স্টাফ রিপোর্টার : যশোরের স্ক্যান হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নাকের হাড় বাঁকা (ডিএনএস) অপারেশন শেষে বেডে দেওয়া হয় রোগী আবুল হোসেনকে। বেডে দেওয়ার পর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দুটি ইনজেকশন পুশ করেন দায়িত্বে থাকা নার্স। এর পর পরই তিনি ছটফট করতে করতে মারা যান।
এ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে যশোরের স্ক্যান হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। নিহত আবুল হোসেন ঝিনাইদহের মহেশপুরের ধান্যহাড়ীয়া গ্রামের আবু ছিদ্দিকের ছেলে। মারা যাওয়ার পর তড়িঘটি করে অ্যাম্বুলেন্সের তুলে আবুল হোসেনের লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এসময় চিকিৎসকের করা প্রেসক্রিপশনসহ যাবতীয় কাগজপত্রাদি স্বজনদের কাছ থেকে নিয়ে নেয় ডায়াগনষ্টিক সেন্টার কর্র্তৃপক্ষ।
আবুল হোসেনের স্ত্রী ফুলমতি বলেন, অপারেশন শেষে বেডে দেওয়ার পর গলা দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। সেই সাথে বমি বমি ভাব করছিলেন। এসময় নার্স এসে দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করার পর পরই অস্বাভাবিক ভাবে ছটফট করতে শুরু করেন আমার স্বামী। পরে অক্সিজেন দেওয়া হলে ১৫ মিটিনের মধ্যে আমার স্বামী মারা যান। অল্প কিছু সময়ের মধ্য ওরা আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছে।
চাচাতো ভাই নজরুল ইসলাম বলেন, স্ক্যান হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে দায়িত্বে থাকা গোপালপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের ছেলে বিপুর সাথে ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় অপারেশন করা হয় আবুলের। সন্ধ্যা ৬.৩০ মিটিনের অপারেশন রুমে নিয়ে যাওয়ার পর রাত ৮টার দিকে আবুল হোসেনকে বেডে দেওয়া হলে গলা দিয়ে থুথুর সাথে রক্ত বের হচ্ছিলো। এরপর আমি এশার নামাজ টুকু পড়ে হসপিটালে ফিরে এসে দেখি আবুলকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় ১৫ থেকে ২০ মিটিনের মধ্যে সে মারা যাই। পরে হসপিটাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দিলে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। বাড়িতে আসার সময় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ও অন্যান্য কাগজপত্র হসপিটালের লোকেরা আমাদের কাছ থেকে নিয়ে রেখে দিয়েছে।
স্ক্যান হসপিটাল এ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক বিপু বলেন, আমার বাড়ি মহেশপুরে। আবুল হোসেন আমার পরিচিত। যশোর সদরের একজন ডাক্তার তার অপারেশন করিয়েছেন। আবুল হোসেন হার্টফেল করে মারা গেছে। তবে মৃত্যুটা অস্বাভাবিক। আমার তরফ থেকে আবুল হোসেনের পরিবারকে কিছু সাহায্য করবো।