April 3, 2025, 7:14 pm
শিরোনামঃ
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড.  ইউনূসের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালো ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী  থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে মোদির টুইট ; নেই ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর ও ফলাফলমুখী ‘বিমসটেক’-এর ওপর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার গুরুত্বারোপ আন্দোলনের ডাক দিলেও এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই ঈদযাত্রায় দেশব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় অর্ধশত প্রাণহানি বাংলাদেশি ভেবে কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলি ; ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু ঈদের ছুটিতে কূটনৈতিক টিম নিয়ে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের সুন্দরবন পরিদর্শন  কুষ্টিয়ায় সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের চেক বিতরণ টেকনাফে যৌথ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ নগদ অর্থ জব্দ মিয়ানমারে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাঁড়িয়েছে, ; যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা
এইমাত্রপাওয়াঃ
আমাদের সাইটে নতুন ভার্ষনের কাজ চলছে সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

যশোরে ফুল থেকে অর্গানিক প্রসাধনী তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন নারীরা

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক ফুলের রাজ্য হিসেবে গত কয়েক দশকে দেশ-বিদেশে পরিচিতি পেয়েছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকা। বছর জুড়ে বাণিজ্যিকভাবে এখানে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস, টিউলিপ, জারবেরা, গাঁদাসহ অন্তত ২০ রকমের ফুল। ভ্যালেনটাইনস ডে, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস, নববর্ষসহ বিশেষ দিবসগুলোর পাশাপাশি গদখালীর ফুল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব জেলাতেই যায়।

গদখালী এলাকার পানিসারা গ্রামের প্রশিক্ষিত তিনজন নারী ফেলনা বা পরিত্যক্ত ফুলের পাপড়ি থেকে সুগন্ধি সাবান, সুগন্ধি নারিকেল তেল, রূপচর্চার ফেসপ্যাক, ব্যাথানাশক তেল, আগরবাতি, কাপড় ডাইং, চিরুনি, গলার লকেট, কানের দুল, চুঁড়ি, আঁংটি, চুলের কাঁটাসহ ৩০ রকমের পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আত্ম কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক নারী।

যশোর ফুল উৎপাদক ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, যশোর জেলায় দেড়হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হয়। যার মধ্যে শুধু গদখালীতেই চাষ হয় একহাজার দুইশ’ হেক্টর জমিতে। সারা বছরে গদখালী বাজারে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ কোটি টাকার ফুল কেনা-বেচা হয়। কাঁচা ফুল প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় এই ফুলের একটি অংশ ব্যবহার অনুপযোগী ও নষ্ট হয়ে যায়। অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চাহিদার দিক দিয়ে ফুলের যখন ভরা মৌসুম, তখন চাষীরা একসাথে অনেক বেশি ফুল উৎপাদন করেন। এসময় দামও কমে যায়। তখন চাষীরা অনেক তাদের কষ্টে উৎপাদিত অনেক ফুল গরু-ছাগলের খাদ্য হিসাবে দেন অথবা ফেলে দেন। করোনার মতো মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়েও প্রচুর ফুল নষ্ট হয়। সবমিলিয়ে গড়ে বছরে এক থেকে দেড়শ’ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হতো।

তিনি জানান, এসব ক্ষতি কমাতে ফুল থেকে বিকল্প পণ্য তৈরির লক্ষ্যে সমিতির পক্ষ থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। পরে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গদখালী এলাকার পানিসারা গ্রামের তিনজন নারীকে প্রশিক্ষণ নিতে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ড. ওয়াইএসআর হর্টিকালচার বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। ওই তিন নারী হলেন, পানিসারা গ্রামের রাবেয়া খাতুন, একই গ্রামের গৃহবধু নাসরিন নাহার আশা এবং হাড়িয়া গ্রামের সাজেদা বেগম। ভারত থেকে প্রশিক্ষণ শেষে ফিরে এসে তিন নারী ফিরে স্থানীয় আরও ২৭ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এখন ওই এলাকায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা ৬০ জন।

ভারতের ড. ওয়াইএসআর হর্টিকালচার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা রাবেয়া খাতুন জানান, আপাতত গোলাপ, গাঁদা ও রজনীগন্ধা ফুল থেকে তারা ২৫ থেকে ৩০ রকমের পণ্য তৈরি করছেন। গোলাপের শুকনো পাপড়ি গুঁড়া থেকে তৈরি করছেন সুগন্ধি সাবান, মেয়েদের রূপচর্চার ফেসপ্যাকসহ বিভিন্ন প্রশাধনী ও আগরবাতি। গোলাপ, গাঁদা’র পাপড়ি জ্বাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক রং, যা দিয়ে কাপড়ে নকশা করা হচ্ছে। রাজনীগন্ধা ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি হচ্ছে সুগন্ধি তেল ও গোলাপজল। তাদের তৈরি এসব পণ্য অর্গানিক। এ ছাড়া গোলাপের শুকনো পাপড়ি দিয়ে দৃষ্টিনন্দন ওয়ালম্যাট, চুড়ি, কানের দুল, চাবির রিং, ফটোফ্রেম ও কলম তৈরি করা হচ্ছে।

ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা সাজেদা বেগম জানান, ফুল থেকে উৎপাদিত এসব পণ্য তারা শহরের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি করেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ গদখালীর ফুল দেখতে আসেন। তারাও এসব পণ্য কেনেন। তবে সনাতন পদ্ধতিতে কাজ করায় চাহিদার তুলনায় তারা খুব বেশি পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না। কারখানা তৈরি করে এসব কাজ করতে পারলে আরও বড় পরিসরে এসব অর্গানিক পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব।
ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসা নাসরিন নাহার আশা জানান, সংসারের সব কাজ সেরে তারা এসব পণ্য উৎপাদন করে নিজেরা যেমন ব্যবহার করছেন, বিভিন্নভাবে সেগুলো বিক্রি করে সংসারের বাড়তি আয়ের ক্ষেত্রেও ভূমিকাও রাখছেন।

যশোর ফুল উৎপাদন ও বিপণন সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, সারা পৃথিবীতে এখন অর্গানিক পণ্যেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কারখানা স্থাপনের জন্য এসব নারী উদ্যোক্তাদের যদি সরকার সহযোগিতা করে, তাহলে এসব পণ্য করে বিদেশে রফতানী করে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব।

 

আজকের বাংলা তারিখ

April ২০২৫
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Mar    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  


Our Like Page