October 24, 2026, 9:41 pm
এইমাত্রপাওয়াঃ

রাজশাহীতে ড. তাহের হত্যাকান্ড ; বৃহস্পতিবার রাতে হতে পারে দুই আসামির ফাঁসি ; প্রস্তুত ৮ জল্লাদ

অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাহের হত্যা মামলায় দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর হতে পারে বৃহস্পতিবার (২৭ জুলাই) রাত ১০টা ১ মিনিটে। দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আটজন জল্লাদকে। কয়েক দফায় তারা ফাঁসি কার্যকর করার মহড়া দিয়েছে।

বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী কারাগারে এক সঙ্গে দুইজনেরই ফাঁসি কার্যকর করা হবে বলেও কারা সূত্র বলছে।

কারা সূত্র মতে, গত মঙ্গলবার দুই আসামির পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাত করেন। এর মাধ্যমে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

জানা গেছে, অধ্যাপক ড. তাহের হত্যা মামলার দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, ডিআইজি প্রিজন ও কারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেন। তবে এ নিয়ে কোনও বক্তব্য দেননি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ। অত্যান্ত গোপনিয়তা রক্ষা করে ফাঁসির প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছে তারা।

একই দিনে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর করতে চায় কারা কর্তৃপক্ষ। আইন ও বিধি অনুযায়ী সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিতে চান সংশ্লিষ্টরা।

একজন আসামির ফাঁসি কার্যকর করতে চার জল্লাদের প্রয়োজন হয়। এদের মধ্যে একজন প্রধান জল্লাদের দায়িত্ব পালন করেন। বাকি তিনজন তাকে সহযোগিতা করেন। সেমতে, মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের জন্য আটজন জল্লাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা মহড়াও করেছেন।

এই আট জল্লাদের তালিকায় আছেন ইসলাম, আলম ও ওয়াহাব। বাকিদের নাম জানা যায়নি। জল্লাদরা যাবজ্জীবন কারাণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

ড. মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীরের ফাঁসির প্রক্রিয়া নিয়ে অত্যন্ত গোপনীয়তা অবলম্বন করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। রাজশাহী বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স কামাল হোসেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল, জেলার নিজাম উদ্দিন এড়িয়ে চলেন সাংবাদিকদের।

ফাঁসির প্রক্রিয়া বা দিনক্ষণ নিয়ে কথা বলেননি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ ও সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মো. ফারুকও। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল একটি সভায় আছেন জানিয়ে মুঠোফোনে বলেন, মৃত্যুদণ্ড ও কার্যকরের বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।

রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মো. ফারুক বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজ হন অধ্যাপক তাহের আহমেদ। পরদিন ২ ফেব্রুয়ারি বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক এস তাহের আহমেদের গলিত মরদেহ। ৩ ফেব্রুয়ারি তার ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ রাজশাহীর মতিহার থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ অধ্যাপক তাহেরের সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে।

২০০৭ সালের ১৭ মার্চ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক চারজনকে ফাঁসির আদেশ ও দুজনকে খালাস দেন। দণ্ডিতরা হলেন- বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, অধ্যাপক ড. তাহেরের বাসার কেয়ারটেকার মো. জাহাঙ্গীর আলম, তার ভাই নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালাম। তবে বিচারে খালাস পান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি মাহবুবুল আলম সালেহী ও জাহাঙ্গীরের বাবা আজিমুদ্দিন মুন্সি।

পরবর্তীতে দণ্ডপ্রাপ্তরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল বিভাগ মিয়া মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের রায় বহাল রাখলেও আসামি নাজমুল আলম ও নাজমুল আলমের স্ত্রীর ভাই আব্দুস সালামের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন।

 

আজকের বাংলা তারিখ

  • ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩
  • ১৩ই জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪৮
October ২০২৬
Mon Tue Wed Thu Fri Sat Sun
« Sep    
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  


Our Like Page