এম এ কবীর, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মোবারকগঞ্জ চিনিকলের (মোবাক) সাবেক মৌসুমি শ্রমিক অমিত শিকদার দীর্ঘদিন ধরে চাকরিচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য ১৫ জন শ্রমিক কর্মরত থাকলেও অদৃশ্য প্রভাবের কারণে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী অমিত শিকদার জানান, ২০১৫ সালে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ৫৮ নম্বর স্মারকে মোট ১৬ জনকে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে শুরু করে ২০২১-২২ মৌসুম পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২১-২২ মৌসুমে চিনিকলের শূন্য পদে ১২ মাস মেয়াদি স্থায়ী কর্মচারী হিসেবে নিয়োগের জন্য আবেদন করেন। তবে স্থায়ী চাকরি পাওয়ার পরিবর্তে ২০২২-২৩ মৌসুমে তাকে কর্মস্থলে যোগদান করতে দেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে অন্যদের স্থায়ী চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হলেও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক সংসদ সদস্য আনারের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেয়।
অমিত শিকদার বলেন, “আমরা ১৬ জন একসঙ্গে কাজে যোগদান করেছিলাম। বর্তমানে অন্য ১৫ জন কর্মরত থাকলেও আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। কয়েক বছর ধরে কর্মহীন অবস্থায় আছি। বৃদ্ধ মা ও তিন সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে।”
চাকরি হারানোর ফলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে তার ওপর নির্ভরশীল সদস্যরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি পুনরায় চাকরিতে ফিরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ.বি.এম. জোবায়ের জানান, ঘটনাটি অনেক আগের। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ঈদের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।