August 2, 2026, 7:19 pm
শিরোনামঃ
তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী সরকারের সমালোচনা অপরাধ নয় ; রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া অপরাধ : তথ্যমন্ত্রী দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশের আসিয়ানের সদস্য হওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে : জোট মহাসচিব ঘরে বসে ফসলের রোগ শনাক্ত করবে মডেশ চাকমার উদ্ভাবিত ‘ক্রপস ডক্টর’  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদকাসক্ত দুই ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা রাঙামাটিতে বিজিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত যশোরে অস্ত্র ও পোশাকসহ তিন ভুয়া বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার গোপন তৎপরতায় সিআইএ-মোসাদ ; মোজতবা খামেনিকে খুঁজছে ইসরায়েল  ইরানে আপাতত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
এইমাত্রপাওয়াঃ

রংপুরের চার নদী অস্তিত্ব সংকটে ; সেখানে এখন ফসলের ক্ষেত 

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক রংপুরের যেসব নদনদীর বুকে ভেসে চলতো পালতোলা নৌকা। খেয়াঘাট ঘিরে ছিল জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য। মানুষের পদচারণায় মুখর থাকত নদীবন্দরগুলো। সেই ঐতিহ্যবাহী চারটি নদী এখন চাষাবাদের জমিতে পরিণত হয়েছে।  জেলার মানস, ঘাঘট, বুড়াইল ও শালমারা এখন পরিণত হয়েছে কৃষি জমিতে।

দখল ও দূষণের কারণে এ চার নদনদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তন, খরা মৌসুমে তীব্র খরা আবার শীত মৌসুমে প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে স্বাভাবিক গতি হারিয়েছে নদনদীগুলো। তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাত ও খরা মৌসুমে অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।

এই সুযোগে নদনদীগুলোর শুকিয়ে থাকা জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি এবং ফসলের খেত। কোন কোন জায়গায় নদনদীর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। একসময় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, সদর উপজেলা, কাউনিয়া ও পীরগাছায় প্রায় ৮০ কিলোমিটার বিস্তৃতি ছিল মানস নদের। এ নদের এখন অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।

নদীর বুকে পানির বদলে এখন হাজার হাজার একর আবাদি জমি। নৌকার পরিবর্তে সেখানে চলছে কলের লাঙল। চার দশক আগেও মানস নদে নৌকা চলেছে পাল তুলে। হাজার হাজার জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছে। মানস নদে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ৫০টির মতো খেয়াঘাট ছিল, যা এখন কেবল স্মৃতি।

কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান চাষ করার জন্য মানস নদ জুড়ে ধানের বীজতলা তৈরি করেছেন।

টপামধুপুর লালমসজিদ এলাকার কৃষক মো. আমিন জানান, মানস নদে এবার খুব সহজেই বীজতলা তৈরি করা গেছে।

একই এলাকার কৃষক শফিকুল জানান, নদে পানি কম এবং কাদা থাকায় তেমন কোনো খরচ ছাড়াই বীজতলা তৈরি করা গেছে। তাদের মতো অনেকেই নদের বুকে চাষাবাদ করছেন।

কাউনিয়ার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও লেখক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, একসময় মানসের বুকে বারোমাস নৌকা চলত। এখন মানস নদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল। একই অবস্থা ঘাঘট নদের। শহরের অদূরে ঘাঘটকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল নদীবন্দর। ঘাঘট নদের ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটি ব্রিজ হয়েছে। উন্নয়নের নামে অনেক স্থান দখল হয়েছে। ঘাঘটের বুকে অনেক স্থানে গড়ে উঠেছে ইমারত। একই অবস্থা বুড়াইল, শালমারা নদীর। এগুলোর বুকে জেগে ওঠা চর দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি ও ফসলের খেত।

চার নদীর দূরবস্থা সম্পর্কে আলাপকালে রিভারাইন পিপলের পরিচালক, নদীবিষয়ক গবেষক ও রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বাসস কে বলেন, নদনদীগুলোতে শত শত অবৈধ দখলদার রয়েছে। দখলদারদের উচ্ছেদ ও নদনদীর প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, নদী রক্ষায় কোন সরকারই তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন না। ফলে অবৈধ দখলদাররা নদী দখল করে তৈরি করেন বহুতল ভবন। কৃষকরা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে চাষাবাদ করেন। ফলে প্রাণবৈচিত্র্য হারিয়ে নদীগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। কালের গর্ভে নদীগুলো হারিয়ে যাওয়ায় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। আমাদের পক্ষ থেকে নদীগুলো রক্ষায় বারবার নদী কমিশনকে চিঠি দিলেও তেমন কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রংপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, হারিয়ে যাওয়া নদীগুলোর তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে নদীগুলো খনন করে প্রাণ ফিরে আনা যায় কিনা।

রংপুরের জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল বাসসকে বলেন,  রংপুর জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহমান বড় বড় নদীগুলো খননের ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে কথা বলা হচ্ছে।  চেষ্টা করছি ঘাঘটসহ হারিয়ে যাওয়া নদীগুলোকে খনন করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার।

আজকের বাংলা তারিখ

August ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Jul    
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  


Our Like Page