অনলাইন সীমান্তবাণী ডেস্ক : রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সঙ্গে একদল তরুণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় একটি বাড়িতে ভাঙচুরের পাশাপাশি চারটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে উভয় পক্ষের আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে নগরীর কেষ্টগঞ্জ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আরএমপির চন্দ্রিমা থানার এএসআই আব্দুর রাজ্জাক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈচুয়াতৈল এলাকার অনিক নামের এক তরুণ কেষ্টগঞ্জ বাজার এলাকায় উচ্চ শব্দ করে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাকে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে অনিক তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে এসে স্থানীয়দের ওপর হামলা চালায় এবং একটি বাড়িতে ভাঙচুর করে।
এ সময় এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয়রা অনিক ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনিক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
সংঘর্ষে অনিকের দুই সহযোগীসহ স্থানীয় পাঁচজন আহত হন। আহত স্থানীয় ব্যক্তিরা হলেন, কেষ্টগঞ্জ এলাকার মৃত আ. রাজ্জাকের ছেলে কামাল উদ্দিন (৬০) ও মুস্তাকিম হোসেন (৪০), রানা মিয়ার ছেলে রাজা আলম (২২), জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জাহিদ হোসেন (২৩) এবং সিয়াম হোসেন (২০)।
অন্যদিকে, আহত দুই হামলাকারী হলেন, শাহমখদুম থানার নওদাপাড়া এলাকার মাহফুজের ছেলে রেদওয়ান (২২) এবং চন্দ্রিমা থানার হাজির মোড় এলাকার নাজমুল হোসেনের ছেলে নাহিদ হোসেন (২৬)।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুড়ে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে। আহতরা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে বাইকচালক অনিকের আহত দুই বন্ধু পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, পলাতক অনিককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।