অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালীতে শক্ত অবস্থান নিয়ে ইরান এখন পুরো বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধ বন্ধের উপায় খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
দুই সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী বিমান যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলো এখন অস্থির পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
গত ২৮ এপ্রিল ভোরে মার্কিন-ইসরাইল যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের সূচনা হয়। ওই হামলায় তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। এতে দেশটির নেতৃত্বে বড় ধরনের ধাক্কা লাগলেও সরকার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব হারালেও ইরানের বিকেন্দ্রীভূত ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা’ কৌশলের কারণে সামরিক কমান্ড কাঠামো অক্ষত রয়েছে। দ্রুত নতুন সর্বোচ্চ নেতা নিয়োগ দিয়ে দেশটি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তেহরান তিন ধাপে কৌশল বাস্তবায়ন করছে— প্রথমত রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখা, দ্বিতীয়ত পাল্টা হামলার সক্ষমতা বজায় রাখা এবং তৃতীয়ত যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করা, যাতে নিজেদের শর্তে সংঘাতের সমাপ্তি টানা যায়।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাব দ্রুত বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। ইরানের হামলায় দুবাইয়ের সমুদ্রপথে তেলবাহী ট্যাঙ্কার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও জ্বালানি রেশনিং চালু করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। সামনে কংগ্রেস নির্বাচন থাকায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
তবে ইরানও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক গবেষকদের মতে, দেশটি এমন এক অবস্থায় পৌঁছাতে পারে যেখানে সরকার টিকে থাকলেও অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।
এ অবস্থায় যুদ্ধের সহজ কোনো সমাধান সামনে না থাকায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন সংঘাত থেকে বের হওয়ার কৌশল খুঁজছে। বিশ্লেষকদের মতে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এই যুদ্ধের ‘বিজয়’ শব্দটির নতুন ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে।