজি একাডেমি, দুধমল্লিক বালিকা, বিলসোনাই, বসুরধুলজুড়ি, খলিশাখালী, গঙ্গারামপুর বালিকা ও বেরইল পলিতা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা জানান আমাদের শিক্ষা অফিসার অত্যন্ত ভালো মানুষ, সবসময় শিক্ষা উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করেন। আর খাবার, নাস্তা, ফাইল ফোল্ডারসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো মানের ছিল বলে অংশগ্রহণ করা আমাদের শিক্ষকরা জানিয়েছেন। এতে তাদের কোন অভিযোগ নাই। সুতরাং নিঃসন্দেহে জেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

গত রবিবার ২৬ শে অক্টোবর সরজমিনে অনুসন্ধান করে জানা যায় জেলা শিক্ষা অফিসার আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলেই এ অভিযোগকে অসত্য মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণীত বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ব্যবহার করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, তারা লিখিতভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদপত্রে তারা উল্লেখ করেছেন
অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল জেলা শিক্ষা অফিসারকে বিপদে ফেলা ও তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করার জন্য এই কাজটি করেছে।

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিসের সাবেক পরিদর্শক মাজেদুর রহমান সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি দুই মাস আগে মাগুরা থেকে বদলি হয়ে পঞ্চগড়ে এসেছি এ বিষয়ে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নাই।

জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার প্রদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, একই অফিসে থেকে একজন সিনিয়রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপপ্রচারের সাথে আমি জড়িত নই।

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  


Our Like Page